সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কোচ বিহার : জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার দিনে বুকভরা টেনশন নিয়ে সকাল থেকেই স্কুলমুখো হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু পরীক্ষার হলে ঢোকার আগেই এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হতে হল, যা মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে ভরিয়ে দেয় গোটা এলাকা। পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কোচবিহারের তুফানগঞ্জের একটি মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র। সোমবার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই এই ঘটনাকে ঘিরে চরম শোরগোল ছড়ায় তুফানগঞ্জে। স্থানীয় সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের নাককাটি গাছ হাই স্কুল (Nakakati Gachh High School) এদিন মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত ছিল। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ শুরু হয়। তখনই স্কুল চত্বরে ঘটে যায় এই বিপজ্জনক দুর্ঘটনা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরি করার সময় ক্যান্টিনে থাকা একটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। সেই সময় পরীক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। আগুন লাগার বিষয়টি গোচরে পড়তেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কর্তব্যরত একজন সিভিক ভলান্টিয়ার দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুন যাতে শ্রেণিকক্ষ বা পরীক্ষার্থীদের দিকে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই আশঙ্কায় জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি স্কুলের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিপত্তি সেখানেই। মাঠে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে ওঠে গোটা স্কুল চত্বর। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়। অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে যায়।
ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে প্রশাসন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী (Fire Services)। তারা আগুন পুরোপুরি নেভায় এবং এলাকা নিরাপদ ঘোষণা করে। সৌভাগ্যবশত, এই দুর্ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে সিলিন্ডারের ছোট ছোট ধাতব টুকরো স্কুল মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে। তুফানগঞ্জের এসডিপিও শ্রী কন্নেধারা মনোজ কুমার (Kannadhara Manoj Kumar) ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘স্কুল চত্বরে একটি ক্যান্টিন রয়েছে। সেই ক্যান্টিনের একটি গ্যাস সিলিন্ডারে আচমকাই আগুন লেগে যায়। সেখানে কর্তব্যরত দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সিলিন্ডারটি স্কুলের মাঠে এনে ফেলেন। তার পরেই মাঠের মধ্যেই সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়।’
এই স্কুলে শুধুমাত্র নাককাটি গাছ হাই স্কুলের পরীক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের আরও তিনটি স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছিল। বলাভূত হাই স্কুল (Balabhut High School), বিদ্যাসাগর হাই স্কুল (Vidyasagar High School) এবং কৃষ্ণপুর হাই স্কুল (Krishnapur High School), এই চারটি স্কুল মিলিয়ে মোট ২১০ জন পরীক্ষার্থী এদিন ওই কেন্দ্রে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। এমন ঘটনার জেরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে পড়ে যান অভিভাবকেরা। একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাঁদের কথায়, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা কেন রাখা হবে? অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।’ অনেকেই দাবি করেন, বিস্ফোরণ যদি একটু আগেই বা ভিড়ের মধ্যে ঘটত, তা হলে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে এবং পরীক্ষায় কোনও প্রভাব পড়েনি। স্কুলের প্রধানশিক্ষক দুলাল বসাক (Dulal Basak) বলেন, ‘ছোট গ্যাস সিলিন্ডারে পরীক্ষার্থীদের জন্য গরম জল এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরি করা হচ্ছিল। আচমকা সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। তবে এই ঘটনার জন্য পরীক্ষার সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা শুরু হয়েছে।’
এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার, যাঁর তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ার রাজিবুল হক (Rajibul Haque) বলেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই মাস্টারমশাই আমাকে ডাকেন। আমি গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। ভেজা কাপড় জড়িয়েও আগুন কমেনি। তখন একটি বাঁশের সাহায্যে সিলিন্ডারটি মাঠের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে রাখি। প্রায় পাঁচ মিনিট পরেই বিকট শব্দে সেটি ফেটে যায়।’ এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও, মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে এমন অভিজ্ঞতা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে দীর্ঘদিনের আতঙ্কের ছাপ ফেলবে বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে, পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
ছবি :সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Budget 2026 tourism India | রেলের গতি থেকে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ, পর্যটন মানচিত্র বদলাতে ২০২৬-২৭ বাজেটে কেন্দ্রের বড় রূপরেখা




