Census 2027 India | ১ এপ্রিল থেকেই বাড়ি বাড়ি জনগণনার কাজ, ৩৩টি প্রশ্নে ধরা পড়বে আপনার পরিবারের সম্পূর্ণ ছবি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে যখন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়েই সামনে এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচীর ঘোষণা। আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে জনগণনা বা সেনসাস (Census 2027) -এর প্রথম ধাপ। রেজিস্ট্রার জেনারেল অ্যান্ড সেনসাস কমিশনার অব ইন্ডিয়া (Registrar General and Census Commissioner of India) -এর তরফে ২২ জানুয়ারি জারি করা গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী, এই ধাপে প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

জনগণনা ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। জনসংখ্যা, বসবাসের ধরন, জীবনযাত্রার মান, পরিকাঠামো ও ডিজিটাল সুবিধার মতো নানা বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সেই কারণেই এবারের জনগণনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি একই ধরনের নির্দেশিকা প্রকাশিত হলেও করোনা অতিমারির কারণে সেই জনগণনা স্থগিত হয়ে যায়। তখন প্রশ্নের সংখ্যা ছিল ৩১টি। এবার সেই তালিকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টিতে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবারের জনগণনার প্রথম ধাপে মূলত বাড়ি ও গৃহস্থালির তথ্য সংগ্রহ করা হবে। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বা আর্থিক প্রশ্ন নয়, মানুষ কী ধরনের বাড়িতে থাকেন, কী কী সুবিধা পান, দৈনন্দিন জীবনে কোন কোন পরিকাঠামো ব্যবহার করেন, সেই সব তথ্যই জানতে চাইবেন প্রতিনিধিরা।

গেজেট নোটিফিকেশনে জানানো হয়েছে, প্রতিটি বাড়ির ক্ষেত্রে প্রথমেই নথিভুক্ত করা হবে বিল্ডিং নম্বর। এটি সংশ্লিষ্ট পুরসভা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নম্বর হবে। তার পরে জনগণনার জন্য নির্দিষ্ট বাড়ির নম্বর উল্লেখ করা হবে। বাড়ির দেওয়াল কী দিয়ে তৈরি : ইট, কংক্রিট, কাঠ বা অন্য কোনও উপাদান তা জানতে চাওয়া হবে। একই সঙ্গে জানতে চাওয়া হবে মেঝে ও ছাদের উপাদান সম্পর্কেও। এই তথ্যগুলি থেকে একটি এলাকার আবাসন পরিস্থিতি ও আর্থসামাজিক অবস্থার ধারণা পাওয়া যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও প্রতিনিধিরা জানতে চাইবেন, ওই বাড়িটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, শুধু বসবাসের জন্য, নাকি দোকান, অফিস বা অন্য কোনও কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বাড়িটি কাঁচা না পাকা, বাড়ির বর্তমান অবস্থা কেমন, সেখানে মোট কত জন বাস করেন? এই সমস্ত প্রশ্ন থাকছে তালিকায়। পরিবারের প্রধানের নাম ও লিঙ্গও নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, সেই পরিবারটি তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কি না, তাও জানতে চাওয়া হবে। ভাড়া বাড়ি নাকি নিজস্ব মালিকানাধীন বাড়ি, এই প্রশ্নের পাশাপাশি বাড়িতে রান্নাঘর ও শৌচাগার বাদ দিয়ে মোট কতটি ঘর রয়েছে, সেটিও জানতে চাইবেন প্রতিনিধিরা। একটি বাড়িতে কত জন বিবাহিত দম্পতি থাকেন, তাও নথিভুক্ত করা হবে। পানীয় জলের প্রধান উৎস কী? নলকূপ, কলের জল, কুয়ো বা অন্য কোনও ব্যবস্থা? এবং সেই জল কতটা সহজলভ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পরিকাঠামোগত সুবিধার ক্ষেত্রেও একাধিক প্রশ্ন থাকছে জনগণনায়। বাড়িতে বিদ্যুতের প্রধান উৎস কী, শৌচাগার রয়েছে কি না এবং থাকলে কী ধরনের শৌচাগার, এই তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বর্জ্য জল ও আবর্জনা কোথায় নিষ্কাশন করা হয়, স্নান করার জন্য আলাদা জায়গা আছে কি না, রান্নাঘর রয়েছে কি না, এই সমস্ত বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়াও রান্নার জন্য কোন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়: গ্যাস, কাঠ, কয়লা বা অন্য কিছু, তা জানতে চাওয়া হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গেও বিস্তারিত প্রশ্ন রয়েছে। বাড়িতে রেডিয়ো বা ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, স্মার্টফোন আছে কি না, সবই জানতে চাইবেন জনগণনা কর্মীরা। পাশাপাশি, সাইকেল, স্কুটার, বাইক বা মোপেড এবং গাড়ি, জিপ বা ভ্যান রয়েছে কি না, তাও প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে।

একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হল খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত প্রশ্ন। বাড়িতে প্রধানত কোন শস্য খাওয়া হয় : ধান না গম তা জানতে চাওয়া হবে। পাশাপাশি, যোগাযোগের সুবিধার জন্য একটি মোবাইল নম্বরও নথিভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের জনগণনা সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। কাগজে-কলমে নয়, বরং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন প্রশিক্ষিত প্রতিনিধিরা। এতে তথ্য সংরক্ষণ আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করা হয়েছে, জনগণনা কর্মীদের সঠিক তথ্য দিতে এবং সহযোগিতা করতে। উল্লেখ্য, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত তথ্য ও নথি প্রকাশিত হবে ২০২৭ সালে। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পরিকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত নানা নীতির রূপরেখা তৈরি হবে। তাই Census 2027 শুধু একটি পরিসংখ্যানগত কাজ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Social Media Obscene Content, Government Guidelines | সমাজমাধ্যমে অশালীন ছবি-ভিডিয়োর রাশ টানতে কড়া কেন্দ্র, নতুন নির্দেশিকায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে আইনি হুঁশিয়ারি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন