বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় রেল (Indian Railways) দেশের সাধারণ যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি আর্থিক বছরে আধুনিক জেনারেল ও নন-এসি কোচের রেকর্ড উৎপাদনের মাধ্যমে রেল পরিষেবাকে আরও জনমুখী করার পথে এগিয়েছে দেশের রেল মন্ত্রক। একই সঙ্গে স্টেশন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, টিকিট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং যাত্রী সুরক্ষায় প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, সামগ্রিকভাবে ‘প্যাসেঞ্জার ফার্স্ট’ নীতিকে বাস্তব রূপ দিতে তৎপর ভারতীয় রেল। রেল সূত্রে উল্লেখ যে, সাধারণ ও নন-এসি যাত্রীদের চাহিদা মাথায় রেখে কোচ উৎপাদনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ডিজাইন, উন্নত আসন ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত এই কোচগুলি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই প্রতিদিনের যাত্রীদের ভিড় সামলাতেও কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে। রেলের দাবি, এটি শুধুমাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, যাত্রার মান উন্নয়নের দিকেও বড় পদক্ষেপ।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে কুয়াশা সতর্কতা সংক্রান্ত নিরাপত্তা যন্ত্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ৯০টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫,৯৩৯-এ। উত্তর ভারতসহ কুয়াশাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ট্রেন চলাচলকে আরও সুরক্ষিত করতে এই যন্ত্রগুলি বড় রক্ষাকবচের কাজ করছে বলে জানাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস (Amrit Bharat Express) ট্রেন পরিষেবা। সম্পূর্ণ নন-এসি এই ট্রেনগুলিতে স্লিপার ও জেনারেল ক্লাস কোচ রয়েছে, যা কম ভাড়ায় উন্নত মানের যাত্রা নিশ্চিত করছে। ২০২৫ সালেই ১৩টি নতুন অমৃত ভারত ট্রেন চালু হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে সারা দেশে মোট ৩০টি অমৃত ভারত ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে। রেল মন্ত্রকের বক্তব্য, এই ট্রেনগুলি মূলত মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের কথা ভেবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে চালু থাকা অমৃত ভারত এক্সপ্রেসগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রুট হল, ছাপরা-আনন্দ বিহার (Chhapra-Anand Vihar), মুজফ্ফরপুর-চারলাপল্লি (Muzaffarpur-Charlapalli), উদনা-ব্রহ্মপুর (Udhna-Brahmapur), মাদার জংশন (আজমের)-দরভাঙা (Madar Jn-Darbhanga), ছেহার্তা (অমৃতসর)-সহর্ষা (Chheharta-Saharsa), এরোড জংশন-যোগবানি (Erode Jn-Jogbani), গয়া-দিল্লি (Gaya-Delhi), দিল্লি-সীতামারহি (Delhi-Sitamarhi), রাজেন্দ্র নগর টার্মিনাল-নয়াদিল্লি (Rajendra Nagar T-New Delhi), বাপুধাম মোতিহারি-আনন্দ বিহার (Bapudham Motihari-Anand Vihar), দরভাঙা-গোমতী নগর (Darbhanga-Gomti Nagar), মালদা টাউন-গোমতী নগর (Malda Town-Gomti Nagar), লোকমান্য তিলক টার্মিনাল-সহর্ষা (Lokmanya Tilak T-Saharsa), মালদা টাউন-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু (Malda Town-SMVT Bengaluru) এবং দরভাঙা জংশন-আনন্দ বিহার (Darbhanga Jn-Anand Vihar)। এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট যে, উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ, সব অঞ্চলকে যুক্ত করেই অমৃত ভারত ট্রেন পরিষেবা বিস্তৃত হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এর ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় যাতায়াত আরও সহজ হবে।
অন্য দিকে, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে চালু হয়েছে নমো ভারত র্যাপিড রেল (Namo Bharat Rapid Rail)। বর্তমানে ভুজ-আহমেদাবাদ (Bhuj-Ahmedabad) এবং জয়নার-পাটনা (Jaynagar-Patna) রুটে এই উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির পরিষেবা চালু রয়েছে। কম সময়ে বেশি ট্রেন চলাচলের সুবিধায় প্রতিদিনের যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। আবার, স্টেশন উন্নয়নেও জোর দিয়েছে ভারতীয় রেল। একাধিক স্টেশনে যাত্রী সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, পরিষ্কার পানীয় জল, উন্নত শৌচালয়, ডিজিটাল ডিসপ্লে, আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেআইনি টিকিট কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে প্রকৃত যাত্রীরা সঠিক সুবিধা পান।

রেল মন্ত্রকের একজন কর্তার কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু ট্রেন চালানো নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রাকে সম্মান দেওয়া। নন-এসি কোচ, অমৃত ভারত ট্রেন ও নমো ভারত পরিষেবার মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং যাত্রীবান্ধব রেল ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।’ প্রসঙ্গত, সাশ্রয়ী ভাড়া, নিরাপত্তা, আরাম ও সংযোগ, এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই ভারতীয় রেল ভবিষ্যতের পথে এগোচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে নেওয়া এই উদ্যোগগুলি দেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Bhutan Railway, Bhutan First Train | ভারত-ভুটান রেল সংযোগে নতুন অধ্যায়, বাংলার উপর দিয়ে চলবে প্রথম ট্রেন




