Mohammad Azharuddin Minister | ইডেনে সেঞ্চুরি থেকে ক্যাবিনেট পর্যন্ত: মন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন

SHARE:

আজহারউদ্দিনের মতো ব্যক্তিত্ব রাজনীতিতে এলে তা কংগ্রেসের ভাবমূর্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাঁর জনপ্রিয়তা, সততা এবং ক্রীড়া দুনিয়ার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে তিনি রাজনীতিতেও এক ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারেন। ক্রিকেট মাঠে যেমন তিনি দলকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবার রাজনীতির ময়দানেও সেই নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হবে তাঁকে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হায়দরাবাদ : তেলেঙ্গানার রাজনীতিতে এবার নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন (Mohammad Azharuddin)। একসময় তিনি ইডেন গার্ডেনসের গ্যালারি কাঁপিয়েছিলেন তাঁর ব্যাটে, তিনিই এবার রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। মাস দু’য়েক আগে তেলেঙ্গানার বিধান পরিষদের সদস্য (MLC) হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল, এবার সেটাই সত্যি হতে চলেছে বলে খবর। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ইতিমধ্যেই তাঁকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। সূত্রের মতে, আগামী সপ্তাহেই তাঁর মন্ত্রীত্বের শপথগ্রহণ হতে পারে।

রাজনৈতিক সমালোচকরা মনে করছেন, এটি কংগ্রেসের একপ্রকার ‘স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারস্ট্রোক’। কারণ, বর্তমানে তেলেঙ্গানার মন্ত্রিসভায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনও প্রতিনিধি নেই। আজহার একদিকে দেশের অন্যতম বিশিষ্ট মুসলিম মুখ এবং অন্যদিকে গ্রেটার হায়দরাবাদের (Greater Hyderabad) প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনি সেই শূন্যস্থান পূরণ করবেন। ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারছে কংগ্রেস, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে টানার পাশাপাশি শহরাঞ্চলে নিজেদের সমর্থন জোরদার করছে দলটি। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, আসন্ন জুবিলি হিলস (Jubilee Hills) কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই কংগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শহরাঞ্চলে মুসলিম ভোটের সমর্থন নিশ্চিত করতে আজহারকে ক্যাবিনেটে আনা হতে পারে। এ নিয়ে কংগ্রেসের এক সিনিয়র নেতা মন্তব্য করেছেন, “আজহারউদ্দিন শুধু একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার নন, তিনি সারা দেশের মধ্যে শ্রদ্ধেয় ও জনপ্রিয় মুখ। তাঁর যোগদান আমাদের সরকারের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তি, দু’টিকেই বাড়াবে।”

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই আজহার ও অধ্যাপক এম কোদানদারামকে (M Kodandaram) তেলেঙ্গানা বিধান পরিষদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রথমে কোদানদারামের মনোনয়ন বাতিল হলেও পরে নতুন করে এই দু’জনের নাম চূড়ান্ত হয়। এর মধ্যেই আজহারের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেন। ফলে তাঁর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন জোরালো হচ্ছিল। অন্যদিকে, বিজেপি (BJP) ইতিমধ্যেই আজহারকে মন্ত্রী করার সম্ভাবনাকে “তোষণের রাজনীতি” বলে আক্রমণ করেছে। বিজেপির এক মুখপাত্র বলেছেন, “কংগ্রেস সবসময় ভোটের জন্য ধর্মের রাজনীতি করে। আজহারউদ্দিনের মনোনয়ন তারই উদাহরণ।” তবে পাল্টা কংগ্রেসের বক্তব্য, “আজহার শুধুমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নন, তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অংশ। রাজনীতিতেও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং সততা তাঁকে আলাদা মর্যাদা দেয়।”

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, আজহারের মন্ত্রীত্ব কংগ্রেসের জন্য এক বড় বার্তা, দলটি রাজ্যে সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে। মুসলিম ও শহুরে ভোটব্যাঙ্ককে একত্র করে নতুন জনসংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, আজহারের মতো জনপ্রিয় মুখ রাজনীতিতে থাকলে যুবসমাজের মধ্যেও দলটির প্রভাব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।আজহারউদ্দিনের ক্রিকেটজীবনের কথা বললে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায় চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ইডেন গার্ডেনসে (Eden Gardens) অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি, এরপর পরপর তিনটি টেস্টে শতরান, একটি অনন্য নজির তৈরি করেছিলেন তিনি। অফ-স্টাম্পের বাইরের বল লেগসাইডে টেনে আনার দক্ষতা, কব্জির জাদুতে বলকে ফাইন লেগের পেছনে পাঠানো, কিংবা স্লিপে শিকার করা দুর্দান্ত ক্যাচ, সবই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। তাঁর নাম আজও ভারতের অন্যতম সেরা মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উজ্জ্বল। কিন্তু আজহার শুধু ক্রিকেটারই নন। তিনি একজন সমাজকর্মী, সাংসদ, এবং এখন মন্ত্রী পদে আসীন হতে চলা নেতা। এর আগে কংগ্রেসের টিকিটে তিনি মরাদাবাদ (Moradabad) লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদে তাঁর কাজের ধরন, নীরব অথচ কার্যকর ভূমিকা সবই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর কেড়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায়ই তেলেঙ্গানার রাজনীতিতে তাঁকে এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চলেছে দেশ।

সমালোচকদের মতে, আজহারউদ্দিনের মতো ব্যক্তিত্ব রাজনীতিতে এলে তা কংগ্রেসের ভাবমূর্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাঁর জনপ্রিয়তা, সততা এবং ক্রীড়া দুনিয়ার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে তিনি রাজনীতিতেও এক ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারেন। ক্রিকেট মাঠে যেমন তিনি দলকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবার রাজনীতির ময়দানেও সেই নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হবে তাঁকে। আজহার নিজে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, “তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করেন এবং জনগণের সেবায় আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।” যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোয়, তাহলে খুব শিগগিরই তেলেঙ্গানার মন্ত্রিসভায় দেখা যাবে ভারতীয় ক্রিকেটের এক মহারথীকে, মহম্মদ আজহারউদ্দিনকে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Amit Shah Bengal 2026 | ২০২৬-এ বাংলার মুখ কে? স্পষ্ট বার্তা দিলেন অমিত শাহ, আত্মবিশ্বাসী বিজেপি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন