Flesh-Eating Parasite | ফিরে এল মাংসখেকো আতঙ্ক! আমেরিকায় হদিস মিলল ভয়ঙ্কর প্যারাসাইট সংক্রমণের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নিউ ইয়র্ক: শরীরে নিঃশব্দে ঢুকে পড়ে, আর ভেতর থেকে খেতে শুরু করে মাংস। ভুক্তভোগী কিছু বুঝে ওঠার আগেই শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধে এই ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী প্যারাসাইট। চিকিৎসা না পেলে এমনকী মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কয়েক দশক ধরে আমেরিকায় বিরল হয়ে থাকা মাংসখেকো প্যারাসাইট আবারও মাথাচাঁড়া দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসক থেকে শুরু করে গবেষকরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড (Maryland) রাজ্যের এক মহিলার শরীরে সম্প্রতি মাংসখেকো পরজীবী সংক্রমণের সন্ধান মিলেছে বলে সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তিনি সম্প্রতি মধ্য আমেরিকা ভ্রমণ করেছিলেন এবং সম্ভবত সেখানেই নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম ফ্লাই (New World Screwworm Fly) বা বৈজ্ঞানিক নাম Cochliomyia hominivorax-এর সংস্পর্শে এসেছিলেন। আমেরিকার স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মহিলার শরীরে এই পরজীবী সংক্রমণ ঘটেছিল। তবে চিকিৎসকদের তৎপরতায় তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (U.S. Department of Health and Human Services) জানিয়েছে, এই ধরনের সংক্রমণ মানুষের শরীরে খুবই বিরল। কিন্তু একেবারেই অসম্ভব নয়। একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, এই সংক্রমণের পুনরুত্থান আমেরিকার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। কারণ, আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পরজীবীটি উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে শুধু মানুষেরই নয়, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিক্ষেত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

-প্রতীকী চিত্র

মূলত উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের শরীরেই এই পরজীবী সংক্রমণ হয়। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ক্রুওয়ার্ম মাছি খোলা ক্ষতের উপর ডিম পাড়ে। সেই ডিম থেকে বের হওয়া লার্ভা পশুর মাংস খেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তারা ত্বকের গভীরে ঢুকে যায় এবং হাড়-মাংস কেটে খেয়ে বেঁচে থাকে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে একটি পূর্ণবয়স্ক গরুও মারা যেতে পারে। মার্কিন কৃষি দফতরের একজন কর্তার কথায়, ‘এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে আমেরিকার পশুপালন শিল্প ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।’ বিশেষত গরু, শূকর, ঘোড়া প্রভৃতি প্রাণীতে এই সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। তবে কুকুর ও মানুষের শরীরেও এই পরজীবী প্রবেশ করতে পারে।

উল্লেখ্য, শেষবার আমেরিকায় এই সংক্রমণের খোঁজ মিলেছিল ১৯৮২ সালে। তার পর থেকে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল মাংসখেকো প্যারাসাইট। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্য আমেরিকার দেশগুলিতে এর পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে বিশেষ করে কোস্টা রিকা (Costa Rica) ও নিকারাগুয়াতে (Nicaragua) একাধিক সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। সেই প্রভাব এবার যুক্তরাষ্ট্রেও ধরা পড়ায় বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় বোঝা যায় না। ত্বকে অস্বাভাবিক ক্ষত বা দীর্ঘস্থায়ী ঘা দেখা দিলেই দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ দেরি হলে সংক্রমণ ভয়ানক আকার নিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘যদিও এই সংক্রমণ খুবই বিরল, তবুও এর উপস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের জন্য গুরুতর সংকেত।’ ফলে, আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে এখন বাড়তি সতর্কতা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর পশুপালন কেন্দ্র ও ফার্মহাউসগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে কোনো অস্বাভাবিক ক্ষত বা ত্বকের সমস্যা হলে তা অবহেলা না করা হয়।

প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনও এই সংক্রমণ ছড়ানোর একটি কারণ হতে পারে। উষ্ণ জলবায়ুতে এই ধরনের পরজীবী দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকতে হবে। অতএব, কয়েক দশক পর আমেরিকায় মাংসখেকো প্যারাসাইটের পুনঃপ্রবেশ একটি নতুন সতর্কবার্তা। চিকিৎসা বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক, এই অদৃশ্য আতঙ্ক মানবজীবন ও প্রাণিসম্পদের জন্য এক ভয়ঙ্কর বিপদ হয়ে উঠছে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Pharmacy Exam | সময় মতো পৌঁছেও পরীক্ষায় বসতে পারলেন না শতাধিক পরীক্ষার্থী, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক পরীক্ষার্থীরা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment