পরিধি চক্রবর্তী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বই: একটা বয়সের পর ‘স্টাইল আইকন’ পরিচয় ধরে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। বিশেষত, বলিউডে যেখানে বয়স নিয়ে প্রশ্ন করতেই ভালবাসে সকলে, সেখানে ৫১ বছর বয়সেও নিজের নামের পাশে ‘ফ্যাশন গডেস’ (Fashion Goddess) ট্যাগ জুড়ে দিতে পারেন কেবল একজনই।

মালাইকা অরোরা (Malaika Arora)। তিনি আর নায়িকা হিসেবে নিয়মিত পর্দায় আসেন না। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি এমনই দ্যুতিময় যে এক মুহূর্তে থমকে যায় ক্যামেরার লেন্স। আর পাঁচজন তারকার মতো তাঁকে খুঁজে পেতে পাপারাজ্জিদের খুব একটা বেগ পেতে হয় না। কারণ, তিনি নিজেই এখন এক চলন্ত ফ্যাশন স্টেটমেন্ট!তবে এই স্টাইলের আড়ালেই কি কোনও না বলা কথা লুকিয়ে আছে?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মালাইকা নিজেই সেই পর্দা সরালেন অকপটে। জানালেন, এই সাজপোশাক, এই স্টাইল, এই ফ্যাশন, সবই আসলে একটা ‘আবডাল’, যার মধ্যে দিয়ে নিজেকে অনেক সময় ঢেকে রাখতে হয়। তাঁর কথায়, “ফ্যাশন শুধুই বাহ্যিক সাজ নয়। এটা একটা ভাষা, যেটা দিয়ে আমরা আমাদের অপ্রকাশিত মনের কথা বলার চেষ্টা করি। অনেক সময় আমরা আমাদের সত্যি আবেগ বা দুর্বলতাগুলো লুকিয়ে রাখি ফ্যাশনের আড়ালে।” এই স্বীকারোক্তি নতুন আলো ফেলে মালাইকার ফ্যাশনচর্চার উপর। তাঁর কথায়, “ফ্যাশন আমার কাছে সব সময় নিজেকে প্রকাশ করার একটা মাধ্যম ছিল। এটা শুধুমাত্র ‘ট্রেন্ড’ ফলো করার বিষয় না। আমি নিজে ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন নিয়ে খুব কৌতূহলী ছিলাম। নিজের পোশাক নিজে কেটে বানিয়ে নিতে চেষ্টা করতাম। নিজস্ব স্টাইল খোঁজার সেই চেষ্টা আজও থামেনি।” এই আত্মবিশ্বাসই মালাইকার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর বয়স, গায়ের রঙ, শরীরের গঠন কোনও কিছুই আর ‘মাপকাঠি’ হয়ে দাঁড়ায় না তাঁর আত্মবিশ্বাসের সামনে। তিনি বলেন, “আপনি যত দামি ব্র্যান্ডই পরুন না কেন, যদি নিজেকে নিয়ে আত্মবিশ্বাস না থাকে, তবে সবটাই বৃথা। আমার সৌন্দর্য আমার সাহসে, আমার স্পষ্টতায়, আমার সহজাত অভিব্যক্তিতে।”

বিচ্ছেদের পর ‘খান’ পরিবার থেকে ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে নিজের পরিচয়কে সামনে এনেছেন মালাইকা। আরবাজ খানের (Arbaaz Khan) সঙ্গে দীর্ঘ বিবাহিত জীবন শেষে নিজস্ব জীবনযাপনকে বেছে নেওয়ার পরেও তিনি সামাজিকভাবে বা মিডিয়ায় কখনও কোণঠাসা হননি। নিজের মতো করে তৈরি করেছেন নিজস্ব পথ। ছেলে আরহান (Arhaan Khan)-এর প্রতি দায়িত্ব, নিজের ফিটনেস রুটিন, প্রেমিক অর্জুন কাপুর (Arjun Kapoor)-এর সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিটি বিষয়েই তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ও পরিপক্কতা প্রশংসার যোগ্য।

বর্তমানে মালাইকার জনপ্রিয়তা কেবল গ্ল্যামারেই সীমাবদ্ধ নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে বিচারকের আসনে বসে বার বার প্রমাণ করেছেন, তাঁর উপস্থিতি শুধু চেহারায় নয়, ব্যক্তিত্বেও সমান দ্যুতিময়। আর সেই অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকেই তিনি বললেন, “আমার জীবনে ব্যর্থতা এসেছে, সমালোচনাও এসেছে। কিন্তু সেগুলোকে আমি গ্রহণ করেছি। ওগুলোর জন্যই আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি। মানুষ ভাবে আমি শুধু স্টাইল করি। কিন্তু আমি জানি, এই স্টাইল আমার সংগ্রামের ফল।” আজকের দিনে যখন ‘অ্যাজিং’ (Ageing) নিয়ে মেয়েদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয় সমাজ, সেখানে মালাইকা যেন এক জীবন্ত প্রতিবাদ। ৫১ বছর বয়সেও তাঁর ছবি পোস্ট হওয়া মাত্র ভাইরাল হয়। তাঁকে ঘিরে আলোচনার ঝড় ওঠে, শুধু তাঁর পোশাকের জন্য নয়, তাঁর মনোভাবের জন্যও।মালাইকা এখন কেবল এক জন স্টাইল আইকন নন, তিনি একজন অনুপ্রেরণাও। যাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় নতুন করে শেখায়, নিজেকে ভালবাসা, নিজেকে বিশ্বাস করা আর নিজের মতো বাঁচার সাহস রাখাটাই আসল ‘ফ্যাশন’। তাঁর বার্তা, “আপনি নিজেকে নিয়ে যদি স্বচ্ছন্দ না হন, তবে কোনও পোশাকই আপনাকে স্টাইলিশ বানাতে পারবে না।” এই বক্তব্যই মালাইকা অরোরাকে অনন্য করে তোলে। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, ফ্যাশন মানে কেবল র্যাম্প নয়, ব্র্যান্ড নয়, বরং ফ্যাশন হল আত্মবিশ্বাসের পোশাক। আর সেই পোশাক আজও একই রকম ঝলমলে ৫১-র তরুণী মালাইকার গায়ে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Vyjayanthimala : অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার প্রেমজীবন ছিল সিনেমার মতই রঙিন




