সাশ্রয় নিউজ ✪ নতুন দিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সোমবার ভারতীয় রাজনীতিতে ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা। উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় (Vice President Jagdeep Dhankhar) আচমকা পদত্যাগ করলেন। সোমবার অধিবেশন চলাকালীন তাঁর এই সিদ্ধান্তে হতচকিত সংসদীয় রাজনীতি। মঙ্গলবার থেকে রাজ্যসভা পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের (Harivansh Narayan Singh) হাতে। হরিবংশ নারায়ণ জনতা দল (ইউনাইটেড) (JDU) -এর সাংসদ। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের (Manmohan Singh) সময় একবার সংসদে জটিলতা তৈরি হয়েছিল যখন তাঁর বাইপাস সার্জারি হয়। তখন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee), পি চিদম্বরম (P Chidambaram)-এর মতো তৎকালীন শীর্ষ নেতা মিলে বিশেষ কমিটি গড়ে প্রধানমন্ত্রী দফতরের দায়িত্ব সামলেছিলেন। কিন্তু সংসদীয় অধিবেশন চলাকালীন উপরাষ্ট্রপতির ইস্তফা ভারতীয় ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন। ফলে নতুন করে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২০২২ সালের ১১ আগস্ট উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)। তখন বিজেপি (BJP)-র একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, যা তাঁদের পছন্দমতো প্রার্থী বাছাইয়ে কোনও সমস্যা তৈরি করেনি। কিন্তু বর্তমানে সংসদে সরকার টিকিয়ে রাখতে বিজেপিকে নির্ভর করতে হচ্ছে জোটসঙ্গীদের উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা জোট রাজনীতিতে মোদী (Narendra Modi) সরকারকে নতুন চাপে ফেলেছে। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি জোটসঙ্গীদের মত না নিয়ে বিজেপি উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে পারবে? বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপির প্রধান দুই জোটসঙ্গী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)-এর জনতা দল (ইউনাইটেড) ও চন্দ্রবাবু নাইডু (Chandrababu Naidu)-এর তেলুগু দেশম পার্টি (TDP)। রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদ রয়েছে জেডিইউ-এর হাতে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এবার কি উপরাষ্ট্রপতি পদে তেলুগু দেশম পার্টির পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থনের দাবি তুলবেন নাইডু (Chandrababu Naidu)?
অন্যদিকে, সামনে বিহার (Bihar) নির্বাচন। সেক্ষেত্রে নীতীশ কুমার চাইতেই পারেন, উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হোক বিহার থেকেই। যদি জেডিইউ এমন দাবি তোলে, তখন বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে ও কীভাবে দুই প্রধান জোটসঙ্গীর ভারসাম্য রক্ষা করবে, সেটাই এখন বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন। কারণ জোট রাজনীতির বাস্তবতা বিজেপিকে এবার পুরোপুরি নতুন অঙ্ক কষতে বাধ্য করবে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বিজয় কুমার সিং (Vijay Kumar Singh)-এর কথায়, ধনখড়ের পদত্যাগ বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা। বিশেষত বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশের জোটসঙ্গীদের এখন বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নাহলে সংসদে সমর্থন সঙ্কট তৈরি হতে পারে।’ বিশেষ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলের শীর্ষনেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির এক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, ‘জোটসঙ্গীদের সমর্থন নিয়ে আমাদের চলতে হবে। তাই কোনও প্রার্থী বাছাইয়ের আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’ কিন্তু এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই, সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই এমন বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তন বিজেপি কীভাবে সামলাবে ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট রাজনীতির সমীকরণে কী কী পরিবর্তন আসতে চলেছে!
ছবি: সংগৃহীত




