সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বাঁকুড়া: আবারও দুর্যোগের ছায়া ঘনাচ্ছে বাঁকুড়া (Bankura) জেলায়। টানা বর্ষণে জলের তলায় চলে গিয়েছে একাধিক রাস্তা ও সেতু। প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়েরও। সোমবার বিকেল থেকে নতুন করে বৃষ্টিপাত শুরু হতেই দ্বারকেশ্বর (Dwarakeshwar), গন্ধেশ্বরী (Gandeswari), শিলাবতী (Shilabati), কংসাবতী (Kangsabati), ভৈঁরোবাঁকি (Bhairwbaki) ও শালী (Shali) নদীতে হু-হু করে জলস্তর বাড়তে শুরু করে। তার জেরেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জেলার একাধিক অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন। মঙ্গলবার সকালে বাঁকুড়ার দ্বারকেশ্বর নদের সুরপানগর (Surpanagar) ঘাট থেকে উদ্ধার হয়েছে এক ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Subrata Bandopadhyay), বয়স ৫৫। তিনি গত শুক্রবার পাটপুর (Patpur) সংলগ্ন দ্বারকেশ্বর ঘাটে স্নান করতে গিয়ে নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে উল্লেখ। চারদিন পরে মঙ্গলবার, যেখানে তিনি ডুবে গিয়েছিলেন, তার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে সুরপানগর ঘাট থেকে দেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের তরফে দেহ শনাক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের।
জেলার আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দু’দিন বৃষ্টির বিরতির পর ফের নিম্নচাপের জেরে সোমবার থেকে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা নেই, কিন্তু রাস্তাঘাট ও সেতুতে জল জমায় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গিয়েছে খাতড়া-বাঁকুড়া (Khatra-Bankura) সড়কে। শিলাবতী নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় ইটাপোড়া (Itapora) সেতু পুরোপুরি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। হাড়মাসড়া (Harmasra) গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া ওই সেতুটি বর্তমানে একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে তালড্যাংরা (Taldangra) ব্লকের একাংশের সঙ্গে মহকুমা সদর খাতড়ার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর (Bishnupur) ব্লকের ধানগোড়া (Dhangora) এলাকা ও তার সংলগ্ন গ্রামের অবস্থাও অত্যন্ত সঙ্কটজনক। মঙ্গলবার সকালে ধানগোড়া থেকে জনতা (Janata) গ্রাম এবং বাগানেপাড়া (Baganpara) যাওয়ার রাস্তায় হাঁটুসমান জল জমে যায়। ধানগোড়া মোড়ে রাস্তার ধারের বেশ কিছু দোকানে জল ঢুকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শালবাঁধ (Shalbandh) এবং মোলবাঁধ (Molbandh) দিঘি থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টির জলে রাস্তাঘাট ডুবে যাচ্ছে।এলাকার বাসিন্দা অনুপ মজুমদার (Anup Majumdar) বলেন, “প্রায় প্রতি বছরই আমরা এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। জলনিষ্কাশনের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন বর্ষাকাল এলেই ঘুম থেকে ওঠে, তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়ে।”
অন্যদিকে, রাজ্য সড়কপথেও জল জমার কারণে গতি থমকে গেছে। ধানগোড়া থেকে পাত্রসায়ের (Patrasayer) যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন জায়গায় জল দাঁড়িয়ে যায়। স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি চরমে। ব্যাহত হয়েছে স্কুলপড়ুয়া, রোগী ও নিত্যযাত্রীদের চলাচল। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “যেসব রাস্তায় জল জমে গেছে বা সেতু জলমগ্ন, সেখানে আপাতত যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প রাস্তাগুলির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।” বর্তমানে বাঁকুড়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বহু বছর পরে এতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদীগুলির জলস্ফীতির ফলে স্রোতের গতি বেড়ে গিয়ে শুধু সেতু বা রাস্তা নয়, তলিয়ে যাচ্ছে চাষের জমিও। কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায়। শঙ্কা, এই জল যদি আর কয়েকদিন না নামে, তাহলে বর্ষার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০২১ সালের বর্ষাতেও বাঁকুড়ার এই অঞ্চলগুলিতে জলবন্দী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখনও একাধিক মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আর দীর্ঘদিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। এই মুহূর্তে প্রশাসনের কাছে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুত জলনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগের পথ চালু রাখা। নইলে মানুষের অসহায়তা আরও বাড়বে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Himachal landslide 2025, Dog Saves Lives | কুকুরের তৎপরতায় বাঁচল ৬৭ প্রাণ! হিমাচলে ধসের আগে সতর্ক করে ‘নীরব নায়ক’



