Karisma Kapoor, Kareena Kapoor | করিশ্মার কান্না আর করিনার নীরবতা! ভেতরের গল্পটি কী?

SHARE:

জয়ী বিশ্বাস ★ সাশ্রয় নিউজ : যখন আলো ঝলমলে বলিউডের রঙিন দুনিয়ায় ছাপ ফেলছেন একের পর এক নতুন মুখ, তখন এক তরুণী তার ঘরের দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে কান্না করতেন রাতভর। তিনি করিশ্মা কাপুর (Karisma Kapoor)। আর সেই কান্না শুনে যিনি অসহায়ভাবে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তিনি করিনা কাপুর (Kareena Kapoor)। বলিউডের এই দুই বোনের গল্প যেন রুপোলি পর্দার বাইরের এক চুপিসারে লেখা স্ক্রিপ্ট, যেখানে সাফল্য আসেনি বিনা মূল্যে। এসেছে লড়াই, প্রতিকূলতা, আর গভীর সম্পর্কের এক নিঃশব্দ সাক্ষ্য। কাপুর পরিবারের অলিখিত নিয়মে, বাড়ির মেয়েরা অভিনয়ে যুক্ত হতে পারেন না। এটাই ছিল রীতি। বিখ্যাত কাপুর পরিবার, যাঁরা বরাবর বলিউডের পুরুষদের আধিপত্যে শাসন করেছে, তাঁদের ঘরের মেয়েরা রুপোলি পর্দা থেকে থাকতেন দূরে। ব্যতিক্রম শুধু একটাই, ববিতা কাপুর (Babita Kapoor)। কিন্তু তিনি বিয়ের পরে কেরিয়ার ছেড়েছিলেন। এই রীতি ভেঙে প্রথম সাহসী পদক্ষেপ নেন তাঁরই কন্যা করিশ্মা। বাবার অমতে, পুরো পরিবারের বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়ে তিনি বলিউডকে বেছে নিয়েছিলেন নিজের জীবনের রাস্তা হিসেবে।কিন্তু বলিউড কারও জন্য অপেক্ষা করে না। কেউ যদি হয় ‘তারকা পরিবারের মেয়ে’ তবে হয়ত অপেক্ষা আরও কঠিন। করিশ্মার প্রথম দিককার অভিজ্ঞতা তেমনই কর্কশ। একাধিক প্রযোজক তাঁকে সুযোগ দিতে অস্বীকার করেন। গ্ল্যামারের আড়ালে তখনো বলিউডের একাংশ ‘নেপোটিজম’-এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন এই নবাগতাকে। এই দুঃসময়ের সাক্ষী ছিলেন তাঁর ছোট বোন করিনা। সেই সময় করিনা খুবই ছোট। কিছু বুঝতে না পারলেও, বুঝতেন দিদি কাঁদছেন। “আমি শুনতাম দিদির কান্না। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম, কিছু করতে পারতাম না,” বলেছিলেন করিনা।

করিশ্মা কাপুর ও করিনা কাপুর। ছবি: সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে করিশ্মা হয়ে উঠেছিলেন এক দশকের সুপারস্টার। ‘রাজা হিন্দুস্তানি’, ‘হিরো নম্বর ১’, ‘বিবি নাম্বার ১’, ‘ফিজা’, ‘জুবাইদা’-র মতো ছবিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় কেবল তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেনি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন মেয়েদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। যাঁরা নিজের শর্তে জীবন বাঁচাতে জানে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্যের সঙ্গে লড়াই চলেছে সমান তালে। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদও ছিল সেই লড়াইয়ের বড় অধ্যায়। সেই সময় করিনা হয়ে উঠেছিলেন করিশ্মার ছায়া। নিজের দিদিকে আগলে রেখেছিলেন আগলভাঙা আবেগে। “সেই সময়ে ওর পাশে থাকা ছাড়া আমার আর কিছু করার ছিল না। দিদিকে সান্ত্বনা দিতাম, কাঁধে মাথা রাখতে দিতাম,” করিনার এই কথায় ধরা পড়ে সম্পর্কের এক দুর্লভ রূপ। এখন করিশ্মা ৫০-এ পা দিয়েছেন। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, বলিউডের ছবিও বদলেছে। করিনা নিজে বলিউডের সফলতম অভিনেত্রীদের একজন। কিন্তু যাঁর হাত ধরে পথচলা শুরু, যাঁর কান্না দেখে সাহস জন্মেছিল নিজেরও লড়ার, সেই দিদির প্রতি তাঁর ভালবাসা আজও অটুট। করিনা বহুবার বলেছেন, “আমার আজকের অবস্থানে আসার পিছনে দিদির সংগ্রাম আমাকে প্রস্তুত করেছে।”

অভিনয়ের জগতে মেয়েদের জায়গা করে নেওয়ার এই গল্প কেবল করিশ্মা আর করিনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রতিটি মেয়ের গল্প, যাঁরা নিজেদের স্বপ্নের জন্য সংগ্রাম করেন। করিশ্মা দেখিয়েছেন, পরিবার কিংবা সমাজের অলিখিত নিয়মও ভেঙে দেওয়া যায় যদি নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে। আর করিনা দেখিয়েছেন, কোনও কোনও সময় পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কাজ। বলিউডে যেখানে সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বারবার, সেখানে এই দুই বোনের সম্পর্ক যেন এক নিঃশব্দ আশ্বাস। করিশ্মার কান্না আর করিনার নীরবতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক নিঃশব্দ জয়ের গল্প। যার প্রতিধ্বনি শোনা যায় আজও বলিউডের গ্যালারিতে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Alia Bhatt : দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন আলিয়া! 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন