সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : রিলায়্যান্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানী (Anil Ambani) ফের চাপে। ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির মামলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার জারি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার ইডির দফতরে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত থাকেন। তারপরেই তাঁর বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লুক-আউট সার্কুলার (Look-Out Circular) অর্থাৎ এলওসি এমন একটি নির্দেশ যা দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে পালাতে না পারেন। কোনও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখলে তাঁকে অবিলম্বে আটক করতে হয়।
২০০৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে রিলায়্যান্স গ্রুপ (Reliance Group) একাধিকবার ইয়েস ব্যাঙ্ক (Yes Bank) থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। অভিযোগ, সেই ঋণ মঞ্জুরের প্রক্রিয়ায় একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন হয়। ইডির দাবি, ঋণের আগেই সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক আধিকারিক ‘ঘুষ’ হিসাবে বড় অঙ্কের টাকা পেয়ে যান। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ‘অস্বচ্ছ লেনদেন’ অনিল অম্বানীর প্রত্যক্ষ জ্ঞাতসারেই হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যই তলব করেছিল ইডি। এদিকে শুধু ইডি-ই নয়, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াও (SBI) অনিলের সংস্থা রিলায়্যান্স কমিউনিকেশন্স (Reliance Communications বা RCom)-কে “প্রতারক” বা fraudulent account হিসেবে চিহ্নিত করার পথে হাঁটছে। আরকম-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর হিসেবে অনিলের নামও ওই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা জমা পড়বে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) কাছে।
গত ২৩ জুন SBI একটি নোটিস পাঠিয়েছিল RCom-কে। সেই চিঠি অনুসারে, আরকম এবং তার শাখা সংস্থাগুলি দেশের একাধিক ব্যাঙ্ক থেকে ৩১,৫৮০ কোটি টাকার ঋণ নেয়। কিন্তু সেই অর্থ জটিল পথ ও আর্থিক কৌশলে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ঘোরানো হয়, যা ঋণের শর্ত লঙ্ঘন করে। এই অর্থের কোনও সঠিক হিসেব বা উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। এই প্রসঙ্গে অনিল অম্বানীর আইনজীবী জানিয়েছেন, “স্টেট ব্যাঙ্ক আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ লঙ্ঘন করে এই চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনি পথেই এগোব।”
এই প্রথম নয়, এর আগেও অনিল আম্বানীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রিলায়্যান্স হোম ফিনান্স (Reliance Home Finance)-এর ক্ষেত্রেও ঋণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালে এরিকসন (Ericsson) মামলায় ৪৫৮.৭৭ কোটি টাকা জরিমানা মেটাতে ব্যর্থ হলে অনিল অম্বানী কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত ভাই মুকেশ আম্বানী (Mukesh Ambani) এগিয়ে এসে সেই জরিমানা মেটান এবং তাঁকে জেল যাওয়া থেকে রক্ষা করেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, “এতবড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর প্রধান যদি নিয়ম লঙ্ঘন করেন ও ঋণের টাকা ঘুরিয়ে দেন, তবে তা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার পক্ষে গভীর উদ্বেগের কারণ।” এই পরিস্থিতিতে ইডি এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। প্রসঙ্গত, ভারতীয় কর্পোরেট জগতে অনিল অম্বানীর উত্থান যেমন দ্রুত, তেমনই তাঁর পতনের কাহিনিও এখন রীতিমতো আলোচনার বিষয়। রিলায়্যান্স গ্রুপকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঋণজাল, আইন লঙ্ঘন ও তদন্ত এখন অনিলের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mussoorie registration, QR Code Travel India, Uttarakhand travel update | মুসৌরি ঘুরতে গেলে লাগবে প্রি-রেজিস্ট্রেশন, চালু নতুন কড়া নিয়মাবলি: ভ্রমণকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা




