West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ ষষ্ঠ কিস্তি)

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতির বিশ্লেষণ, তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের শক্তি, ইস্যু, সংগঠন ও সম্ভাবনার বিস্তারিত আলোচনা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত দর্শনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজ্যের এক বিশেষ রূপবদলের সময় আগামী ‘২৬ যা এক নতুন যুগের সূচনা ঘটতে চলেছে। কে হবে এই রাজ্যের মুখ্য মুখ। জনগণ কি চাইছে সমস্ত কিছু নিয়ে রাজনৈতিক কলমে কলম ধরলেন–
দেবব্রত সরকার

(আজ ষষ্ঠ কিস্তি)

ছবি : প্রতীকী

২০২৬-এর ভোট: জোট রাজনীতি, সম্ভাব্য সমীকরণ ও পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজপথ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনীতিতে হবে এক ঐতিহাসিক মোড়। ২০১১-তে তৃণমূলের উত্থান, ২০১৬-তে স্থিতি, ২০২১-এ বিজেপির চ্যালেঞ্জ এবারের লড়াই হবে “জোট বনাম জনমত” -এর। কে কার সঙ্গে যাবে, কে কাকে হারাবে, আর কারা নতুন করে জায়গা দখল করবে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা নিয়েই ষষ্ঠ পর্বে তুলে ধরবার চেষ্টা করেছি মাত্র ।

জোটরাজনীতি, সম্ভাব্য সমীকরণ ও বাংলা রাজপথ: তৃণমূলের ভুল, বিজেপির সুযোগ ও ভবিষ্যতের খেলা

পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির পরিসর ক্রমে বদলাচ্ছে। মুম্বাই, লন্ডন, নতুন দিল্লি- যেখানে কূটনৈতিক বার্তা, অর্থনৈতিক বোঝাপড়া ও জোট-ঝাঁকি সব মিলেমিশে গড়ছে, সেখানে বাংলা রাজপথ যেন একটি হারানো ধন। কিন্তু সেই পথটি সরল নয়। জোট রাজনীতি, নেতা বদল, গোষ্ঠী সঙ্কট, এবং ভোটব্যাঙ্ক বিচার, সবই এখানে মিশে আছে। আজকের রাজনীতিতে বিশেষ নজর পাওয়া যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ও বিজেপির (BJP) মধ্যে সন্তান জন্মানো এক ‘রাজনৈতিক যুদ্ধ’, যেখানে ভুলগুলোর হিসাব হবে ভোটফলেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টেই উঠে এল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, দলের কর্মীদের উপর হামলা, এবং বিজেপি-তৃণমূল দ্বন্দ্বের এক নতুন অধ্যায়। তিনি লিখেছেন: “The manner in which our Party colleagues, including a sitting MP and MLA, were attacked in West Bengal for serving the people affected by floods and landslides is outright appalling. It highlights the insensitivity of the TMC as well as the absolutely pathetic law and order situation in the state.” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর এই বক্তব্য অবশ্য নতুন নয়, তিনি প্রায়ই তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে নিন্দা করেন, তবে এ ধরনের সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ গতি এনে দিতে পারে। তাছাড়া, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভারসাম্য হতে পারে এমন সম্ভাব্য জোট-সমীকরণও বিকশিত হতে শুরু করেছে।

তৃণমূলের মারাত্মক ভুলগুলো

আইনশৃঙ্খলা ও গণহত্যা ইমেজ : রবিবারের নাগরাকাটা হামলার ঘটনায় তৃণমূলের দোষারোপ এড়ানো যায়নি। বিজেপি দাবি করে, তৃণমূলের “গুন্ডা বাহিনী” পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছিল। মোদী সেই হামলার নিন্দা করে এক্সে লিখেছেন, “absolutely pathetic law and order situation in the state”। এই ধরনের ইমেজ, বিশেষ করে ভোটের আগে, তৃণমূলকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

সুবিচারের অভাব ও বিভাগীয় রাজনীতি : তৃণমূল বারবার পরিয়ে দেয় যে হামলা “ভুল বোঝাবুঝি” ছিল বা বিজেপির প্রচার কৌশল। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যে কোনও টুইট বা মন্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছেন বলে সমালোচনা বেড়েছে। ইতিমধ্যে, তৃণমূলের দখলে থাকা রাজ্য প্রশাসনের কাজ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে রাজনৈতিক আঞ্চলিক টানাপোড়েনে পরিণত করেছে।

ভোটব্যাঙ্কের নিশ্চুপ ক্ষয় : কলকাতার, হাওড়া, হুগলি ও বেশ কিছু জেলার মধ্যবিত্ত ও শহুরে ভোটারের মন তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উন্নয়ন কাজ গতি পাচ্ছে না, বাজেট দাবি সঠিকমতো পরিপূর্ণ হচ্ছে না এসব নানা প্রসঙ্গে বিরোধীরা তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। যেমন, তৃণমূল বারবার বিনিয়োগ ঘোষণা করে, কিন্তু লোকালি কাজ ঘাটতি, এই প্রতারণার অভিযোগ প্রতিপক্ষ দলগুলি প্রায়ই তুলে থাকে।

সংগঠনের অভাব ও নেতৃত্ব সঙ্কট : ক’য়েক বছর ধরেই তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠন দুর্বল হয়ে এসেছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চোখ রেখেছেন। বিশেষ করে, বাম এবং সিপিএম-সহ অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠীর পুনরুজ্জীবন তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এছাড়া, অনেক নেতা দুর্ভেদ্য সিদ্ধান্ত নিতে অনুমতি পাচ্ছেন না, দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সেভাবে মিটতে পারছে না, এসব কারণে ভোটারদের মধ্যে তৃণমূল-নিঃশেষ তাল ভাঙতে শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় ও রাজ্যশাসন দ্বন্দ্ব: মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার ও মমতার রাজ্য সরকার মধ্যে উত্তেজনা রাজ্যকে একটি গৃহযুদ্ধের মাঠে পরিণত করতে পারে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর প্রশাসনিক বিরোধ, সম্মিলনহীনতা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের বলছেন, “রাজ্যের কোনও কর্তৃপক্ষ সাফল্য না করলেও কেন্দ্রই দোষ করছে,” কিন্তু সাধারণ মানুষ এসব অজুহাত সহজে মান্য করবে না।

ছবি : প্রতীকী

বিজেপির ইতিবাচক দিক

নেতৃত্ব ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা : মোদীর সরল এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া (এক্সে বার্তা, টুইট) তৃণমূলকে উত্তপ্ত রূপে ধরা দিয়েছে। মঞ্চায়িত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষমতা এখন বিজেপিকে বৃদ্ধিশীল ওপরে নিয়ে যাবে। তার ওপরে, মোদি হামলা নিয়ে সরাসরি টুইট পোস্ট করে, “outright appalling” আইনশৃঙ্খলায় তৃণমূলকে দোষারোপ করেছেন।

সম্ভাব্য জোট-বিকল্প : বাংলায় বিজেপি ইতিমধ্যে কিছু স্থানীয় দল ও বিরোধীদের সঙ্গে মিত্রতা বাড়াচ্ছে। যদি তারা সঠিকভাবে গোষ্ঠিগত সমীকরণ গড়ে তুলতে পারে, তবে তৃণমূলের একচ্ছত্র তথ্য ভেঙে দেওয়া সম্ভব। যেমন কিছু দলে যেমন ব্রিগেড-তৃণমূল বিরোধী অংশগুলি বিজেপির দিকে ঝুঁকছে।

নাগরিক ও উন্নয়ন অ্যাজেন্ডা : বিজেপি উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রচার করে। তারা ভোটারকে বলেন, ‘না শুধু তর্ক, কাজ চাই’—এটি কিছু অংশ জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য। বিনিয়োগ, অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত ঘোষণা, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়, এসব কিছু ক্ষেত্রে বিজেপি অগ্রগামী ভাব প্রকাশ করতে পারে।

সম্ভাব্য জোট সমীকরণ

  • তৃণমূল + সিপিএম + কংগ্রেস — এই জোট এখনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মনে হয়। তৃণমূল ইচ্ছা রাখে, এই জোটকে ভোটবিরোধী শক্তি হিসেবে গুছিয়ে রাখতে।
  • যদি বিজেপি কিছু ক্ষ্ন রাজনৈতিক দল যেমন রাজ্য-উপদল ও বিরোধী গোষ্ঠীকে যুক্ত করতে পারে, তাহলে তারা “বিপ্লবী বিকল্প” হিসেবে উঠে আসতে পারে।
  • জনগোষ্ঠী বিভাজন (ধর্ম, আঞ্চলিক, আদিবাসী) ভোটবাতাসে প্রয়োগ করা হবে, এটা যে-কোনও জোট চালকে কাজে লাগাবে।
  • শেষমুহূর্তে, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও রাজ্য বিতর্ক, যেখানে কেন্দ্র লক্ষ্য রাখতে পারলে বিজেপি তা ব্যবহার করতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজপথ

বাংলা রাজনীতির আগামী ক’য়েক বছরই নির্ধারণ করবে, বাংলায় কে দখল নেবে। তৃণমূল যদি ভুল শোধরাতে ব্যর্থ হয়, নির্বাচন-হিংসা, প্রশাসন-দুর্বলতা, জনপ্রিয় নীতি যুগে না নেওয়া তাহলে ভোটাররা পরিবর্তন বেছে নেবে। বিজেপি যদি যুক্তরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে স্থির থাকতে পারে, উন্নয়ন-অবরোধের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়তে পারে, তাহলে বাংলা রাজপথ তাতে এক নতুন অধ্যায় পাবে।

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা : একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র

| দল                          | বর্তমান অবস্থা (২০২৫ পর্যন্ত)                              | ভোটব্যাঙ্ক                     | চ্যালেঞ্জ                                   |
| ————————— | ———————————————————- | —————————— | ——————————————- |
| তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)   | রাজ্যে শাসক দল, কিন্তু দুর্নীতি ও চাকরির কেলেঙ্কারিতে চাপে | নারী, সংখ্যালঘু, গ্রামীণ ভোটার | প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও দুর্নীতির অভিযোগ |
| বিজেপি                  | বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে, সংগঠন এখনো গ্রামীণ স্তরে দুর্বল   | শহর, উচ্চবিত্ত, হিন্দু ভোটার   | স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ঘাটতি            |
| বামফ্রন্ট               | পুনরুজ্জীবনের পথে, তরুণদের মধ্যে প্রভাব বাড়ছে             | কর্মীশক্তি, শিক্ষিত তরুণ       | গণভিত্তি পুনর্গঠন                           |
| কংগ্রেস                 | সীমিত এলাকা-ভিত্তিক প্রভাব                                 | উত্তরবঙ্গ, সংখ্যালঘু ভোট       | সংগঠন দুর্বলতা                              |
| নতুন শক্তি / স্বাধীন দল | সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠন                                    | রাজবংশী, মতুয়া, আদিবাসী ভোট   | সংগঠন ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা                  |

সম্ভাব্য জোট ও সমীকরণ

ক. তৃণমূল কংগ্রেস + আঞ্চলিক সংগঠন: তৃণমূল ইতিমধ্যেই মতুয়া ও রাজবংশী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে।
“বাঙালিবাদ” ও “বাংলার গর্ব” থিমেই তারা এগোবে।
এই জোটে যদি সংখ্যালঘু ও নারী ভোট স্থিত থাকে, তবে তৃণমূল আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারে।
খ. বামফ্রন্ট + কংগ্রেস + নতুন সামাজিক গোষ্ঠী : এটি হতে পারে একটি ‘তৃতীয় বিকল্প জোট’। এই ফ্রন্টের শক্তি হল নৈতিকতা, যুব আন্দোলন ও কর্মসংস্থানের ইস্যু। যদি তারা একক প্রার্থী দেয়, বিজেপি-বিরোধী ভোট তাদের দিকে ফিরতে পারে।
গ. বিজেপি একা নাকি জোটে? : বিজেপি কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করবে। তাদের লক্ষ্য,  সংখ্যালঘু ভোট বাদে বাকি ভোট একত্র করা। তারা কিছু আঞ্চলিক ছোট দলকে জোটে আনতে পারে, বিশেষত উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে।
ঘ. নতুন আঞ্চলিক দলগুলোর ভূমিকা : যেমন রাজবংশী পরিষদ, মতুয়া সংগঠন, আদিবাসী মুক্তি মঞ্চ, এরা স্থানীয়ভাবে ১–২ আসন জিততে পারলেও, ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
ছবি : প্রতীকী

প্রধান ইস্যুসমূহ – যেগুলো ভোট নির্ধারণ করবে

১.⁠ ⁠চাকরির দুর্নীতি ও স্বচ্ছতা
   * শিক্ষক ও সরকারি নিয়োগ দুর্নীতি তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
   * বামফ্রন্ট ও বিজেপি এটাকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
২.⁠ ⁠কর্মসংস্থান ও শিল্প বিনিয়োগ
   * টাটা-নন্দীগ্রামের পর বিনিয়োগ প্রশ্নে রাজ্য এখনো পিছিয়ে।
   * তরুণ ভোটারের কাছে এটি মূল ইস্যু।
৩.⁠ ⁠নারী কল্যাণ ও নিরাপত্তা
   * “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” ও “কন্যাশ্রী” প্রভৃতি প্রকল্পের প্রভাব রয়ে গিয়েছে।
   * কিন্তু নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে বিরোধীরা সক্রিয়।
৪.⁠ ⁠সংখ্যালঘু রাজনীতি
   * সংখ্যালঘু ভোট এখনো তৃণমূলের ঘরে, কিন্তু আইএসএফ বা বাম-কংগ্রেস এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।
৫.⁠ ⁠উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গ ভারসাম্য
   * বিজেপি উত্তরবঙ্গে শক্তিশালী; তৃণমূল দক্ষিণবঙ্গে।
   * ফলাফল নির্ধারণ করবে এই দুই অঞ্চলের ভারসাম্য।

সম্ভবত ভোট প্রবণতা (প্রাক্কলনভিত্তিক বিশ্লেষণ)

| দল / জোট                          | সম্ভাব্য ভোট শতাংশ | সম্ভাব্য আসন (২৯৪ আসনের মধ্যে) | মন্তব্য                              |
| ——————————— | —————— | —————————— | ———————————— |
| তৃণমূল কংগ্রেস                | ৪০–৪৩%             | ১৩৫–১৫৫                        | এখনও শীর্ষে, তবে হালকা ক্ষয়          |
| বিজেপি                        | ৩৩–৩৬%             | ৯০–১১০                      | উত্তরবঙ্গে শক্তিশালী,দক্ষিণে দুর্বল ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে |
| বাম + কংগ্রেস জোট             | ১৫–১৭%             | ২০–৩০                          | তরুণ ভোটে কিছু উত্থান সম্ভব          |
| অন্যান্য (স্বাধীন/আঞ্চলিক দল) | ৩–৪%               | ২–৫                            | স্থানীয় প্রভাব                      |
(এটি কেবল বিশ্লেষণাত্মক প্রাক্কলন, কোনও অফিসিয়াল জরিপ নয়।)

নির্বাচনের নতুন সমীকরণ : দল নয়, নেতা নয়, ইস্যু নির্ধারণ করবে ফলাফল

২০২৬-এর ভোটে ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি কিছুটা পেছনে থাকবে। তরুণ, নারী, গ্রামীণ ও প্রথমবার ভোটাররা “ইস্যু-বেসড ভোটিং” করবে।
👉 মূল ফোকাস থাকবে : 
•⁠  ⁠দুর্নীতি বিরোধিতা
•⁠  ⁠কর্মসংস্থানের বাস্তব প্রতিশ্রুতি
•⁠  ⁠প্রশাসনিক স্বচ্ছতা
ছবি : প্রতীকী

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক

•⁠ ⁠কেন্দ্র–রাজ্যের টানাপোড়েন (GST, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ফান্ড) আবারও রাজনৈতিক ইস্যু হবে।
•⁠ কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান (ED, CBI) ভোটের আগেই গতি পেতে পারে, যা তৃণমূলের চাপে ফেলবে কিন্তু সহানুভূতিও আনতে পারে।

২০২৬ পরবর্তী সম্ভাব্য চিত্র

ক) যদি তৃণমূল জেতে
•⁠  ⁠মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও এক দশক রাজ্য রাজনীতিতে প্রধান মুখ থাকবেন।
•⁠  ⁠উত্তরবঙ্গে নতুন মুখকে নেতৃত্বে আনতে পারেন।
•⁠  ⁠কেন্দ্রে তৃণমূল বিরোধী জোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
খ) যদি বিজেপি উঠে আসে
•⁠  ⁠রাজ্যে নতুন প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে।
•⁠  ⁠কেন্দ্রীয় সমন্বয় বাড়বে, কিন্তু রাজ্যীয় সংস্কৃতি ও ভাষার ইস্যুতে টানাপোড়েন দেখা দেবে।
গ) যদি বাম–কংগ্রেস চমক দেখায়
•⁠  ⁠রাজ্যে “ত্রিমুখী রাজনীতি” পুনর্জন্ম পাবে।
•⁠  ⁠জোট রাজনীতি আবার ফিরবে, নতুন ভোটবিন্যাস তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন হবে শুধু সরকার বদলের নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের নির্বাচন। প্রজন্ম, প্রযুক্তি, এবং সামাজিক বাস্তবতা রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের সংগঠিত শক্তি, বিজেপির আগ্রাসী প্রচার, এবং বাম-কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবন এই তিন ধারা মিলে রাজ্যকে নিয়ে যাবে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে। কিন্তু, “বাংলার রাজনীতি আর আগের মতো নেই : ২০২৬-এ ভোট হবে হৃদয়ের, তথ্যের, আর বিশ্বাসের লড়াই।” (চলবে)
সব ছবি: প্রতীকী 
Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন