সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : মঙ্গলবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ফের নিম্নচাপের দাপট শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের (Gangetic West Bengal) বিস্তীর্ণ এলাকায় আজ দিনভর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কলকাতায় (Kolkata) মেঘলা আকাশ ও একাধিকবার বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। শুধু তাই নয়, রাজ্যের ১১টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়া (Purulia), বাঁকুড়া (Bankura), পূর্ব বর্ধমান (East Burdwan), পশ্চিম বর্ধমান (West Burdwan), বীরভূম (Birbhum) ও মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। পাশাপাশি দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে আজ। ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্কতা।
আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, এই গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের (Bangladesh) সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। কলকাতা থেকে ৯০ কিলোমিটার উত্তরে এবং বর্ধমান (Burdwan) থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) প্রবেশ করবে। এর ফলে বুধবার (Wednesday) থেকে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্র (Alipore Weather Office)। শুধু দক্ষিণবঙ্গেই নয়, উত্তরবঙ্গের (North Bengal) পাঁচ জেলা দার্জিলিং (Darjeeling), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), কালিম্পং (Kalimpong), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) ও কোচবিহার (Cooch Behar)-এ মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে, সপ্তাহের শেষদিকে অর্থাৎ শনিবার (Saturday) ও রবিবার (Sunday) উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আরও এক দফা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। রবিবারও জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে একই ধরনের আবহাওয়া থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
এদিকে, কলকাতার আকাশ দিনভর মেঘলা থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্র জানিয়েছে, “আজকের দিনটি মূলত বৃষ্টি নিয়েই যাবে। ক’য়েক পশলা বৃষ্টি হবে। আকাশে মেঘ থাকায় এবং বৃষ্টির জেরে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই নিচে থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে যদি বৃষ্টি না-ও হয়, তাহলে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অনুভূত হবে।” উল্লেখ্য, নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা (Odisha)-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র অঞ্চলে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর জেরে মঙ্গলবার সকালেই মৎস্যজীবীদের (Fishermen) সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সমুদ্র অতি উত্তাল থাকবে।
এছাড়া, প্রবল বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় জল জমে যেতে পারে। শহুরে এলাকায় তৈরি হতে পারে তীব্র যানজট। বিশেষত অফিস টাইমে দৃশ্যমানতা কমে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন যাত্রীরা। কৃষি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অনেক স্থানে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, যাতায়াতের সময় সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipality) ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর (Disaster Management Department) সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী ক’য়েকদিন আবহাওয়া এমনই থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে যেমন বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার খবর আসবে, তেমনি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের (Landslide) আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পর্যটকদের (Tourists) জন্যও জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। পাহাড়ি রাস্তাগুলি ভিজে স্লিপারি হয়ে যাওয়ায় গাড়ি চালানোর সময় সাবধানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে নিম্নচাপের কারণে রাজ্য জুড়ে বৃষ্টির দাপট তৈরি হয়েছে। এর ফলে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, অতিবৃষ্টি যেন কোনও বিপর্যয় না ডেকে আনে, সেদিকেই এখন নজর প্রশাসনের।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Hampi Travelog | মাতাঙ্গ পাহাড়ের চূড়ায় নিঃশব্দ বিস্ময়, সূর্যাস্তের আলোয় হাম্পি




