Virat Kohli | জীবন বদলে দেওয়া তিন বই পড়ে বিরাট হলেন ‘বিরাট’

SHARE:

মধুজা সান্যাল ★ সাশ্রয় নিউজ : তাঁর ব্যাট কথা বলে, তাঁর শরীরী ভাষা ছড়িয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস। মাঠের মধ্যে সেই আগ্রাসী, আত্মবিশ্বাসী বিরাট কোহলি (Virat Kohli) এখন যেন আরও অনেক বেশি শান্ত, গভীর, আর সংযত। কিন্তু এই পরিবর্তন আসার পেছনে কী শুধুই বয়সের পরিপক্বতা? উত্তরটা ‘না’। কারণ নিজেই জানিয়েছেন, জীবনের মোড় ঘোরাতে তাঁকে সাহায্য করেছে তিনটি বিশেষ বই। সেসব পড়ার পরই যেন শুরু হয় আত্মসন্ধান। বদলে যায় তাঁর মানসিক দৃঢ়তা, জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, এমনকি খেলার ধরনও।দিল্লির রাফ অ্যান্ড টাফ, কিছুটা রাগী, কিছুটা উগ্র চেহারার ছেলেটি যে আজ আত্মসংযমের প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছেন, তার পেছনে রয়েছে গভীর অধ্যয়ন, আত্মবিশ্লেষণ আর একটা সুশৃঙ্খল মানসিক অনুশীলন। নিজের কথাতেই কোহলি জানিয়েছেন, স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা (Anushka Sharma) তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এই ‘আধ্যাত্মিক অভিযাত্রা’য় পা রাখতে। এক সময় যাঁর ভাবনা জুড়ে ছিল ব্যাটিং, ফিটনেস আর রানের পাহাড়, এখন তিনিই সময় কাটান যোগাভ্যাসে, বইয়ের পাতায়, কখনও কখনও নির্জন আশ্রমে।

আইপিএল জয়ের পরে জীবন সঙ্গীর আশ্রয়ে কোহলি। ছবি : সংগৃহীত

বিরাট কোহলি (Virat Kohli)-এর বদলে যাওয়ার এই পথে তিনটি বই যেন হয়ে উঠেছে নীরব গাইড। এক একটি বই তাঁকে এক এক রকম ভাবে তৈরি করেছে জীবনের কঠিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিতে, অহং বশে পা পিছিয়ে না আসতে ও আত্মচেতনায় আলোকপাত করতে। কোন সেই তিন বই, যা বিরাট কোহলির জীবনকেও ‘বিরাট’ করে তুলেছে?

বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা। ছবি : সংগৃহীত

প্রথম বই, ‘ডিটক্স ইয়োর ইগো’ (Detox Your Ego)। লেখক স্টিভেন সিলভেস্টার (Steven Sylvester)। বইটি একেবারে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝায়, কীভাবে ‘ইগো’ বা অহং একজন ব্যক্তির জীবনের সাফল্যের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কোহলি একসময় বুঝেছেন, অহং বা আত্মগরিমা কেবল প্রতিযোগিতায় নয়, জীবনের অনেক দরজা বন্ধ করে দেয়। খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে অনেক সময় আত্মবিশ্বাস ও ইগোর মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে। সেই ফারাক বোঝার পাঠ পেয়েছেন এই বই থেকে। স্টিভেন এই বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে মনের ভেতরের বাধাগুলিকে চিনে সেগুলিকে ছুঁড়ে ফেলে এগিয়ে যাওয়া যায়, এ এক গভীর মননচর্চার দিকচিহ্ন।

আইপিএল ট্রফি হাতে বিরাট কোহলি ও স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা। ছবি সংগৃহীত

দ্বিতীয় বই, ‘দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ আ যোগী’ (Autobiography of a Yogi)। লেখক যোগী পরমহংস যোগানন্দ (Paramahansa Yogananda)। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত এই বইটি একেবারে অন্য ধাঁচের আধ্যাত্মিক, আত্মজীবনীধর্মী ও দার্শনিক চিন্তাধারার। এই বই কোহলিকে যেন ঠেলে দেয় অন্তর্জগতের এক অনন্য সফরে। যোগী জীবনের দর্শন, আত্মচিন্তা, চেতনার বিস্তার, ও ঈশ্বরসন্ধানের যে দিশা এখানে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে এক অন্য বিরাট ধরা দিয়েছেন। তিনি শুধুই ব্যাটিং স্টান্স নিয়ে ভাবেন না, ভাবেন নিজের আত্মা নিয়েও। এই বইয়ের ভাবনাই তাঁকে নিয়ে গিয়েছে উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী আশ্রমে, কখনও বৃন্দাবনের নির্জনে।

বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা। ছবি : সংগৃহীত

তৃতীয় বইটি একটু অন্যধারার। ‘দেয়ার ইজ সামথিং ইন দ্য এয়ার’ (There’s Something in the Air)। লেখক লোরেঞ্জো অ্যাঞ্জেলনি (Lorenzo Angeloni)। ইতালি ও ভারতের ৭০ জন সফল মানুষের গল্প, তাঁদের ভিতরে প্রতিযোগিতা, মানসিক ভারসাম্য ও আত্মবিশ্বাসের কথা উঠে এসেছে এখানে। কোহলি বলেন, এই বই তাঁকে বুঝিয়েছে, শুধু স্কিল থাকলেই চলবে না, সফল হতে গেলে মানসিক দৃঢ়তা ও অন্তর্জ্ঞান দরকার। জীবনের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে মানসিক ‘স্পেস’ তৈরি করতে না পারলে, শরীর আর প্রতিভাও একসময় মুখ থুবড়ে পড়ে। এই বই তাঁকে সেভাবেই আলাদা করে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক ভারসাম্য গঠনের কথা শিখিয়েছে। এই তিনটি বইকে যদি একত্রে দেখা যায়, তবে বোঝা যায়, তিনটি দিক নিয়ে কোহলি তাঁর নিজেকে নির্মাণ করেছেন নতুন করে। একদিকে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, দ্বিতীয়ত আত্মচেতনা এবং তৃতীয়ত আত্মবিশ্বাস। এই আত্মত্রয়ী মিলেই তৈরি হয়েছে একজন সম্পূর্ণ মানুষ, যিনি খেলোয়াড় হওয়া ছাড়াও একজন গভীর মননের ব্যক্তি। এখন যাঁরা কোহলিকে দেখেন, তাঁরা শুধু একজন সেঞ্চুরি মেশিন নয়, একজন সংযত, সুশৃঙ্খল মানুষকেই চেনেন।

বিরাট কোহলি। ছবি : সংগৃহীত

তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “পরিবর্তন একদিনে আসেনি, অনেক সময় নিয়েছে, অনেক আত্মসমীক্ষা, অনেক প্রশ্ন, আর অনেক উত্তর খোঁজার পরে আমি এই আমি।” সত্যিই, বিরাট কোহলির এই পথচলা প্রমাণ করে দেয়, মানুষ চাইলে নিজেকেই বদলে ফেলতে পারে। শুধু দরকার, নিজেকে চেনার সাহস, অহং ঝেড়ে ফেলার মানসিকতা আর সঠিক বইয়ের সঙ্গে পরিচয়। কারণ কখনও কখনও, একটা বইই পারে জীবন পাল্টে দিতে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli : আরসিবির প্রথম আইপিএল জয়ের আবেগঘন মুহূর্তে কোহলির চোখের জল মোছালেন অনুষ্কা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন