সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) আজ আর কেবল জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য নয়, রাজ্যটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক নতুন শিল্পশক্তি হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর ঘোষিত ‘বিকশিত ভারত’ মিশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। এই দীর্ঘমেয়াদি ভিশন বাস্তবায়নের জন্য শুরু হয়েছে বিশেষ প্রকল্প, ‘বিকশিত ইউপি@২০৪৭’।
২০১৭ সালের আগে যে উত্তরপ্রদেশ বিনিয়োগকারীদের কাছে এক প্রকার নিরুৎসাহজনক গন্তব্য ছিল, সেখানে এখন পরিস্থিতি আমূল পরিবর্তিত। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, অবকাঠামোতে আধুনিকীকরণ ও নীতি-সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে গত আট বছরে যোগী সরকার বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, উত্তরপ্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, যার মধ্যে ১৫ লক্ষ কোটিরও বেশি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে। এর সরাসরি সুফল পেয়েছেন প্রায় ৬০ লক্ষ যুবক, যারা নতুন চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি স্বনির্ভর প্রকল্পের মাধ্যমে অসংখ্য পরিবারে পৌঁছে গেছে আর্থিক স্বাধীনতার বার্তা। রাজ্য সরকার উদ্যোক্তাদের জন্য একাধিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩৩টি নীতি কার্যকর করা হয়েছে। ডিজিটাল পোর্টাল ‘নিবেশ মিত্র’ (Nivesh Mitra) ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতের সবচেয়ে কার্যকর সিঙ্গেল-উইন্ডো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। হারদোই-কানপুরে চামড়ার ক্লাস্টার, গোরখপুরে প্লাস্টিক পার্ক ও কনৌজে পারফিউম পার্কের মতো বিশেষ শিল্পকেন্দ্রগুলো দ্রুত গড়ে উঠছে। এগুলো শুধু উত্তরপ্রদেশের শিল্পায়নকেই ত্বরান্বিত করবে না, তা রাজ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন পরিচিতি দেবে।

যোগী সরকারের প্রচেষ্টায় উত্তরপ্রদেশ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় MSME (ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প) কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। রাজ্যে সক্রিয় ইউনিটের সংখ্যা ৯৬ লক্ষেরও বেশি। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা খাতেও নজির গড়েছে রাজ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৮ সালে যে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর (Defence Industrial Corridor) উদ্বোধন করেছিলেন, সেটি ইতিমধ্যেই বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে। আগ্রা, আলিগড়, কানপুর, লখনউ, ঝাঁসি ও চিত্রকূট, এই ছয় জায়গায় প্রকল্প দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, এ পর্যন্ত ১৭০টিরও বেশি মৌ সাক্ষর (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা থেকে ২৮০০০ কোটিরও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রায় ৪৬০০ নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আদানি গ্রুপ (Adani Group), এআর পলিমার (AR Polymer), এমিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ (Emitech Industries) এবং ব্রাহ্মোস (BrahMos) -এর মতো শীর্ষ সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই রাজ্যে কাজ শুরু করেছে। কানপুরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থেকে শুরু করে লখনউতে ব্রাহ্মোস মিসাইল উৎপাদন, সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ দ্রুতই বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের মোট রাজ্য স্থূল উৎপাদন (GSDP) প্রায় ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার। সরকারের রোডম্যাপে ২০৩০ সালের মধ্যে এটিকে ১ ট্রিলিয়ন, ২০৩৬ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে এই উচ্চাভিলাষী যাত্রায় রাজ্যকে বছরে গড়ে অন্তত ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কথায়, “উত্তরপ্রদেশ এখন আর পিছিয়ে থাকা রাজ্য নয়, বরং ভারতের উন্নয়নের মডেল। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং প্রতিরক্ষা শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

অর্থনৈতিক সমালোচকদের মতে, রাজ্যের ভৌগোলিক বিস্তৃতি, মানবসম্পদের আধিক্য এবং নতুন শিল্প নীতির কারণে উত্তরপ্রদেশ আগামী এক দশকে ভারতের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। শিল্পোদ্যোগী মহলও আশাবাদী যে ‘বিকশিত ইউপি@২০৪৭’ শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubhanshu Shukla first Indian astronaut ISS | প্রথম ভারতীয় নভোচারীর বীরের মতো প্রত্যাবর্তন, লখনউয়ে শুভাংশু শুক্লাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস




