জয়ী বিশ্বাস ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : পুজো মানেই শ্রদ্ধা, বিশ্বাস আর পবিত্রতার প্রতীক। হিন্দু ধর্মে পুজোর সামগ্রী মানে শুধু কিছু ফুল, ধূপ, প্রদীপ বা চন্দন নয়, এগুলো এক একটি আধ্যাত্মিক শক্তির বাহক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু পুজোর পরে যখন এই সামগ্রীগুলো অবহেলায় রাস্তায় পড়ে থাকে, তখন একটা বড় প্রশ্ন মাথায় আসে, সেই পবিত্র সামগ্রীর উপর যদি কারও পা পড়ে, তাহলে তার প্রভাব কী হতে পারে? বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়?
প্রাচীন ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র মতে, পুজোর সামগ্রী সবসময় একটি নির্দিষ্ট শক্তি বহন করে। যখন সেগুলি পুজোর কাজ শেষ হয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়, তখনও সেই শক্তির রেশ থেকে যায়। আর সেই শক্তিতে যদি অসতর্কভাবে কেউ পা দেন, তাহলে তা নেতিবাচক শক্তিকে (Negative Energy) আমন্ত্রণ জানাতে পারে বলে মনে করা হয়। বিশিষ্ট বাস্তুশাস্ত্রবিদ অচ্যুত নন্দন শাস্ত্রী (Achyut Nandan Shastri) বলেন, “পুজোর সামগ্রী মানেই সেটা শক্তির আধার। তা সে ব্যবহার হয়ে গেলেও। সেই শক্তিকে অমর্যাদা করলে তার ফল হতে পারে মানসিক ও শারীরিক অস্থিরতা।” অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা পুজোর সামগ্রীতে পা পড়লে মানুষের মনে অপরাধবোধ তৈরি হয়। বাস্তুশাস্ত্র জানায়, এই অনুভূতি থেকেই জন্ম নিতে পারে একধরনের মানসিক দুশ্চিন্তা ও অশান্তি। নিজের অজান্তেই আপনি হয়ত মনে করবেন আপনি কোনও পবিত্র জিনিসকে অপমান করলেন। তার ফলে মন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা বাস্তু অনুযায়ী বাড়ির ইতিবাচক শক্তিকে ক্ষয় করতে পারে।
বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ দেবলিনা মুখার্জি (Debolina Mukherjee) এই প্রসঙ্গে জানান, “বাস্তু কোনও ধর্মীয় নিয়ম নয়। এটা শক্তির সঞ্চালনের বিজ্ঞান। যে কোনও বস্তু, যা একটি সময় পবিত্র উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, সেটিকে অসম্মান করলে ঘরের শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্বাস যেমন ধর্মীয় সংস্কার থেকে এসেছে, তেমনই এর পেছনে রয়েছে মনস্তত্ত্ব ও শক্তি বিন্যাসের বাস্তব দিকও।” এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় স্মরণযোগ্য, রাস্তায় পুজোর সামগ্রী পড়ে থাকার ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বাস্তু নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরে। একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত পুজোর পর সেসব সামগ্রী যতটা সম্ভব পবিত্র ভাবে নদী বা নির্দিষ্ট স্থানে বিসর্জন দেওয়া। না হলে রাস্তায় পড়ে থাকা সামগ্রীর উপর দিয়ে মানুষের চলাচল যেমন অসুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে, তেমনি ধর্মীয় ভাবাবেগেও আঘাত লাগতে পারে। কিন্তু যদি আপনি ভুলবশত পুজোর সামগ্রীর উপর পা দিয়ে ফেলেন? বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, তখন দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বরং পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে স্নান করে মন থেকে সেই অপরাধবোধ ঝেড়ে ফেলা উচিত। বাড়িতে ধূপ-ধুনো দিয়ে একবার প্রার্থনা করলেও মন শান্ত হয় এবং বাস্তুতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি একরকম মানসিক ভারমুক্তির প্রক্রিয়া।
পুজোর পর এমনিতেই বহু বাড়ি বা রাস্তায় দেখা যায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফুল, মালা, ধূপকাঠি কিংবা নারকেলের টুকরো। এগুলো অনেক সময়েই অনিচ্ছাকৃতভাবে রাস্তার মানুষদের পদসঞ্চালনের পথে পড়ে যায়। বাস্তুশাস্ত্র এখানেই সচেতন করে দেয়, শুধু আপনার মন নয়, আপনার আশপাশের শক্তির ভারসাম্যও এই পদক্ষেপে প্রভাবিত হতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র এক্ষেত্রে কোনও সরাসরি ‘শাস্তি’র কথা বলে না। কিন্তু মন ও পরিবেশের শক্তি পরিবর্তনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। বাস্তুশাস্ত্রে উল্লেখ, প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে একধরনের শক্তির সঞ্চালন জড়িয়ে থাকে। পুজোর সামগ্রীতে পা পড়লে যদি আপনি নিজেই মনে করেন আপনি ভুল করেছেন, সেটাই নেতিবাচক শক্তিকে ডেকে আনার কারণ হতে পারে। এই বিশ্বাসের সামাজিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বহু মানুষ আজও ধর্মীয় রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠানে বিশ্বাস রাখেন। পুজোর সামগ্রী নিয়ে তাঁদের মনে রয়েছে একধরনের অন্তরের শ্রদ্ধা। সেই বিশ্বাসকে সম্মান করাই সামাজিকভাবে সঠিক।সুতরাং, রাস্তায় পড়ে থাকা পুজোর সামগ্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যেমন ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতিফলন, তেমনই বাস্তুশাস্ত্রের আলোয় এটি একধরনের শক্তি ভারসাম্যের বিষয়ও বটে। ভুলবশত পা পড়ে গেলে আত্মগ্লানিতে না ভুগে বরং নিজের মনকে স্থিত রাখতে সচেতন থাকতে হবে। কারণ বাস্তুশাস্ত্র, শেষমেশ, আপনার মনের সঙ্গে শক্তির যোগাযোগেরই বিজ্ঞান।
ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Jasprit Bumrah injury update, missed 5th Test, BCCI confirms | ওভাল টেস্টে অনুপস্থিত বুমরা! হাঁটুর চোটেই কি কমে গিয়েছিল আগুন ঝরানো গতি? বিসিসিআইয়ের তরফে মিলল ব্যাখ্যা




