সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : ভারতীয় ক্রিকেটের বাঁ-হাতি স্পিনার কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস শুরু করলেন মাঠের বাইরেও। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি চুপিসারে বাগ্দান সারলেন ছোটবেলার বান্ধবী বংশিকা (Vanshika)-র সঙ্গে। এলআইসির (LIC) কর্মী বংশিকার সঙ্গে প্রেম কাহিনি শুরু হয়েছিল স্কুল জীবনেই, আর এবার সেই সম্পর্ক পরিণতি পেতে চলেছে বিবাহবন্ধনে।

লখনউয়ের (Lucknow) শ্যামনগরে আয়োজিত হয়েছিল এই গোপন বাগ্দান অনুষ্ঠান। সূত্রের খবর, কুলদীপ ও বংশিকার দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা ছিলেন উপস্থিত। খুব কম সংখ্যক আমন্ত্রিতদের মধ্যেই ছিলেন কুলদীপের ক’য়েকজন বন্ধু এবং ক্রিকেট জগতের কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders) তারকা রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh)। তিনিই প্রথম কুলদীপের বাগ্দানের খবর ‘ফাঁস’ করেন ইনস্টাগ্রামে একটি স্টোরির মাধ্যমে। এরপর থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

বাগ্দান সম্পন্ন হলেও কুলদীপ যাদব তা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি খুব ব্যক্তিগত রেখেছিলেন ভারতীয় দলের এই স্পিনার। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নিজেই একটি পোস্টে সুখবর ভাগ করে নেন তিনি এবং বংশিকা। যদিও তাঁদের বাগ্দানের কোনও ছবি এখনও পর্যন্ত কুলদীপ নিজে শেয়ার করেননি।
বংশিকার সঙ্গে কুলদীপের সম্পর্ক বহু বছরের। শৈশবেই আলাপ, তারপর বন্ধুত্ব ও ধীরে ধীরে প্রেম। তবে কখনও তাঁরা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় আসেননি বা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনেননি। নেটিজেনদের কাছে বংশিকা যেন একেবারেই নতুন একটি মুখ। আর তাতেই কৌতূহল আরও বেড়েছে।নেটপাড়ায় এখন একটাই প্রশ্ন কে এই বংশিকা? সূত্রের খবর, বংশিকার জন্ম ও বড় হওয়া লখনউয়ের শ্যামনগরে। তিনি এলআইসির একজন কর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। মিডিয়ার আলো থেকে বহু দূরে থাকা এই তরুণী নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়েই প্রতিষ্ঠিত। কখনওই সেলেব স্ট্যাটাসের মোহে পড়ে তারকাসুলভ আচরণ করতে দেখা যায়নি তাঁকে। কুলদীপ যাদব যখন কেরিয়ারে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন, তখনও তাঁর পাশে ছিলেন বংশিকা। এটাই কুলদীপের কাছে সবচেয়ে বড় ভরসা। কুলদীপের (Kuldeep Yadav) এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান, “ওদের সম্পর্ক অনেক দিনের। কিন্তু কেউ জানত না। বংশিকা খুব সাধারণ, খুব ভাল মেয়ে। কুলদীপ ওকে খুব সম্মান করে।”

বাগ্দানের দিন কুলদীপ পরেছিলেন ক্রিম রঙের শেরওয়ানি, আর বংশিকা সেজেছিলেন উজ্জ্বল কমলা রঙের লেহেঙ্গায়। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আংটি বদল করে একে অপরকে তাঁরা চিরজীবনের প্রতিশ্রুতি দেন। অনেকেই মনে করছেন, এখনকার দিনে যখন সেলেব সম্পর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া মাতিয়ে রাখে, সেখানে কুলদীপ ও বংশিকার সম্পর্ক যেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। গোপনীয়তা বজায় রেখে, আত্মমর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে তাঁরা নিজেরাই ঠিক করেছেন কীভাবে নিজের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেবেন।

বিয়ের দিন নিয়েও আগ্রহ তুঙ্গে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ২৯ জুন কুলদীপ ও বংশিকার চার হাত এক হবে। কিন্তু কুলদীপের ইংল্যান্ড সফর ঘিরে টেস্ট সিরিজের ব্যস্ততার কারণে আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু বছর শেষে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে বিয়ের দিন চূড়ান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তার বন্যা বয়ে গিয়েছে কুলদীপের উদ্দেশ্যে। অনেক ভক্তই লিখেছেন, “ব্রেকিং নিউজের মতো লাগছে এটা। তবে মিষ্টি খবর।” এক অনুরাগী কুলদীপকে উদ্দেশ করে লেখেন, “বোলিং যেমন নিখুঁত, তেমনই জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিখুঁত বেছে নিয়েছেন!” আবার ক্রিকেট জগতের অনেকেই কুলদীপ ও বংশিকাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং ক্রীড়া বিশ্লেষকরাও এই খবর সামনে আসার পর শুভকামনা জানিয়েছেন এই নতুন দম্পতিকে।এখন দেখা যাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচীর মধ্যে সময় বের করে কুলদীপ যাদব কবে বসেন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিয়ের ইনিংসে। তবে একথা বলা যেতেই পারে, মাঠে যেমন মুগ্ধ করেন তাঁর স্পিন ম্যাজিক দিয়ে, মাঠের বাইরে তিনি যেন আরও বেশি প্রশংসাযোগ্য তাঁর পরিণত এবং সংযত আচরণ দিয়ে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rinku-Priya Love story : রিঙ্কু-প্রিয়ার প্রেমকাহিনি, ক্রিকেট মাঠ থেকে সংসদের অন্দরমহল




