US Tariff on Indian GDP | মার্কিন ৫০% শুল্কে ভারতের জিডিপি হুমকির মুখে, কী বলছে সরকার?

SHARE:

মার্কিন প্রশাসনের ৫০% শুল্কে ভারতের অর্থনীতি কি বিপদে? প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মন্তব্য ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানুন বিস্তারিত।

বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মার্কিন প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। আমেরিকার তরফে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পরেই ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও সরকারি মহলে বাড়ছে উদ্বেগ। সরকারের হিসেব অনুযায়ী, এই শুল্ক আরোপিত হলে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) সরাসরি প্রভাবিত হবে। প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. আনন্দ নাগেশ্বরন (V. Anantha Nageswaran) জানিয়েছেন, ২০২৬ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি ০.৫ থেকে ০.৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। নাগেশ্বরন ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আশা করি এই শুল্ক আরোপ স্বল্পস্থায়ী হবে। তবে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আগামী অর্থবছর পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে ভারতের অর্থনীতির ঝুঁকি আরও বাড়বে।” তিনি এও বলেন, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এপ্রিলে থেকে জুন পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮ শতাংশ, যা গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি।

ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সরকারের টার্গেট ২০২৬ অর্থবছরে ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে আট বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে এবং নতুন জিএসটি সংস্কার কার্যকর হয়েছে, তাতে ভারতীয় অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে বলেই আশা করা যায়। কিন্তু মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে পরিস্থিতি অস্থির হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। গতকালই মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “আমরা এখন এক ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কতদিন টিকে থাকতে পারবে আর রাশিয়ার অর্থনীতি কতদিন টিকতে পারবে, সেই হিসেব চলছে। আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একসঙ্গে রাশিয়ান তেল কেনা দেশগুলির ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারলে রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তখন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হবেন।” এই বক্তব্যের পরেই প্রশ্ন ওঠে, ভারত কি রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্যই মার্কিন শুল্ক নীতির প্রধান টার্গেট হয়ে উঠছে? প্রসঙ্গত, এর আগে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতীয় আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন। যুক্তি হিসেবে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, ভারত রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ যোগাচ্ছে। এবার ৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি তারই বিস্তৃত রূপ বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাসরি এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, “হ্যাঁ, আমি প্রস্তুত।” তবে তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই এক লাইনের জবাবই বাজারে ধাক্কা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারণ, এত বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপ ভারতীয় শিল্প, বিশেষত রপ্তানিমুখী খাত যেমন টেক্সটাইল, ফার্মা, স্টিল ও কেমিক্যালসকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ভারতের জন্য ঝুঁকির পাশাপাশি কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। নাগেশ্বরনের মতে, সরকারের নতুন জিএসটি সংস্কার কাঠামো বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আগামী বছর রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্য ৪.৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে পারব।” এ ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি নেমে আসায় মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক মহলও খানিকটা স্বস্তি পাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মার্কিন শুল্ক নীতি কতদিন চলবে? যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির ধারায় বাধা আসবেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের উচিত একদিকে বিকল্প বাজার খোঁজা, অন্যদিকে কূটনৈতিক স্তরে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা।অন্যদিকে, ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষেরও কৌতূহল বাড়ছে। কারণ, জিডিপির প্রভাব সরাসরি চাকরি, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বোঝা যাবে, মার্কিন শুল্ক নীতি ভারতের প্রবৃদ্ধিকে কতটা ধাক্কা দেবে। সরকার যেমন আশাবাদী, তেমনই বাজারের একাংশ কিন্তু এখনও শঙ্কিত।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : GST 2.0, PM Modi Double Dose, GST Reforms 2025 | জিএসটি সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি: ‘ভারতের উন্নয়নে ডাবল ডোজ’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন