সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : জীবনে সাফল্য অর্জন করার স্বপ্ন প্রত্যেকেই দেখে। তবে সেই সাফল্যের পথে থাকে অসংখ্য বাঁধা, ব্যর্থতা আর হতাশার অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে জয় করে যারা লক্ষ্যপূরণে অবিচল থাকতে পারে, তারাই রচনা করে অনন্য দৃষ্টান্ত। ঠিক তেমনই এক দম্পতির গল্প আজ আলোচনায় উঠে এসেছে। যুবরাজ মারমাট (Yuvraj Marmat) এবং পি. মনিকা (P. Monica)। ওঁরা UPSC-এর মতো কঠিনতম পরীক্ষায় সফল হয়ে কেবল নিজেদের জীবন পাল্টাননি, পাশাপাশি তাঁদের কাহিনি হয়ে উঠেছে আগামী প্রজন্মের কাছে জীবন্ত একটি অনুপ্রেরণা।
রাজস্থানের গঙ্গানগরের বাসিন্দা যুবরাজ মারমাট ছোট থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (Banaras Hindu University) থেকে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি.টেক সম্পূর্ণ করেন। শুধু তাই নয়, UPSC-এর আগে তিনি ইন্ডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেসে স্নাতক হয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন-এ (Indian Oil Corporation) চাকরিও করেন। তবে তাঁর মূল স্বপ্ন ছিল সিভিল সার্ভিস। আর সেই স্বপ্নের পথে প্রথম পদক্ষেপ নেন ২০১৬ সালে।প্রথম প্রচেষ্টা সফল হয়নি। দ্বিতীয়তেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। একাধিকবার ব্যর্থতার পরও হাল ছাড়েননি যুবরাজ। অবশেষে ২০২১ সালে, ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় তিনি UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৪৫৮ র্যাঙ্ক অর্জন করেন। সেই মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের এক বড় মোড়। পরে ২০২৩ সালে যখন তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়, তখন তিনি ইতিমধ্যেই ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) রায়গড়ে ডেপুটি কালেক্টরের পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অন্যদিকে, পি. মনিকার গল্পটিও সমানভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। তেলেঙ্গানার (Telangana) একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মনিকা মূলত মেডিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্রী। ফার্মাকোলজিতে স্নাতক হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সঙ্গীতে তাঁর আগ্রহ ছিল প্রচুর। কিন্তু দেশের সেবা করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁকে UPSC-এর পথে টেনে আনে।২০২১ সালের UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি সর্বভারতীয় ৬৩৭ র্যাঙ্ক অর্জন করেন। এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (IPS) নিজের জায়গা নিশ্চিত করেন মনিকা। UPSC CSE মেইনসে তিনি ৭১৫ নম্বর ও ইন্টারভিউয়ে ১৭৯ নম্বর পেয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছন।
Read : Rohit Sharma IPL captain, Rohit Sharma team change | মুম্বাইয়ের ক্যাপ্টেন এখন KKR এ হিটম্যান
এই দু’জনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় মুসৌরির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী জাতীয় প্রশাসন অ্যাকাডেমি (LBSNAA)। প্রশিক্ষণের সময় তাঁদের মধ্যে প্রথম আলাপ হয়, যা ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে পরিণত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে এবং অবশেষে ২০২৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। বিয়ের পরও কেবল ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও তাঁদের যাত্রা মিলেমিশে যায়। যুবরাজ ক্যাডার পরিবর্তনের আবেদন করেন এবং বর্তমানে দু’জনেই তেলেঙ্গানা ক্যাডারে কর্মরত। একদিকে IPS, অন্যদিকে ডেপুটি কালেক্টর, দু’জনের পেশাগত ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে একে অপরের প্রতি সমর্থন তাঁদের পথ চলাকে করেছে আরও সহজ। যুবরাজ ও মনিকার গল্প কেবল পরীক্ষার সাফল্যের নয়, এবং অধ্যবসায়, দৃঢ় মনোবল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও প্রতিচ্ছবি। যুবরাজ বলেছেন, “প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে ব্যর্থতা কোনোদিন চূড়ান্ত ফল নয়। সফলতার জন্য ধৈর্য আর অধ্যবসায় অপরিহার্য।” অন্যদিকে মনিকা জানিয়েছেন, “আমাদের দুজনের যাত্রা ভিন্ন হলেও লক্ষ্য ছিল একই, দেশের সেবা করা। আজ পাশাপাশি দাঁড়াতে পারছি, সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।” এই দম্পতির সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, ব্যর্থতা যতই আসুক, কখনও হাল ছাড়া উচিত নয়। কারণ শেষমেশ যে মানুষ লক্ষ্যপানে অবিচল থাকে, তার হাতেই ধরা দেয় সাফল্যের চাবিকাঠি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sunjay Kapoor Net Worth : সঞ্জয় কপূরের ১০,৩০০ কোটির সাম্রাজ্য: উত্তরাধিকারের প্রশ্নে আলোচনায় সামাইরা-কিয়ান




