রাজেশচন্দ্র দেবনাথ ★ আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫: উৎসবের মরসুমের আগে রাজ্য সরকার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নিয়ে এল সুখবর। আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা (Prof. Dr. Manik Saha) নবনিযুক্ত জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসার ও লাইব্রেরিয়ানদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে চাকরিপ্রার্থীরা যেমন আনন্দে আত্মহারা, তেমনি সাধারণ মানুষও আশা করছেন যে এর ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবায় নতুন গতি আসবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে (Kiran Gitte), স্বাস্থ্য অধিকর্তা তপন মজুমদার (Tapan Majumdar), শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন. সি. শর্মা (N.C. Sharma) -সহ রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তরের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা। উপস্থিতির ভিড় দেখে স্পষ্ট ছিল এই নিয়োগ রাজ্যে যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, তা শুধু চাকরিপ্রার্থীদের নয়, তাদের পরিবারকেও স্বস্তি দিয়েছে। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর নবনিযুক্তদের মধ্যে অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে জানান, উৎসবের আগে এই নিয়োগ তাদের কাছে অমূল্য উপহার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর হাতে অফার লেটার পেয়ে তাঁরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা এদিন বলেন, “আমাদের সরকার জনকেন্দ্রিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অগ্রণী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, “আজ যারা নিয়োগপত্র পেলেন, তাঁদের নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষা পরিকাঠামোকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নাগরিক-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে এই নিয়োগ বড় ভূমিকা রাখবে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী নবনিযুক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আরও চাকরির সুযোগ আসবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর কথায়, “বেকারদের কথা মাথায় রেখে আমরা আগামী দিনে আরও চাকরি পূরণের পরিকল্পনা করছি। সরকারের দরজা সবসময় খোলা থাকবে।”
বস্তুত, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন রাজ্যের হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতী। অনেকেই মনে করছেন, এই নিয়োগের ফলে অন্য ক্ষেত্রেও চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো শক্তিশালী হলে সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে এদিন মন্তব্য করেন, “চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়ানো হলে জেলা ও গ্রামীণ স্তরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। সরকার এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।” শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন. সি. শর্মা বলেন, “লাইব্রেরিয়ানদের নিয়োগ শিক্ষা পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করবে। বইয়ের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।”
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের কথায়, এর ফলে তাঁদের জীবনে স্থায়িত্ব আসবে। দীর্ঘ সময় ধরে বেকারত্বের চাপ তাঁদের পরিবারেও প্রভাব ফেলছিল। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর তা থেকে মুক্তি মিলল। নবনিযুক্ত এক চিকিৎসক বলেন, “আমি রাজ্যের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। সরকার এই সুযোগ দেওয়ায় আমি গর্বিত।” অন্য এক লাইব্রেরিয়ান যোগ করেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে কাজ করার স্বপ্ন ছিল আমার। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হল।” অন্যদিকে, রাজ্যে শারদীয় উৎসবের আগে এই নিয়োগ নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। প্রশাসনিক দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এর ফলে জনমানসে সরকারের ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় হবে। রাজ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে এই পদক্ষেপ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে অনেকেই মনে করছেন। এদিনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আগরতলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। প্রজ্ঞা ভবনের প্রাঙ্গণে চাকরিপ্রার্থীদের হাসি, আবেগ, আর পরিবারের আনন্দ মিলেমিশে নতুন সুর বেজে উঠল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Debprasad Bag MLA Kalna | ঐতিহাসিক দিনে কালনায় বিদ্যালয়ে টিনের সেড উদ্বোধন, ছাত্রীদের মুখে খুশির ঝলক




