কৌশিক রায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: পুজোর প্রাক্কালে অবশেষে প্রকাশিত হল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (TET) ২০২৩-এর ফলাফল। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে West Bengal Board of Primary Education (WBBPE) -এর সরকারি ওয়েবসাইটে রেজাল্ট দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলেও পাশের হারকে কেন্দ্র করে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পর্ষদ সূত্রে খবর, মোট আবেদন করেছিলেন ৩,০৯,০৫৪ জন প্রার্থী। তার মধ্যে পরীক্ষা দেন ২,৭৩,১৪৭ জন। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী হিসেবে পাশ করেছেন মাত্র ৬,৭৫৪ জন। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের পাশের হার পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলির তুলনায় অনেকটাই কম। বোর্ড প্রকাশিত মেধাতালিকায় দেখা যাচ্ছে, প্রথম দশের মধ্যে জায়গা পেয়েছেন মোট ৬৪ জন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই টেট পরীক্ষা হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর। দীর্ঘ আইনি জটিলতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রার্থীদের চাপের পর অবশেষে পুজোর আগে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মুখে এখন খুশির ঝলক। বোর্ডের সভাপতি গৌতম পাল (Goutam Pal) আগেই জানিয়েছিলেন, “২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট সংক্রান্ত আইনি জটিলতা মেটানো না গেলে নতুন ফল প্রকাশ সম্ভব নয়।” তবে প্রার্থীদের দাবি ছিল, সেই বিলম্ব অযৌক্তিক। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের টেট পরীক্ষায় ২৩টি প্রশ্ন ভুল ছিল। একইভাবে ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় ২৪টি প্রশ্নে ভুল ধরা পড়ে। সেই বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরেই এবারের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পাশের হার এতটাই কম যে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের মতে, এভাবে চলতে থাকলে যোগ্য প্রার্থী তৈরি করতে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোতেই বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন। ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় প্রায় ৫৩,০০০ জন যোগ্য প্রার্থী হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে এবারের মাত্র ৬,৭৫৪ জন প্রার্থী পাশ করা হতাশাজনক বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে মোট প্রায় ৬০,০০০ প্রার্থী লড়াই করবেন প্রাথমিক শিক্ষক পদে প্রায় ১৩,০০০ শূন্যপদের জন্য। শিক্ষা মহলের একাংশ বলছে, “কম সংখ্যক প্রার্থী পাশ করা মানে শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ। পরীক্ষার্থীরা এতদিন ধরে যে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তার প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ এবং সহজপাঠ্য প্রশ্নপত্র প্রয়োজন।”

অন্যদিকে, উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান তাদের জীবনে এক নতুন অধ্যায়। এক প্রার্থী বলেন, “বছরের পর বছর আমরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম। পুজোর আগে ফল প্রকাশ হওয়ায় এবার অন্তত আনন্দ নিয়ে উৎসব পালন করতে পারব।” উল্লেখ্য যে, এখন মূলত চ্যালেঞ্জ চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যাচ্ছে, আদালতের জটিলতা এবং প্রশাসনিক বিলম্ব প্রার্থীদের ভবিষ্যতকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। তবে শিক্ষা দফতর আশ্বাস দিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রসঙ্গত, টেট ২০২৩-এর ফল প্রকাশ যেমন খুশির হাওয়া বইয়ে দিয়েছে, তেমনই কম পাশের হার নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই বিতর্কের মধ্যে দিয়েই শুরু হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের নতুন অধ্যায়।
ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Pharmacy Exam | সময় মতো পৌঁছেও পরীক্ষায় বসতে পারলেন না শতাধিক পরীক্ষার্থী, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক পরীক্ষার্থীরা




