Supreme Court | দিল্লির পথকুকুর সমস্যা: সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়

SHARE:

রীতা বিশ্বাস পান্ডে : দিল্লির রাস্তায় পথকুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের থেকে সৃষ্ট বিপদ নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ছিল। সম্প্রতি, সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্যার সমাধানে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে, যা একদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে, অন্যদিকে পশুপ্রেমী এবং পশু অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা : সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের সরকার এবং পৌর কর্তৃপক্ষকে কিছু কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। রায়ের মূল বিষয়গুলো হল-
পথকুকুর অপসারণ: সমস্ত পথকুকুরকে রাস্তা, কলোনি এবং জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: অবিলম্বে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে যেখানে এই কুকুরগুলোকে রাখা হবে। প্রাথমিকভাবে, অন্তত ৫,০০০ কুকুর রাখার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টিকাকরণ ও নির্বীজকরণ: আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কুকুরদের নির্বীজকরণ (sterilisation) এবং টিকাকরণ (immunisation) করা বাধ্যতামূলক।
রাস্তায় ফেরানো নিষিদ্ধ: একবার আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পর কোনও কুকুরকে আর রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ: এই রায় বাস্তবায়নে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হেল্পলাইন চালু: কুকুর কামড়ানোর ঘটনা জানানোর জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জননিরাপত্তা বনাম পশু অধিকার: এই রায়ের মূল লক্ষ্য হল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা পথকুকুরের আক্রমণের শিকার হয়, যা একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। সুপ্রিম কোর্ট এই দিকটি বিবেচনা করে জনস্বার্থে এই রায় দিয়েছে।
তবে, এই রায় নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পশুপ্রেমী ও পশু অধিকার রক্ষা সংস্থা এই রায়ের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, এটি “অবৈজ্ঞানিক” এবং “অমানবিক”। তারা যুক্তি দিয়েছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিদ্যমান পশু সুরক্ষা আইন (Animal Birth Control Rules, 2023)-এর পরিপন্থী। তাদের মতে, নির্বীজকরণ (sterilisation) এবং টিকাকরণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, কিন্তু কুকুরদের স্থায়ীভাবে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া কোনও সমাধান নয়। এতে কুকুরগুলোর জীবন বিপন্ন হবে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বাস্তবায়ন করা দিল্লি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিপুল সংখ্যক কুকুরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা, তাদের পরিচর্যা করা এবং এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা একটি কঠিন কাজ। এর জন্য প্রচুর আর্থিক সংস্থান ও জনবলের প্রয়োজন হবে।
এই রায় একদিকে জননিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে, অন্যদিকে পশুপ্রেমীদের উদ্বেগকে উপেক্ষা করতে পারেনি। এখন দেখার বিষয়, দিল্লি সরকার কীভাবে এই দুই বিপরীতমুখী দিককে সামলে উচ্চ আদালতের রায়টি কার্যকর করতে পারে। এই রায় ভারতের অন্যান্য শহরের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে, যেখানে পথকুকুর একটি বড় সমস্যা।

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন