সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেজিং : চিনের হুবেই প্রদেশের জিয়াংইয়াং (Jiangyang) শহরে এক চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা আলোড়ন তুলেছে গোটা দেশজুড়ে। প্রবল রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে যাওয়া একটি পাথরের উপর বসে মাত্র ১০ সেকেন্ডে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন একজন ৭২ বছর বয়সি বৃদ্ধা। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর নিতম্বে হয়েছে ‘থার্ড-ডিগ্রি বার্ন’। অর্থাৎ পুড়ে গিয়েছে ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত। চিকিৎসার জন্য করতে হয়েছে অস্ত্রোপচারও। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনার ঝুঁকি শুধুমাত্র পাথর নয়, যে কোনও ধাতব বা কঠিন উপাদানের সঙ্গেই রয়েছে, বিশেষ করে তাপপ্রবাহ চলাকালীন সময়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও South China Morning Post (SCMP)-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বৃদ্ধার নাম ওয়াং (Wang)। তিনি নিজের বাড়ির বাগান পরিষ্কার করছিলেন। প্রচণ্ড রোদে কাজ করার পর হালকা বিশ্রামের আশায় একটি পাথরের উপর বসে পড়েন। কিন্তু বৃদ্ধা বুঝতে পারেননি, ওই পাথরটি ঘন্টাখানেক রোদের নিচে পড়ে থেকে উত্তপ্ত হয়ে আগুনের মতো গরম হয়ে উঠেছে। বৃদ্ধা প্রচণ্ড উত্তাপে নিতম্বে জ্বালা অনুভব করলেও সঙ্গে সঙ্গে উঠতে পারেননি ওয়াং। কারণ তাঁর বহুদিনের হাঁটুর সমস্যা। ততক্ষণে শরীরের নিচের অংশে তীব্র দাহ সৃষ্টি হতে থাকে। কষ্টে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে তাঁকে পাথর থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু যা হওয়ার, ততক্ষণে তা হয়ে গিয়েছে। মাত্র ১০ সেকেণ্ডেই পুড়ে যায় বৃদ্ধার নিতম্ব। প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও সন্ধ্যায় বৃদ্ধার অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। ফোলা ভাব ও তীব্র জ্বালা নিয়ে পরদিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ত্বকে ঘটে গিয়েছে তৃতীয় ডিগ্রির দগ্ধ (Third-Degree Burn)। অবিলম্বে অস্ত্রোপচার ছাড়া এই ক্ষত সারানো সম্ভব নয়। শারীরিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও, ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসক কিয়ান বেন (Qian Ben), যিনি ওই অস্ত্রোপচার করেন, বলেন, ‘থার্ড-ডিগ্রি পোড়া মানে ত্বকের সমস্ত স্তর সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া। এটা এমন ক্ষতি যেখানে ওষুধ বা প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যকর হয় না। আমাদের নেক্রোটিক টিস্যু অপসারণ করতে হয়েছে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল, তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।’ ডাক্তার কিয়ান আরও বলেন, ‘এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, তাপপ্রবাহ চলাকালীন পাথর, ধাতব বেঞ্চ, বাইকের আসন, বা অন্য কোনও কঠিন বস্তু মারাত্মক গরম হয়ে উঠতে পারে। মাত্র ক’য়েক সেকেন্ডের সংস্পর্শে শরীরে ফোস্কা বা আরও বড় ক্ষতি হতে পারে। সকলকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।’
এই ঘটনার ভিডিও এবং ছবি ভাইরাল হয়ে পড়েছে চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘একবার বাইক রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম। তাতে উঠে বসার পরই পুড়ে গিয়েছিল নিতম্ব। সেই যন্ত্রণা আমি আজও ভুলতে পারি না।’ অন্য এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘গরমকালে বাইরে পড়ে থাকা কোনও বস্তুতে হুট করে বসে পড়বেন না। আগে দেখে নেবেন ওটা কতটা গরম।’ দক্ষিণ চিন জুড়ে এই মুহূর্তে চলছে চরম তাপপ্রবাহ। হুবেই, হুনান (Hunan), চংকিং (Chongqing) সহ একাধিক প্রদেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। এই আবহাওয়ায় শুধু মানুষ নয়, পশুপাখি ও গৃহপালিত প্রাণীরাও পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। গবেষণা বলছে, পাথর, সিমেন্ট, ধাতব বেঞ্চের মতো উপকরণ রোদের নিচে দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলে তাদের তাপমাত্রা ৬০-৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এই মাত্রার গরম মাত্র ক’য়েক সেকেণ্ডেই ত্বকের স্তর ঝলসে দিতে পারে।
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তীব্র গরমের দিনে বাইরে বসার আগে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিতে হবে আসনটি উত্তপ্ত কিনা। সম্ভব হলে কোনও কাপড় বা তোয়ালে বিছিয়ে বসা উচিত। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ওয়াংয়ের (Wang) এই অভিজ্ঞতা আজ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ব্যথা নয়, কিন্তু একটা বড় সতর্কবার্তা সকলের জন্য। তীব্র রোদে বাইরে থাকা বস্তুর সংস্পর্শে আসা মানে একেবারে আগুনের সামনে দাঁড়ানো। তাই এই গরমে সচেতন থাকাই একমাত্র উপায়, নয়ত ১০ সেকেন্ডের ভুল হতে পারে আজীবনের দুঃখ।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Beauty Tips | রাতের ঘুমে সৌন্দর্যের চাবিকাঠি, মুখে ঘি লাগানোর সাত দিনের ম্যাজিক!




