Sukhendu Sekhar Roy resignation, TMC internal conflict | ইস্তফার পরেই বিস্ফোরক সুখেন্দু: তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ প্রাক্তন সাংসদের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় ফেললেন তৃণমূল কংগ্রেস -এর প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি যেভাবে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তা রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোড়ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই নেতা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, ‘দল এমন মানুষের হাতে গিয়েছে, যাদের অতীত প্রশ্নবিদ্ধ।’ তাঁর মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বেড়েছে। ইস্তফার পর সুখেন্দু বলেন, ‘ক্ষমতা এতটাই মাথায় উঠে গিয়েছিল যে তারা ভাবত, কেউ তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘যারা একসময় মাটিতে নেমে কাজ করতেন, সাধারণ মানুষের পাশে থাকতেন, তারা ক্রমে দূরে সরে গিয়েছিলেন।’ তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে নেতৃত্বের একাংশ মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিল।

আরও পড়ুন : Tajpur Port West Bengal | তাজপুর থেকে সরে দাদনপাত্রবাড়, গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে নতুন মোড়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় প্রস্তাব ঘিরে চর্চা

রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে সুখেন্দু উল্লেখ করেন সাম্প্রতিক ভোটের ফলাফলও। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি (Bharatiya Janata Party) সরকার ক্ষমতায় এসেছে, অথচ সেই ফলাফল নিয়ে দলের ভেতরে কোনও পর্যালোচনা হয়নি।’ তিনি বলেন, ভোটের বুথে বিপুল শতাংশ ভোট পড়লেও সেই তথ্যের গভীরে গিয়ে কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়নি। এই উদাসীনতাকেই তিনি দলের দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন দলের বর্তমান চরিত্র নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে সংগঠন গড়েছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় উঠে এসেছে দালাল, চোর, ডাকাত ও ধর্ষকরা।’ এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত একজন নেতার মুখে এমন মন্তব্য অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আজ টেলিভিশন খুললেই দেখা যাচ্ছে কার বাড়ি কত বড়, কোথায় সুইমিং পুল, কোথায় বিদেশি পাখি। কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে এনে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন।

আরজিকর (RG Kar) হাসপাতাল কাণ্ড নিয়েও সরব হয়েছেন সুখেন্দু। তিনি বলেন, ‘সমাজে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনা সবচেয়ে নিন্দনীয়। আরজি করের ঘটনার পরে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু রাজনৈতিক কর্মী নয়, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সেই সময় প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘যারা কোনওদিন মিছিলে যাননি, তারাও রাস্তায় ছিলেন।’ এই প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘তখন নেতৃত্ব বা প্রশাসনের তরফে কোনও আলোচনা হয়নি।’ তাঁর মতে, ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যে মানুষ ক্ষমতায় এনেছিল, তারাই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে।’ ইস্তফার পর সুখেন্দু নিজেকে ‘সাধারণ নাগরিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নতুন সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অন্যতম দাবি, গত পাঁচ বছরে রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে যে সব কেনাকাটা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। তিনি বলেন, ‘ফরেনসিক অডিট করা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত তথ্য সামনে আসে।’ এই দাবি স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ‘মন্ত্রী, পঞ্চায়েত নেতা, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যক্তি, সবার সম্পত্তির তদন্ত হওয়া উচিত।’ তাঁর এই মন্তব্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুখেন্দু শেখর রায়ের এই পদত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে। দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন নেতার এভাবে সরে দাঁড়ানো এবং প্রকাশ্যে এত তীব্র সমালোচনা করা বিরল ঘটনা। তাঁর এই মন্তব্যের পর তৃণমূলের ভেতরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। একদিকে আরজিকর কাণ্ডের অভিঘাত, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, এই দুইয়ের মিলিত প্রভাব রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। সুখেন্দুর বক্তব্য সেই পরিস্থিতিকেই সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে এই কিন্তু, ঘটনা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত একটাই পরিষ্কার, সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফা ও মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের দ্বার খুলে দিয়েছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee FIR, Dharmatala Controversy | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে এফআইআর, সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক ঝড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন