সাশ্রয় নিউজ ★ রামপুরহাট : বীরভূম জেলার রামপুরহাট (Rampurhat) শহরে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর (Class 11 Student) রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের মেসের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। সঙ্গে মিলেছে একটি চিঠি, যেখানে লেখা রয়েছে, “কায়েম (Kayem), তুমি ৪০টি গোলাপ দিও আমার কবরে।” এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই হতবাক স্থানীয় মানুষ ও পরিবার। মৃতা ছাত্রী বীরভূমের চাঁদপাড়া হাইস্কুলের (Chandpara High School) একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন দুপুরে এক শিক্ষক (Teacher) ফোন করে ছাত্রীর বাবাকে জানান যে, তাঁর মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়েই মেসে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ও ঘর থেকে ওই চিঠিটিও নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর পেছনে রয়েছে এক শিক্ষকের মানসিক নিগ্রহ। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
চিঠিতে কায়েমের (Kayem) নাম থাকার জেরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, কায়েম সম্পর্কে ছাত্রীর পিসতুতো দাদা (Maternal Cousin)। স্থানীয় সূত্রে খবর, দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবারের একাংশের দাবি, এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি মেয়েটির পরিবার। তাই মানসিক যন্ত্রণায় শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়েছে সে। চিঠিতে লেখা, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। কায়েম, তুমি ৪০টি গোলাপ দিও আমার কবরে।” এই কথাগুলি তদন্তকারীদেরও ভাবাচ্ছে। একটি ১৭ বছরের কিশোরীর এমন মৃত্যুতে প্রেমের জটিলতা, মানসিক অবসাদ ও পারিবারিক চাপে আত্মহত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।অন্যদিকে, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটি তার এক শিক্ষকের আচরণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল বলে উল্লেখ। পুলিশ সূত্রে খবর, আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষককে ও জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসছে একের পর এক তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই শিক্ষক ছাত্রীর পরিবারকে একাধিকবার ফোন করেছিলেন। এমনকী ঘটনার দিনও তিনিই প্রথম ছাত্রীর বাবাকে মৃত্যুর খবর দেন। এই ‘অতি-সক্রিয়তা’ সন্দেহের উদ্রেক করছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, “আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। ওর পরিবার জানে, আমি ওকে বাঁচানোরই চেষ্টা করেছিলাম।”
পুলিশ সূত্রে খবর, “চিঠির ভাষা ও মেয়েটির ব্যক্তিগত সম্পর্ক দুই দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।” আপাতত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কায়েমকেও (Kayem)। মেসের অন্য ছাত্রীরা জানিয়েছে, সম্প্রতি মেয়েটি প্রায়ই একা বসে কাঁদত। কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলত না। এমনকী, ফোনেও নাকি কাউকে জানিয়েছিল, “সব কিছু শেষ করে দেব।” এই ঘটনার জেরে রামপুরহাটে শোকের ছায়া নেমেছে। স্থানীয়রা বলছেন, “স্কুলে পড়া মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। পরিবারের উচিত সন্তানদের মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখা।” অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ্যে আনার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ৪০টি গোলাপের আর্জি নিয়ে লেখা সেই শেষ চিঠি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যা উত্তর খুঁজছে প্রশাসন, পরিবার এবং সমাজ।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Olympic Cricket 2028, Virat Kohli comeback |অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট, কোহলির (Virat Kohli) প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন ঘনাচ্ছে!




