Spa Centre | স্পার আড়ালে ‘রঙিন’ কারবার, জয়পুরে চমকে দেওয়া পুলিশি হানা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ জয়পুর : নামেমাত্র ‘স্পা’ (Spa Centre) ভিতরে রীতিমতো অন্ধকার জগতের রমরমা। রাজস্থানের (Rajasthan) জয়পুরের (Jaipur) ভগত কি কোঠি (Bhagat Ki Kothi) থানা এলাকার এক বহুল আলোচিত স্পা সেন্টারে পুলিশি অভিযান চালিয়ে পাওয়া যায়, অপ্রত্যাশিত দৃশ্য। বাইরের ঝলমলে আলো আর নরম গন্ধে মোড়া পরিবেশের আড়ালে যা চলছিল, তা দেখে হতবাক হয়ে যান অভিযানে থাকা পুলিশকর্মীরাও। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হতে সময় লাগেনি। স্পার মোড়কে চলছিল এক অভিনব দেহব্যবসার সাম্রাজ্য। সূত্রের খবর, রবিবারের দুপুরে আচমকা হানা দেয় পুলিশ। বাইরের অংশে তখনও স্পা ও বিউটি থেরাপির স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল। কিন্তু ভিতরের ঘরের দরজা ঠেলে ঢুকতেই, প্রকাশ্যে এল আসল চিত্র। অন্তর্বাস পরিহিত, কখনও তারও কম পোশাকে একাধিক নারী-পুরুষ, আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে যায় পুলিশের চোখে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে ১১ জন মহিলা এবং ১২ জন পুরুষ। জয়পুর পুলিশ কমিশনারেটের (Jaipur Police Commissionerate) এই অভিযান ঘিরে গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানের নেতৃত্ব দেন পুলিশ কমিশনার রাজেন্দ্র সিং (Rajendra Singh)। তিনি জানান, “বহুদিন ধরেই এই স্পা সেন্টার নিয়ে অভিযোগ আসছিল। বাসনি শপিং সেন্টার (Basni Shopping Center)-এর কাছেই অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ভেতরে নয়, বাইরেও প্রচুর কাস্টমার টানার জন্য বিলাসবহুল চেহারা তৈরি করেছিল। কিন্তু ভিতরে যা চলছিল, তা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক।” এই অভিযানে জানা গেছে, স্পা-র ভেতরে ‘থেরাপি রুম’-এর আড়ালে ছিল একাধিক খাট, পর্দায় ঘেরা ছোট ছোট ঘর। ভিতরে চলছিল কথিত ‘স্পেশাল সার্ভিস’, যার জন্য কাস্টমারদের কাছ থেকে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই স্পা দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকা জুড়ে অবৈধ দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে ক’য়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হলেও, অনেকেই এসেছিলেন বাইরের জেলা থেকে। এমনকি কেউ কেউ অন্য রাজ্য থেকেও এখানে কাজ করছিল বলে জানা গেছে। “জিজ্ঞাসাবাদে কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। অনেকেই পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আগে থেকেই চারপাশ ঘিরে রাখায় কেউ বেরোতে পারেনি,” বলেন তদন্তে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক।

Read : Hampi Travelog | মাতাঙ্গ পাহাড়ের চূড়ায় নিঃশব্দ বিস্ময়, সূর্যাস্তের আলোয় হাম্পি

স্পা’র মালিক ও পরিচালকের খোঁজে এখন তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। অনুমান করা হচ্ছে, এই ব্যবসার নেপথ্যে রয়েছে একটি সংগঠিত চক্র, যারা বিভিন্ন শহর ও রাজ্যে স্পা ও বিউটি ক্লিনিকের আড়ালে বেআইনি কারবার চালিয়ে আসছে। পুলিশ কমিশনার রাজেন্দ্র সিং আরও জানান, “আমরা শুধু এই একটি স্পাই নয়, গোটা শহর জুড়ে যেসব স্পা সেন্টারকে ঘিরে সন্দেহ রয়েছে, তাদের ওপর নজরদারি শুরু করেছি। প্রয়োজন হলে একইভাবে হানা চালানো হবে। জয়পুর শহরকে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।” একটি সোর্স অনুযায়ী, “স্পার রিসেপশন ও বাইরে পুরোপুরি বৈধ ব্যবসার ছাপ তৈরি করলেও, ভিতরের স্টাফ এবং ক্লায়েন্টদের গোপনে আলাদা সংকেত পাঠিয়ে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর দরজা বন্ধ করে চালানো হতো দেহব্যবসা। বহু সময় স্থানীয় পুলিশকে ঘুষ দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু এবার তারা সফল হয়নি।” পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশেষ করে যৌনবৃত্তি রোধ আইন (Prevention of Immoral Trafficking Act – PITA)-এর আওতায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ধৃতদের আদালতে তোলা হলে, ক’য়েকজনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

-প্রতীকী চিত্র

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “আমরা বুঝতেই পারিনি এতদিন কী ভয়ানক জিনিস চলছিল আমাদেরই পাড়ায়। বাইরে থেকে যা দেখে কিছুই বোঝা যায় না। পুলিশ যদি এইভাবে অভিযান না চালাত, আমরা হয়তো আরও দিন অন্ধকারেই থাকতাম।” এই ঘটনাকে ঘিরে রাজস্থানের প্রশাসনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর গোটা শহরের। অন্যদিকে, যারা বেআইনি পথ ধরে স্পার নামে ব্যবসা করছেন, তাদের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা ‘কেউ রেহাই পাবে না।’

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sara Ali Khan | ধর্ম নয়, বিশ্বাসই আসল, ট্রোলের মুখেও নিজের পথে সারা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন