তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ : একটি সফর বদলে দিতে পারে পুরো জীবন। বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা (Sonakshi Sinha) ও অভিনেতা জাহির ইকবাল (Zaheer Iqbal)-এর প্রেমকাহিনির মাঝখানে সেই সফরের একটি পাতা যেন রূপকথার মতো খুলে গিয়েছিল।

সাত বছরের প্রেম, তার উপর হঠাৎ একটি সফরে জীবনের মোড় ঘুরে গেল একেবারে বিয়ের দিকে।এক বছরের দাম্পত্যে পৌঁছে আজ যখন তাঁরা ফিরে তাকান, তখন স্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করে জাহিরের সেই প্রস্তাব, নর্দার্ন লাইটসের আলোয় ভাসমান প্রেম।তাদের প্রেমের সূত্রপাত বলিউড ‘ভাইজান’ সলমন খানের (Salman Khan) সূত্রে। কিন্তু প্রেম থেকে বিয়ে, সেই পথটা মোটেও সরল ছিল না। একান্ত এক সফরে গিয়েই ঘটল সব চমক। ফিনল্যান্ডে (Finland) একত্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন সোনাক্ষী ও জাহির। সুমেরু অঞ্চলের সেই নীল-সবুজ আলো, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রেমিকযুগল ভিড় করেন জীবনের সেরা মুহূর্ত কাটানোর আশায়, ঠিক সেখানেই সোনাক্ষীর জীবনে এল নাটকীয় পালাবদল।সোনাক্ষীর কথায়, “আমি তো ভাবতেও পারিনি যে এই ট্রিপে বিয়ের প্রস্তাব পাব। আমরা একসঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন ফিরলাম, তখন আমার সঙ্গী প্রেমিক নয়, আমার হবু বর!”
Read : Suchitra Sen : মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জীবনের মোড় ঘোরানো গল্প : একটি ইতিহাস

এই সফরের আগেই অবশ্য জাহির নিজের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আশীর্বাদ চেয়ে নিয়েছিলেন। পরিকল্পনাটি ছিল একান্ত গোপনে। সোনাক্ষী প্রথমে বুঝতেই পারেননি প্রেমিক মজা করছেন নাকি সত্যি। এক মুহূর্তে অবিশ্বাস, পরের মুহূর্তে বিস্ময় এভাবেই এসে পড়ল সেই দিনটা, যেদিন নর্দার্ন লাইটসের তলায় হাঁটু মুড়ে বসে জাহির বললেন, “বিয়ে করবে আমায়?” সেই মুহূর্তকে এখনও স্বপ্ন বলেই মনে হয় সোনাক্ষীর কাছে। তাঁর মতে, “এটা যেন কোনও ছবির দৃশ্য। সুমেরু প্রভায় ঢেকে থাকা আকাশ, তুষারপাতের মাঝে জাহিরের প্রস্তাব। মনে হচ্ছিল যেন সবটা থেমে গেছে সেই মুহূর্তে।”

এমন অভিজ্ঞতার পর আর দ্বিতীয়বার ভাবেননি। সিদ্ধান্ত একটাই, জীবনটা জাহিরের সঙ্গে কাটাতে চান। সেই পথ সহজ ছিল না। শোনা যায়, ধর্ম আলাদা হওয়ায় সোনাক্ষীর পরিবার এই সম্পর্কে প্রথমে সম্মতি দিতে চায়নি। কিন্তু ভালবাসার কাছে বাধা বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি।
দু’জনেই নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। তাঁদের সম্পর্ক, পরিণতি পায় ২০২৪ সালের ২৩ জুন। যেদিন তাঁরা আইনি ভাবে বিয়ে করেন।
সোনাক্ষী ও জাহির। ছবি : সংগৃহীতএই বিয়ে ছিল খুব সাধারণ। কোনও আড়ম্বর ছিল না। ধর্মীয় রীতি নয়। আইনি পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান। পরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ছিল এক আন্তরিক প্রীতিভোজ। বিয়ের সাজও ছিল প্রায় অনাড়ম্বর। বলিউডে যেখানে সেলেব বিয়েতে আতিথেয়তা থেকে শুরু করে পোশাক পর্যন্ত সবই চর্চার বিষয়, সেখানে সোনাক্ষী ও জাহির নিজেদের সম্পর্কের মতোই সাদামাটা রেখেছেন সবটা। তবে সেই সাদামাটার মধ্যেও লুকিয়ে ছিল আন্তরিকতা, ছিল সত্যিকারের ভালবাসা। বিয়ের পরে তাঁদের সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, হাসিমুখের ছবি, একে অন্যকে সমর্থনের বার্তা সব মিলিয়ে তাঁদের দাম্পত্য যেন এক প্রশান্তির অধ্যায়।

সোনাক্ষী একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি প্রেম করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফিরলাম বাগদত্তা হয়ে। প্রেমের মধ্যেও এমন সিদ্ধান্ত আসে, যা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।” আজ তাঁদের সেই সফরের গল্প বলিউডের প্রেমকাহিনির অন্যতম হয়ে দাঁড়িয়েছে। রূপালি পর্দায় যেমন নাটকীয়তা থাকে, বাস্তব জীবনে তার চেয়েও বেশি নাটক ছিল এই সফরের মধ্যে। ভালবাসা, চমক, অভিমান সবই ছিল সেই নর্দার্ন লাইটসের আলোয়।বিয়ের এক বছর পরে দাঁড়িয়ে, তাঁদের প্রেম এখনও জীবন্ত, নতুন, স্বতঃস্ফূর্ত। আর তার সূচনা হয়েছিল এক ঝলকে নীল-সবুজ আলোয়, যা শুধু আকাশ নয়, প্রেমিক যুগলের হৃদয়ও আলোকিত করে দিয়েছিল চিরদিনের জন্য।
সব ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kofta Curry : রেস্তোরাঁর স্বাদ ঘরে আনুন, সহজেই বানিয়ে ফেলুন জমজমাট কোফতা কারি




