SIR West Bengal 2025 | সীমান্তে ভোটার তালিকায় অমিল! দুই জেলা বাদে শেষ ম্যাপিং, বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

SHARE:

জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে SIR নথি হিসাবে খারিজ করেছে। বাংলায় আধার ও আরও ১১টি নথি বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে চর্চিত বিষয় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর (SIR: Special Intensive Revision)। জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) যে কোনও মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরুর ঘোষণা করতে পারে, এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে দিল্লির সর্বস্তরের বৈঠক থেকে। তবে কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় যে রিপোর্ট উঠে এসেছে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সীমান্তবর্তী জেলা গুলিকে ঘিরে। কারণ, সাম্প্রতিক ‘ম্যাপিং অ্যান্ড ম্যাচিং’ (Mapping and Matching) প্রক্রিয়ায় চমকে দেওয়া কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে উল্লেখ। সূত্রের খবর, যা দেখে নির্বাচন কমিশনের একাংশও নাকি চিন্তিত।

সূত্রের খবর, দার্জিলিং (Darjeeling) ও জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) বাদে রাজ্যের বাকি সব জেলায় ভোটার তালিকার ম্যাপিং প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এই ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা এবং ২০২৫ সালের বর্তমান ভোটার তালিকার তুলনামূলক চিত্র তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, কোথায় ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, আর কোথায় ভোটার কমেছে তা বিশ্লেষণ করা। কিন্তু ফলাফল হাতে আসতেই সামনে এসেছে একাধিক অমিল। উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas), কোচবিহার (Cooch Behar) এবং পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) এই তিন জেলায় দেখা গিয়েছে, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের তালিকার মিল ৫০ শতাংশেরও নিচে। অর্থাৎ, এই তিন জেলার ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় থাকা ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল না। দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলায় মিল দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। সীমান্তবর্তী পশ্চিম বর্ধমানে মিল আরও কম, মাত্র ৪০ শতাংশের নিচে। সহজ কথায়, বর্তমান ভোটার তালিকায় থাকা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের নাম ২০০২ সালে ছিল না।

কোচবিহারে ৪৬ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে, আর কালিম্পং (Kalimpong)-এ তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা ভাল, সেখানে মিল ৬০ শতাংশ। তবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ছবিটা আরও করুণ। কমিশনের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এই জেলায় মিল পাওয়া গেছে মাত্র ৪১ শতাংশ। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য ব্যাখ্যা এসেছে। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “মৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়া, স্থানান্তরিত বাসিন্দাদের অন্যত্র ভোটার হওয়া, এসব কারণেই ১০০ শতাংশ মিল সম্ভব নয়।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কেন সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই অমিল এত বেশি? বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ (Illegal Infiltration)। তাঁদের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে, ফলে পুরনো তালিকার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই প্রসঙ্গে এক বিরোধী নেতার বক্তব্য, “এটা শুধু সংখ্যার অমিল নয়, এটা নিরাপত্তা এবং নাগরিকত্বের প্রশ্ন। সীমান্তবর্তী এলাকায় গত কয়েক বছরে জনসংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, তা ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।” অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে দিল্লিতে সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকদের (CEO) নিয়ে বৈঠকে বসেছে। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হতে পারে, পশ্চিমবঙ্গে কবে থেকে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) শুরু হবে। সূত্রের খবর, বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই। উল্লেখ্য, এই সম্ভাব্য ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। বিরোধীরা যেখানে দাবি করছে, এই সমীক্ষায় সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ-এর নামে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে, সেখানে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলেও রাস্তায় নামবে তারা।”

তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty) বলেন, “নির্বাচন কমিশন কান খুলে শুনে রাখুক, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে তৃণমূল তা সহ্য করবে না। বিজেপির (BJP) নির্দেশে বিহারে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যদি তেমন কিছু করার চেষ্টা হয়, সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।” উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এক বড় পরীক্ষার মঞ্চ তৈরি করছে। একদিকে কমিশন চাইছে, ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল হোক, যাতে মৃত ব্যক্তি বা ভুয়ো নাম না থাকে; অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বিরোধীদের ভোটভিত্তি কমানোর চেষ্টা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এই ম্যাপিং এবং ম্যাচিং প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। তবে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা যদি ঢুকে পড়ে, তাহলে তা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনবে।” সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলার ভোটার তালিকা এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এসআইআর ঘোষণার পর এই “অমিল”-এর কী ব্যাখ্যা দেয় কমিশন, আর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় রাজনৈতিক দলগুলি তা-ই এখন দেখার বিষয়।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির লড়াই-কে এগিয়ে? (আজ দ্বিতীয় কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন