Shubman Gill cricket journey | শুভমন গিলের ক্রিকেটযাত্রা: রাত তিনটেয় অনুশীলন থেকে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব

SHARE:

মেধা পাল, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন আলো হয়ে উঠেছেন শুভমন গিল (Shubman Gill)। বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তাঁর কাঁধেই উঠেছে ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব। ইংল্যান্ডে প্রথম সিরিজেই অধিনায়ক হিসাবে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। ২-২ ড্র করে সিরিজ শেষ করে দেশে ফিরেছে ভারতীয় দল। কিন্তু মাঠের বাইরেও শুভমন নিজের ব্যক্তিত্ব, সংগ্রাম এ অনুপ্রেরণার কাহিনি দিয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। একটি বিশেষ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভমন জানিয়েছেন, তাঁর ক্রিকেট শুরু হয় বাবার প্রিয় ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর-এর (Sachin Tendulkar) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। তিনি বলেছেন, “আমার দু’জন আদর্শ। প্রথম জন সচিনস্যর। ওঁকে দেখেই আমার ক্রিকেটের শুরু। তারপর বিরাট কোহলি। ওর খেলার প্রতি ভালবাসা ও সাফল্যের খিদে আমাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল। ক্রিকেটীয় দক্ষতা শেখা যায়, কিন্তু খিদের জিনিসটা শেখানো যায় না। সেটা কোহলির মধ্যে অফুরন্ত ছিল।”

শুভমন গিল। ছবি : সংগৃহীত

শৈশবের ক্রিকেট শেখার দিনগুলো সহজ ছিল না। গ্রামের সরকারি অ্যাকাডেমিতে বাবাকে কোচিং থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে, রাত তিনটেয় তাঁকে মাঠে নিয়ে যেতেন বাবা। সকাল ছ’টা পর্যন্ত অনুশীলন, তারপর স্কুল। আবার ফাঁকা সময়ে ব্যাট-বল হাতে নেমে পড়তেন। শুভমন বলেছেন, “ছোটবেলায় প্রচুর কষ্ট হলেও বাবার জন্যই ক্রিকেটার হতে পেরেছি। বাবা নিজে অনেক কষ্ট করেছেন আমাকে সুযোগ করে দিতে।” ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাত্র তিন বছর বয়সেই হাতে প্রথম ব্যাট তোলেন শুভমন। তাঁর কথায়, “বাবা টিভিতে ক্রিকেট দেখতেন। আমি ভাবতাম এত কী আছে খেলায়? সেখান থেকেই আগ্রহ। ছোটবেলায় বাবাই প্রথম কোচ ছিলেন। পরে সাত বছর বয়সে চণ্ডীগড়ে চলে আসি। তখন থেকেই সিরিয়াস ক্রিকেট শেখা শুরু।”

শুভমন গিল। ছবি: সংগৃহীত

শুভমন গিল-এর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট অভিষেক হয় ২০২০-২১ মরসুমে। ব্রিসবেনে ৯১ রানের ইনিংস তাঁকে সবার নজরে নিয়ে আসে। শুভমন মনে করেন, ছোটবেলার একটি অনুশীলন ম্যাচ তাঁর আত্মবিশ্বাস গড়ে দিয়েছিল। “আমি তখন খুব ছোট। কিন্তু ৯০ রান করেছিলাম অপরাজিত থেকে। ওটা আমার ভিতরের বিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। অভিষেক সিরিজেও সেই আত্মবিশ্বাস আমাকে সাহায্য করেছিল।” অধিনায়ক হিসাবে প্রথম সিরিজ নিয়ে তিনি বলেছেন, “কঠিন হলেও দারুণ ছিল। পাঁচটা টেস্টেই শেষ পর্যন্ত লড়াই চলেছে। দলের একজন হিসাবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরে তৃপ্তি পেয়েছি।” সিরিজ শেষে ইংল্যান্ডে ঘোরাঘুরি, খাবারের স্বাদ নেওয়া, সবকিছুর অভিজ্ঞতাই জমিয়ে উপভোগ করেছেন তিনি। তাঁর প্রিয় শহর কার্ডিফ, প্রিয় মাঠ বার্মিংহাম, ওখানেই তিনি ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে সর্বোচ্চ রান করেছেন।

শুভমন গিল
শুভমন গিল। ছবি: সংগৃহীত

শুধু ক্রিকেট নয়, গানও শুভমনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেছেন, “প্রচুর গান শুনি। আগে শুধু পঞ্জাবি গান শুনতাম। পরে নানা জায়গায় ঘুরতে গিয়ে অন্য ভাষার গানও শুনেছি। এমনকী ফরাসি গানও উপভোগ করি যদিও বুঝি না। একটা প্রিয় গানের প্রভাবে প্রথম রেঞ্জ রোভার কিনেছিলাম।” ক্রিকেটের আগে ও পরে গান তাঁকে চাপমুক্ত রাখে। ভারতীয় টেস্ট দলের সাজঘরে তিনিই মাঝে মাঝে ডিজে হয়ে যান।

বাবার সঙ্গে শুভমন গিল। ছবি : সংগৃহীত

ছোটবেলায় মাঠে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি কৃষিকাজেও হাত লাগাতেন। তিনি বলেন, “চাষের কাজও একধরনের ট্রেনিং ছিল। শরীর ফিট থাকত। তবে কখনও সেটা পরিশ্রম বলে মনে হয়নি। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাই আনন্দ দিত।” আবার, ব্যক্তিগত জীবনে ফুটবলের ভক্ত শুভমন। নেমারের (Neymar) খেলা দেখে তিনি প্রথম ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট হন। ফিফা ভিডিও গেম খেলতে ভালবাসতেন একসময়। ইংল্যান্ড সফরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United) -এর অনুষ্ঠানে গিয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতাও তাঁকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে।

Shubman Gill cricket journey | শুভমন গিলের ক্রিকেটযাত্রা: রাত তিনটেয় অনুশীলন থেকে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব
শুভমন গিল। ছবি : সংগৃহীত

প্রথম দামী হেডফোন উপহার পেয়েছিলেন বোনের কাছ থেকে। সেই থেকে গান তাঁর রুটিনের অংশ। তিনি বিশ্বাস করেন, সঙ্গীত তাঁকে সতেজ রাখে, যা মাঠে পারফরম্যান্সে সাহায্য করে। ক্রিকেটার, ফুটবলারসহ বিভিন্ন ক্রীড়াবিদের সঙ্গে আলাপ করে তাঁদের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেন। শুভমন শতরান করার পর বিশেষ উদযাপন, ‘বাও’। তবে সেটা পরিকল্পিত নয়। “প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলাম জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হারারেতে। তখনই হঠাৎ এমনিই বাও করেছিলাম। বন্ধুরাও অবাক হয়েছিল। এরপর থেকে ব্যাপারটা থেকে গিয়েছে।”

শুধু আইপিএলেই নয়, ইংল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতিতেও শুভমন ভরসা রেখেছিলেন অবিনাশের ওপর। তাঁর কাজ ছিল নেটে লাল বল দিয়ে শুভমনকে চ্যালেঞ্জ করা।
শুভমন গিল। ছবি : সংগৃহীত

চাপের প্রসঙ্গে শুভমন বলেছেন, “যেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটা নিয়ে ভাবি না। দর্শকদের প্রত্যাশা প্রচুর থাকে। কিন্তু আমি শুধু নিজের খেলার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি। সেভাবেই চাপ সামলাই।” উল্লেখ্য, আজকের দিনে শুভমন গিল শুধু ব্যাটসম্যান বা অধিনায়ক নন, তিনি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে একজন আদর্শ। সংগ্রাম, শৃঙ্খলা এবং অনুপ্রেরণারও প্রতীক। রাত তিনটেয় অনুশীলন থেকে শুরু করে টেস্ট দলের নেতৃত্ব, শুভমনের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সাফল্য শুধুই প্রতিভার ফল নয়, তার পেছনে থাকে অসাধারণ মানসিক শক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম।

সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubman Gill Success Story | অবিনাশের হাত ধরে আজকের তারকা ব্যাটার শুভমন গিল

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন