শুভ্রাংশু চন্দ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) -এর হয়ে ট্রফি জেতানো অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) হঠাৎ করে দল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? বহু গুঞ্জনের পর অবশেষে নিজেই মুখ খুললেন শ্রেয়স। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কেকেআরে তিনি যে সম্মান আশা করেছিলেন, সেটি পাননি। আর সেই কারণেই তিনি পাঞ্জাব কিংস (Punjab Kings) -এর শিবিরে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়স বলেন, “ক্যাপ্টেন ও ক্রিকেটার হিসেবে আমার কিছু চাহিদা থাকে। যখন সম্মান পাওয়া যায়, তখন সবকিছুই সম্ভব হয়ে ওঠে। পঞ্জাবে আমি সেটা পেয়েছি। প্লেয়ার হোক, কোচ কিংবা ম্যানেজমেন্ট, সবাই আমাকে সমর্থন করেছে। সেটাই ছিল আমার প্রয়োজন।”

আইপিএল (IPL)-এর মঞ্চে শ্রেয়স আইয়ারের পাঞ্জাব অধ্যায় যথেষ্ট সফল ছিল। প্রীতি জিন্টা (Preity Zinta) এবং কোচ রিকি পন্টিং (Ricky Ponting) তাঁকে ভরসা করেছিলেন। আর সেই ভরসার মর্যাদা দিতে শ্রেয়স মাঠে ব্যাট হাতে যেমন ঝড় তুলেছেন, তেমনই কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, “আমি যখন দলে যোগ দিই, দুরন্ত ফর্মে ছিলাম। ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতে সাহায্য করেছিলাম। পাঞ্জাব আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। মাঠে বা মাঠের বাইরে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমি যুক্ত ছিলাম। প্রতিটি বৈঠকে আমাকে রাখা হতো, আর এটা আমার কাছে ভীষণ ভাল লাগত।”

শ্রেয়সের কথায় ইঙ্গিত স্পষ্ট, কেকেআরে তাঁর ভূমিকা কখনওই সেই মাত্রায় পৌঁছয়নি। নাইট শিবিরে আলোচনার সুযোগ পেলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পাননি বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, “আলোচনায় আমি থাকতাম, কিন্তু দায়িত্বটা কখনও আমার হাতে ছিল না। এখন যেটা আমি পাচ্ছি, সেটা অর্জন করতে আমার সময় লেগেছে।” তবে ক্রিকেট জীবনে শ্রেয়সের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। চোট, ফর্মহীনতা ও বাদ পড়ার ধাক্কা সবই তিনি সামলেছেন। তবুও প্রতিবারই নতুন উদ্যমে ফিরে এসেছেন। গত আইপিএলে ব্যাটার ও ক্যাপ্টেন হিসেবে নিজেকে উঁচু পর্যায়ে প্রমাণ করার পরও তাঁকে এশিয়া কাপ-এ (Asia Cup) জায়গা দেওয়া হয়নি। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কম বিতর্ক হয়নি। যদিও ভারতীয় এ দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান তিনি, যেখানে অস্ট্রেলিয়া এ-এর বিরুদ্ধে দলকে নেতৃত্ব দেন।

নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে শ্রেয়সের আশা এখনো অটুট। জাতীয় দলে নিয়মিত জায়গা ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি মরিয়া। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, তাঁর নেতৃত্বগুণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বাড়তি সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কেকেআর ছেড়ে পাঞ্জাবে আসাটাই তাঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। যেখানে তিনি শুধু একজন প্লেয়ার নন, বরং একজন লিডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। পঞ্জাব কিংস গত কয়েক মরসুম ধরে টুর্নামেন্টে বড় কিছু করতে পারেনি। কিন্তু শ্রেয়সের নেতৃত্বে দল নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, পঞ্জাব ম্যানেজমেন্টের মতো আস্থা যদি কেকেআর তাঁকে দিত, তবে হয়তো তিনি এখনও নাইটদের জার্সি পরেই থাকতেন। অন্যদিকে, শ্রেয়সের কেরিয়ার এক অর্থে প্রতিফলন ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতার। যেখানে একজন প্লেয়ারকে শুধু ব্যাট বা বল হাতে নয়, দলের ম্যানেজমেন্টের আস্থাও অর্জন করতে হয়। আর সেই আস্থা না পেলে, পথ বদলানোই শেষ বিকল্প হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, সম্মানই সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি। সেটাই খেলোয়াড়কে সেরাটা দিতে অনুপ্রাণিত করে।

আইপিএল ইতিহাসে একাধিকবার দেখা গিয়েছে, কোনও প্লেয়ার এক দলে অস্বস্তিতে থেকে অন্য দলে গিয়ে দারুণ সফল হয়েছেন। শ্রেয়স আইয়ারও যেন সেই উদাহরণের আরেকটি নাম হয়ে উঠলেন। কেকেআরে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েও নিজের জায়গায় নিরাপদ ছিলেন না, অথচ পঞ্জাবে তিনি হয়ে উঠেছেন দলের ভরসাস্থল। এখন দেখার বিষয়, শ্রেয়সের নেতৃত্বে পঞ্জাব কিংস কতদূর এগোতে পারে আগামী মরসুমে। তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও নজরে থাকবে নির্বাচকদের। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন Shah Rukh Khan Jawan Movie Success, National Film Awards Winner 2025 জাতীয় মঞ্চে বাজিগরের মহারণ! ‘জওয়ান’ ছবির জন্য প্রথমবার জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত শাহরুখ খান




