Sheikh Hasina | শেখ হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড ঘোষণা, দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে অনুরোধ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ✪ ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র ছয় মাসের কারাদণ্ড। মঙ্গলবার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে আদালত অবমাননার দায়ে। তিন সদস্যের বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান জাস্টিস মহম্মদ গোলাম মোর্তাজা মজুমদার (Justice Mohammad Golam Mortaza Mojumdar), হাসিনার বিরুদ্ধে এই সাজা শোনান। তবে বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিনা শ্রমে এই কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে।

উল্লেখ্য যে, এই মামলার সূত্রপাত একটি ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপ থেকে। সেখানে শোনা গিয়েছিল কথোপকথন, যেখানে একজন বলছেন, “২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছি।” তদন্তে উঠে আসে, শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা মহম্মদ শাকিল আলম (Mohammad Shakil Alam)-এর নাম। আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে।

গত ৩০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়, ২৫ মে-র মধ্যে দুই আসামিকেই হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা বা শাকিল, কেউই আদালতে আসেননি। এমনকী তাঁদের আইনজীবীরাও অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও কোনও সাড়া মেলেনি। ট্রাইব্যুনাল পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ঠিক করে ১৯ জুন। ওই দিন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয়। পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য হয় ২৫ জুন। মঙ্গলবার ছিল চূড়ান্ত শুনানি। সেই শুনানিতেই হাসিনার বিরুদ্ধে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাকিল আলমকে দুই মাসের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) নামে ২০০-রও বেশি মামলা দায়ের হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর। তবে এই প্রথম কোনও মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি সাজা পেলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, দেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়বে গভীরভাবে। অন্যদিকে, বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার বিশেষ সূত্রের খবর, তাঁকে দেশে ফেরাতে ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, দেশটির রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। একাংশের দাবি, “যদি সত্যিই আদালত অবমাননার প্রমাণ থাকে, তবে আইন অনুযায়ী সাজা পাওয়া উচিত। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেও যেন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।” অন্যদিকে, শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সমর্থকরা বলছেন, “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। দেশের বাইরে থাকা একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে দোষী সাব্যস্ত করা লজ্জাজনক।”

বাংলাদেশের আইন বিশেষজ্ঞ মহম্মদ তানভীর হোসেন (Mohammad Tanvir Hossain) জানিয়েছেন, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করাই আদালত অবমাননা। যদি নির্দিষ্ট তারিখে হাজিরা না দেওয়া হয় ও পর্যাপ্ত কারণ দেখানো না যায়, তবে আদালত এমন সাজা ঘোষণার অধিকার রাখে।” এখন দেখার, ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের এই অনুরোধ কীভাবে বিবেচনা করা হয় ও শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) আদৌ দেশে ফিরবেন কি না। পাশাপাশি, এই রায় দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা বড় প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Karisma Kapoor, Kareena Kapoor | করিশ্মার কান্না আর করিনার নীরবতা! ভেতরের গল্পটি কী?

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন