Sexual wellness and relationships | শরীর যখন নিভে যায়! যৌনতায় ‘লোডশেডিং’ হলে কীভাবে সাড়া দেবে মন ও দেহ? কীভাবে আলো জ্বালবেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

SHARE:

যৌনতায় আকস্মিক বিরতি বা ‘লোডশেডিং’ হলে শরীর ও মনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত জানুন। জানুন সপ্তাহে একবার যৌনতার বাস্তব উপকারিতা।

সূর্য মিত্র, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : যৌনতা কি কেবল শারীরিক আকর্ষণ ও তৃপ্তির ব্যাপার? নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক প্রভাব? সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা বলছে, যৌনতা শুধু মানসিক শান্তির উপায় নয়, এটি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা থেকে শুরু করে ক্যানসার প্রতিরোধ, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হতাশা কমাতেও সাহায্য করে। অথচ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে যৌনতার হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, তাতে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা।

Sexual wellness and relationships | শরীর যখন নিভে যায়! যৌনতায় 'লোডশেডিং' হলে কীভাবে সাড়া দেবে মন ও দেহ? কীভাবে আলো জ্বালবেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ছবি : প্রতীকী

‘আর্কাইভস অফ সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার’ (Archives of Sexual Behavior) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান গড়ে বছরে ৯ বার কম যৌনতায় লিপ্ত হয়েছেন, যা ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের তুলনায় অনেকটাই কম। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই পতন সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে সেই দম্পতিদের মধ্যে, যারা বিবাহিত এবং একসঙ্গে বসবাস করছেন। তাদের ক্ষেত্রে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার সংখ্যা বছরে ১৬ বার কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে রয়েছে একাধিক সামাজিক ও প্রযুক্তিগত কারণ। একদিকে বাড়ছে কর্মব্যস্ততা, আর অন্যদিকে সহজলভ্য ডিজিটাল বিনোদন হয়ে উঠছে সম্পর্কের শত্রু। নেটফ্লিক্সের একাধিক এপিসোড দেখতে দেখতে কিংবা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করতে করতে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো যেন হারিয়ে যাচ্ছে অনায়াসেই। মনোবিদ ডঃ এমিলি ন্যাগোস্কি বলেন, “যৌনতা শুধু দেহের নয়, মনেরও ব্যাপার। যখন আপনি ক্লান্ত, উদ্বিগ্ন বা ডিজিটালি অতিভারগ্রস্ত, তখন শরীর স্বাভাবিকভাবেই সাড়া দেয় না। একে আমরা বলতে পারি, যৌনতায় লোডশেডিং।”

Sexual wellness and relationships | শরীর যখন নিভে যায়! যৌনতায় 'লোডশেডিং' হলে কীভাবে সাড়া দেবে মন ও দেহ? কীভাবে আলো জ্বালবেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ছবি : প্রতীকী

কিন্তু, পরিস্থিতি একেবারে হতাশার নয়। ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (York University), কানাডার একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে সপ্তাহে একবার যৌনতাই যথেষ্ট একটি সম্পর্ককে সুখী রাখার জন্য। মানসিক স্বস্তি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মতির ভিত্তিতে যৌনতা যখন ঘটে, তখন তার প্রভাব অনেক গভীর হয়। একাধিকবার যৌনতায় লিপ্ত হওয়া সাময়িক উত্তেজনা দিলেও, মানসিক তৃপ্তিতে ‘সপ্তাহে একবার’ ও ‘সপ্তাহে তিনবার’-এর মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। তবে যৌনতা কমে যাওয়া মানেই সম্পর্ক শেষ, এমনটা নয়। এটি একটি স্বাভাবিক পর্যায়, যেখানে আলোচনার দরজা খোলা রাখাই শ্রেয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। জানতে চেষ্টা করুন তার চাহিদা, ভয়, ক্লান্তি ও আগ্রহের বিষয়ে। হয়ত প্রয়োজন একটু ভিন্ন পরিবেশ, সামান্য সময়ের পুনর্বিন্যাস কিংবা একে অপরের শরীরকে নতুন করে আবিষ্কারের।

ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

সেক্স থেরাপিস্ট ডঃ ডেভিড স্নার্চ বলেন, “যৌনতা মানেই শুধুই প্রবৃত্তির প্রকাশ নয়। এটি একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যম। যতক্ষণ না আপনি সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলছেন, ততক্ষণ যৌনতা নিজেও নিঃশব্দ হয়ে পড়ে।” আবার, সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান বছরে ৫৪ বার যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন। বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৫১। সপ্তাহে একবার যৌনতা মানসিক শান্তি ও সম্পর্কের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে যথেষ্ট। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বেশি জরুরি, তাতে উভয় পক্ষের মানসিক ও শারীরিক তৃপ্তি আছে কি না। যৌনতায় যদি লোডশেডিং আসে, তাহলে আলো জ্বালানোর একমাত্র উপায়, সম্পর্কের ভেতরে আলোচনার সাহস খুঁজে পাওয়া। প্রেম, আন্তরিকতা আর সম্মতির সমন্বয়েই আবারও ফিরে আসতে পারে সেই উষ্ণতা।
সব ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Manali | মানালি: পাহাড়ি রূপকথার পাতায় ছুটি কাটানোর ঠিকানা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন