নবারুণ দাস, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : এশিয়া কাপের ঠিক আগে বড়সড় রদবদল ঘটল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে (BCCI)। বোর্ডের সভাপতি পদ ছাড়লেন রজার বিন্নী (Roger Binny)। এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও বোর্ডের একাধিক সূত্রে খবর, অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা (Rajeev Shukla)। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততম সময়ের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের মুখোমুখি হল।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) বিদায়ের পর ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে বোর্ডের সভাপতি হন রজার বিন্নী। কিন্তু এ বছর ১৯ জুলাই তিনি ৭০ বছর পূর্ণ করেছেন। বোর্ডের সংবিধান অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সে আর কেউ প্রশাসনিক পদে থাকতে পারবেন না। সেই নিয়মের কারণে কার্যকালের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে পদ ছাড়তে হল। যদিও জাতীয় ক্রীড়া আইন অনুসারে, অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থায় ৭৫ বছর পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে থাকা যায়, কিন্তু বিসিসিআই যেহেতু একটি স্বশাসিত সংস্থা, তাই তারা নিজেদের নিয়মেই চলে। আর সেই নিয়মের জেরেই সরে দাঁড়ালেন বিন্নী। প্রসঙ্গত, নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল। তাঁর বয়স এখন ৬৫, এবং ২০২০ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। বোর্ড সূত্রে খবর, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) নতুন সভাপতির নাম নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। ততদিন পর্যন্ত বোর্ডের প্রশাসনিক সমস্ত দায়িত্ব সামলাতে হবে রাজীব শুক্লকে।

এদিকে, ক্রীড়া মহলে প্রশ্ন উঠছে জাতীয় ক্রীড়া আইন (National Sports Code) নিয়ে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, রজার বিন্নী নাকি তাঁর পূর্ণ কার্যকাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। কারণ নতুন ক্রীড়া আইনে প্রশাসকদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭৫ নির্ধারিত। তবে বিসিসিআইয়ের সংবিধান এই আইনের থেকে আলাদা। বোর্ডের সংবিধান অনুযায়ী ৭০ বছরের বেশি কেউ পদে থাকতে পারবেন না। ফলে শেষ পর্যন্ত নিজের মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে হল তাঁকে। অন্যদিকে, বোর্ডের আইনি দল বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একজন বোর্ড আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই আইন সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে। আমাদের বোর্ডের সংবিধানের সঙ্গে সেটার কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা দেখা দরকার। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদ বাড়তে পারে।’
ক্রিকেট বোর্ডের এই রদবদল একাধিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। সামনে এশিয়া কাপ ও তার পরপরই বিশ্বকাপ। ক্রিকেট প্রশাসনে অভিজ্ঞতা ও স্থিরতার প্রয়োজন রয়েছে এখনই। তাই অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে রাজীব শুক্লর কাঁধে আসছে বড় দায়িত্ব। একদিকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন, অন্যদিকে দেশের ক্রিকেট পরিচালনা দু’টোকেই সমানভাবে তাঁকে সামলাতে হবে। বোর্ডের এই পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে। অনেকের মতে, জাতীয় ক্রীড়া আইন কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও কেন বিসিসিআই নিজের নিয়ম মেনে চলছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বোর্ডের ভেতরকার খবর বলছে, বিসিসিআই-এর সংবিধান পরিবর্তনের মতো জটিল প্রক্রিয়া এত অল্প সময়ে সম্ভব নয়। তাই আপাতত সংবিধান মেনে চলাই তাদের একমাত্র পথ।
অন্যদিকে, রাজনীতির ময়দান থেকে উঠে আসা রাজীব শুক্ল বোর্ডের প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ। আগে তিনি আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। ফলে অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, এশিয়া কাপের আগে এই রদবদল ভারতীয় ক্রিকেটে অস্বস্তির আবহ তৈরি করতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, রাজীবের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এই সময়ের চ্যালেঞ্জ সামলাতে সাহায্য করবে।সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, রজার বিন্নীর বিদায় ও রাজীব শুক্লর অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। সেপ্টেম্বরে নতুন সভাপতি নির্বাচনের আগে বোর্ড কোন পথে হাঁটে, এখন সেটাই নজর কাড়বে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yami Gautam fitness laddu | ফিটনেসের জন্য ইয়ামি গৌতম খান পুষ্টিগুণে ঠাঁসা ঘরোয়া লাড্ডু! আপনিও খেয়ে দেখতে চান?




