শর্মিষ্ঠা সাহা মৈত্র ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক: ভালবাসা মানেই কি কেবল ফুলের সৌরভ আর চেনা হাসির ছায়া? সম্পর্ক মানেই কি শুধু সঙ্গীর দোষ ধরা? আজকের প্রেম-ভাষায় “সিচুয়েশনশিপ”, “ন্যানোশিপ”, “রেড ফ্ল্যাগ” বা “গ্রিন ফ্ল্যাগ” শব্দগুলো যতই ট্রেন্ডি হোক না কেন, একথা অস্বীকার করা যায় না, প্রত্যেক প্রেমের গভীরে লুকিয়ে থাকে মানসিক স্বাস্থ্য আর আত্মসম্মানের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন। এই টানাপোড়েন অনেক সময়েই একপাক্ষিক হতে পারে। ভাবুন তো, আপনার সঙ্গী নয়, আপনি নিজেই কি সেই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ (Red Flag) নন তো?সম্পর্কে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এখানে এমন ৭টি লক্ষণ তুলে ধরা হল, যার প্রতিটি আপনাকে সাহায্য করতে পারে নিজেকে মূল্যায়ন করতে। আপনি আদৌ সুস্থ প্রেমে আছেন, নাকি সম্পর্কের বিষক্রিয়াটি আপনি নিজেই ছড়িয়ে দিচ্ছেন অজান্তে!
প্রথমত, আপনি কী রাগের মাথায় এমন কিছু বলে ফেলেন, যা সঙ্গীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে? এবং পরমুহূর্তেই কি নিজেকে সাফাই দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন? মনোবিদ ড. রুক্মিণী ঘোষ (Dr. Rukmini Ghosh) বলেন, “রেগে গিয়ে কিছু বলা এক কথা, কিন্তু বারবার সঙ্গীর অনুভূতিকে অবহেলা করে নিজের যুক্তি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া একধরনের ইমোশনাল ম্যানিপুলেশন (Emotional Manipulation)।”

দ্বিতীয়ত, আপনি কি চান আপনার সঙ্গী আপনার পছন্দমতো জীবনযাপন করুক? সে নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিলেই কি সেটা আপনাকে ‘ডিসরেসপেক্ট’ মনে হয়? এ প্রসঙ্গে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অভিষেক দে (Abhishek Dey) বলেন, “সম্পর্কে ভালবাসার নামে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা খুবই বিপজ্জনক। এটা ধীরে ধীরে সঙ্গীর আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করে।”
তৃতীয় লক্ষণটি আরও গভীর। আপনি যখন বিপদে পড়েন, সঙ্গী পাশে থাকেন। কিন্তু তিনি যখন সমস্যায় পড়েন, আপনি কি এড়িয়ে যান? ব্যস্ততার অজুহাত দেন? ভালবাসা মানেই কিন্তু পাশে থাকা। সব সময়েই নয়, কিন্তু প্রয়োজনের সময়। আপনি যদি ‘তোমার সমস্যা, তোমার একার’ মানসিকতা রাখেন, তবে সম্পর্কে ভারসাম্য নষ্ট হয়।
চতুর্থত, আপনি কী সঙ্গীর সাফল্যে খুশি হন? নাকি মনে মনে ঈর্ষান্বিত? সঙ্গী যদি বেশি উপার্জন করেন, অথবা কর্মক্ষেত্রে প্রমোশন পান, আপনার মধ্যে কীসের যেন অস্বস্তি তৈরি হয়? এটা কিন্তু এক ধরনের টক্সিক কম্পিটিশন (Toxic Competition)। ভালবাসায় প্রতিযোগিতা নয়, পারস্পরিক গর্ব থাকা উচিত।
পঞ্চমত, ভুল স্বীকারে আপনার অসুবিধে হয়? আপনি জানেন, আপনি ভুল করেছেন। তবুও ক্ষমা চাইতে লজ্জা পান? কিংবা সেই ভুল ঢাকতে বারবার মিথ্যে বলেন? এই প্রবণতা সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা থাকা দরকার।
ষষ্ঠতম, আপনি কী যে কোনও আলোচনায় নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে মরিয়া? যুক্তিতে হার মানতে পারছেন না? এমনকী কখনও কখনও রাজনীতি, সমাজনীতি নিয়েও তর্কে জিততেই হবে এই মনোভাব রাখছেন? মনে রাখবেন, সম্পর্ক প্রতিযোগিতা নয়। মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু মতের দখলদারি নয়।
সপ্তম লক্ষণটি একটু সূক্ষ্ম, আপনি কি সঙ্গীকে শুরুতে নানা উপহার, ভালবাসা, কেয়ার বা যত্ন দিয়ে ‘ডিপেন্ডেন্ট’ করে তুলেছেন? আর এখন আপনি সেই একই ধরনের প্রতিদান না পেলে হতাশ হন? সম্পর্কের শুরুর আচরণ বদলে গেলে, এবং প্রত্যাশা পূরণ না হলে যদি আপনি ‘ইনসিকিওর’ হয়ে পড়েন, তবে সেটিও একধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী আচরণ।
এই সাতটি প্রশ্ন বা আচরণ প্যাটার্ন যদি আপনার জীবনের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে সময় এসেছে নিজেকে একটু থামিয়ে দেখার। ভালবাসার প্রথম শর্ত সম্মান আর দায়বদ্ধতা। আর সেই দায়িত্ব আপনি নিজে পালন করছেন তো? বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক মানে একে অপরকে বদলে দেওয়া নয়। একে অপরকে বোঝা এবং মেনে নেওয়া। যদি বারবার সঙ্গীর দোষ খুঁজে পান, আগে আয়নায় নিজের মুখটা দেখুন।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : open communication in relationships | বাঁধ ভাঙবে যৌবন, দাম্পত্যে উঠবে প্রেমের তুফান, এই ৫ টোটকায় সম্পর্কে বাজিমাত




