তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : ৩০ বছরের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সম্মান পেলেন রানি মুখোপাধ্যায় (Rani Mukherjee)। ইতিমধ্যেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এটি ছিল এক ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ মুহূর্ত, যেখানে আনন্দ, আবেগ এবং কৃতজ্ঞতার ছোঁয়া মিলেমিশে দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় পুরস্কার গ্রহণের সময় রানি মুখোপাধ্যায় পুরো ভেন্যুকে আবেগের সঙ্গে স্পর্শ করলেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, এই পুরস্কার শুধুই তাঁর নয়, বরং তাঁর পরিবারেরও, বিশেষ করে বাবা প্রয়াত প্রযোজক রাম মুখোপাধ্যায় (Ram Mukherjee) এবং মা কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় (Krishna Mukherjee), যাঁরা তাঁর জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন।
রানি বলেন, “আমার ৩০ বছরের কেরিয়ারে পাওয়া এই সম্মান একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার কাছে এক বিরাট প্রাপ্তি। আমি এই জাতীয় পুরস্কার আমার বাবাকে উৎসর্গ করতে চাই। বাবা সারাজীবন এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছেন। আজ এই দিনে তাঁকে মনে পড়ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার বাবা এই মুহূর্তে আমার সঙ্গে রয়েছেন। আর আমার মা, যিনি আমাকে সর্বদা সাহস জুগিয়ে চলেছেন, তাঁর শক্তি আমাকে এই সম্মান অর্জনে সাহায্য করেছে।”

এর আগে রানি মুখোপাধ্যায় জানান, “আমি সত্যিই দারুণ খুশি এবং গর্বিত বোধ করছি। ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবিতে আমার অভিনয়কে এত বড় সম্মান দেওয়ায় আমি আপ্লুত। ৩০ বছরের সিনে কেরিয়ারে এটি আমার প্রথম জাতীয় পুরস্কার। আমি ধন্য যে আমার অভিনয় জীবনে বহু ভালো ছবি করেছি এবং দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি। ধন্যবাদ জানাই জাতীয় পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত সকল বিচারককে। এছাড়া পরিচালক অসীমা ছিব্বর (Asima Chhibber) এবং প্রযোজক নিখিল আডবাণী (Nikhil Advani), মণীশা ও মধুকে বিশেষ ধন্যবাদ, যাঁরা আমাকে এই বিশেষ ছবিতে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।” রানি আরও বলেন, “এই পুরস্কার আমি বিশ্বের সব মায়েদের কাছে উৎসর্গ করতে চাই, যারা নিজের সন্তানের জন্য লড়াই করছেন এবং আত্মত্যাগ করছেন। ৩০ বছরের অভিনয় জীবনে যে অনুরাগী এবং দর্শক আমার সঙ্গে ছিলেন, তাঁদেরও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের ভালোবাসা না থাকলে আমার এই যাত্রা কখনোই এত সফল হতো না।”

রানি মুখোপাধ্যায়ের এই অর্জন পুরো শিল্পের জন্যই উদাহরণ। তাঁর এই সাফল্য অনেক তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, “রানি মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবনের এই মাইলফলক প্রমাণ করে যে ধারাবাহিকতা, প্রতিশ্রুতি এবং নিষ্ঠা থাকলে স্বীকৃতি অমোঘ। তাঁর অভিনয় শুধুই হৃদয় ছুঁয়েছে, মনকে না নয়।” অনেকে মনে করছেন, ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবির মাধ্যমে রানি মুখোপাধ্যায় তাঁর অভিনয় জীবনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সিনেমা রিভিউ প্রকাশ করে এক সমালোচক বলেন, “রানি মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় এত নিখুঁত এবং প্রাঞ্জল যে দর্শক এক মুহূর্তও তাকানো থামাতে পারছেন না। এটি একটি অভিনব অভিজ্ঞতা।” এদিকে, এই অর্জনের আনন্দে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে রানি মুখোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan)ও সম্প্রতি এক টুইটে রানি মুখোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, “৩০ বছরের পর এমন সম্মান পাওয়াটা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। অভিনন্দন রানি।”
ফলত, রানি মুখোপাধ্যায়ের এই জাতীয় পুরস্কার কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো বলিউডকে উদ্দীপ্ত করেছে। শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক এবং অনুরাগীদের মধ্যে আনন্দের ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ বছরের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই জাতীয় পুরস্কার, যা ভবিষ্যতের প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও একটি প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rani Mukherji, National Film Awards, Mrs Chatterjee Vs Norway | জাতীয় পুরস্কারে ইতিহাস গড়লেন রানি মুখার্জি, সেরা অভিনেত্রীর সম্মানে সম্মানিত ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’




