Pulses Import : মূল্যবৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তা, ডাল-তেল আমদানিতে বাড়তি নির্ভরতা নিয়ে সংসদে প্রশ্নবাণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি: ডাল ও তেল, ভারতীয় রান্নাঘরের অপরিহার্য দুই উপাদান। কিন্তু এদের দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির ভারসাম্য ঘিরে এবার উঠেছে প্রশ্ন। সম্প্রতি সংসদের কৃষি, পশুপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এই ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অভিযোগ, দেশীয় উৎপাদন বেড়েও আমদানির উপর নির্ভরতা কমেনি। কৃষি মন্ত্রকের দাবি, গত এক দশকে দেশে দাল ও তেলবীজ উৎপাদনে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫-এর মধ্যে তেলবীজ উৎপাদনে ৫৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রকের হিসেব, ২০২৩-২৪ সালে দেশে তেলবীজ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪২৬.০৯ লক্ষ টন, যা দেশের আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্য কথা বলছে। সংসদীয় কমিটির সদস্যদের মতে, এই উৎপাদন বৃদ্ধির পরও দেশের আমদানিনির্ভরতা কমছে না কিন্তু তা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৩-২৪ সালে ভারত মোট ১৫৬.৬ লক্ষ টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছে, যা দেশের মোট চাহিদার ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পাম তেলের, যার প্রায় সম্পূর্ণটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর ফলে প্রতিবছর দেশের অর্থনীতির উপর পড়ছে ৮০,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বোঝা।

এই প্রসঙ্গে সংসদীয় কমিটির সদস্য, ডঃ বিজয় দারাদে (Dr. Vijay Darade) বলেন, “সরকার যেভাবে উৎপাদনের বৃদ্ধি তুলে ধরছে, বাস্তবে তা আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে পারছে না। এতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, তেমনই স্বাস্থ্যগত বিপদের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্যের সূত্র ধরেই সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।স্বাস্থ্য। অনেক সংসদ সদস্যই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা নিম্নমানের ভোজ্যতেল দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য অরুণ পাণ্ডে (Arun Pandey) বলেন, “কম দামে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি তেল ঢুকছে আমাদের বাজারে। এতে একদিকে দেশীয় উৎপাদক চাপে পড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যের দিক থেকে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।” তবে মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৪-১৫-এর মধ্যে তেলবীজ উৎপাদনে যেখানে মাত্র ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল, সেখানে পরবর্তী দশকে সেই বৃদ্ধির হার চারগুণ বেড়েছে। এই উন্নতির কৃতিত্ব তাঁরা দিয়েছেন কৃষি ক্ষেত্রে চালু হওয়া নীতিগত সংস্কার, গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ এবং কৃষকদের সচেতনতার প্রতি।
কৃষি সচিব আলোক সিনহা (Alok Sinha) জানিয়েছেন, “আমরা গত দশকে কৃষকদের উন্নত বীজ, প্রযুক্তি, এবং ন্যায্য দামের নিশ্চয়তার দিক থেকে যা সহযোগিতা করেছি, তার ফল আজ সামনে এসেছে। তবে ভোজ্যতেল ও ডাল উৎপাদনে আরও আত্মনির্ভর হতে হলে এই প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে।”
সূত্রের খবর, কমিটি সরকারের কাছে আরও জানতে চেয়েছে, ভবিষ্যতে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে আনতে কী ধরনের রূপরেখা নেওয়া হচ্ছে? পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা কীভাবে বাড়ানো হবে, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : Mutton recipe | রসুনেই বাজিমাত, পেঁয়াজ ছাড়াই জমজমাট ‘রসুনে রসালা’ খাসির মাংস

সরকারি মহলের বক্তব্য, তেলবীজ ও ডাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিশেষ ‘ন্যাশনাল মিশন অন অয়েল সিডস অ্যান্ড পালসেস’ (National Mission on Oilseeds and Pulses) চালু হয়েছে। এর আওতায় কৃষকদের উন্নত মানের বীজ, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা এবং বাজারে বিক্রির জন্য সরাসরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যখন দেশের চাষিরা উৎপাদনে সাফল্য পাচ্ছেন, তখন কেন বিদেশি আমদানির রাস্তাই প্রধান হয়ে থাকছে? কেন দেশীয় বাজারে সে উৎপাদনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না?বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসামঞ্জস্যের মূল কারণ মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার অসামঞ্জস্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ডঃ কুশল সরকার (Dr. Kushal Sarkar) বলেন, “আমরা উৎপাদন বাড়ালেও সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে আমদানির পথ খুলেই থাকবে।” অতএব, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সেই উৎপাদন কৃষকের কাছ থেকে গ্রহণ করে তা বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলাটাও জরুরি। নাহলে ভবিষ্যতেও ‘ডালের দাম’ সাধারণ মানুষের ভাঁড়াড়ে উদ্বেগ ডেকে আনবে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Salman Khan : ‘ভাইজান’ থেকে বিনয়ী শিল্পী  সলমন খানের মুখে তাঁর সাফল্য আর সংশয়ের গল্প

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment