বসুধা চৌধুরী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★কলকাতা : প্রিন্সেস ডায়না (Princess Diana) ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে যাঁর নাম উচ্চারণ করলেই আবেগ, বিতর্ক আর অনুরাগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রয়াত হওয়ার পর থেকে আজ অবধি তিনি থেকে গিয়েছেন বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে। মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর ফের তাঁর জীবন উঠে আসছে পর্দায়। নেটফ্লিক্স (Netflix) আনতে চলেছে প্রিন্সেস ডায়নাকে ঘিরে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। তথ্যচিত্রটি শুধু রাজকীয় জীবনের জৌলুস নয়, ডায়নার ব্যক্তিগত দুঃখ, সংগ্রাম ও জনমানসে তাঁর প্রভাবকেও তুলে ধরবে বলে খবর। সূত্র অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, প্রিন্স হ্যারি (Prince Harry) ও মেগান মার্কেল-এর (Meghan Markle) সঙ্গে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনাও হয়েছে নেটফ্লিক্সের। এই তথ্যচিত্রকে ঘিরে রাজপরিবার ও বিশ্বজুড়ে ডায়নার অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রিন্সেস ডায়নার মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক, রহস্য আর আবেগ একসঙ্গে কাজ করেছে দীর্ঘদিন ধরে। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে অকাল প্রয়াণ তাঁকে একটি অনন্য প্রতীকে পরিণত করেছে। তাঁর মানবিকতা, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল অন্যান্য রাজকীয় সদস্যদের থেকে। একসময় বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমে ‘পিপল’স প্রিন্সেস’ (People’s Princess) নামে তিনি পরিচিত হন।
১৯৯৭ সালে মৃত্যুর সময় প্রিন্স হ্যারি ছিলেন মাত্র ১২ বছরের। আজও প্রকাশ্যে তিনি স্বীকার করেন, মায়ের মৃত্যু তাঁর জীবনের সবচেয়ে গভীর ক্ষত। সেই স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি কখনও। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন মাকে মিস করি। তাঁর অনুপস্থিতি আমাকে প্রতিটি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা কী হারিয়েছি।’ তাই ডায়নার মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্তিতে তাঁর স্মরণে এই তথ্যচিত্র নির্মাণ এক বিশেষ আবেগঘন উদ্যোগ। প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এই তথ্যচিত্রের সম্প্রচার শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে, ডায়নার মৃত্যুর তিন দশক পূর্ণ হওয়ার সময়। যদিও শুটিং ও সম্পর্কীত অন্যান্য কাজ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবুও, ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রত্যাশার বাড়ছে।

এছাড়া, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে নেটফ্লিক্সের সম্পর্কও এখন আলোচনায়। কারণ, হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে রাজপরিবারের সক্রিয় ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নেটফ্লিক্সের সঙ্গে বহু মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেন। তাঁদের প্রযোজনা সংস্থা আর্কওয়েল-এর (Archewell) অধীনে এর আগে একাধিক ডকুমেন্টারি ও অনুষ্ঠান তৈরি হয়েছে। ফলে প্রিন্সেস ডায়নার তথ্যচিত্র নিয়েও তাঁদের সম্পৃক্ততা স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচকরাও এই প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী। অনেকে মনে করছেন, ডায়নার ব্যক্তিগত জীবন, জনসমক্ষে তাঁর সংগ্রাম এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক, সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় আসবে এই প্রযোজনায়। এদিকে ডায়নার জীবনীভিত্তিক একাধিক ছবি আগেও তৈরি হলেও নেটফ্লিক্সের মত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তাঁর জীবন তুলে ধরা নিঃসন্দেহে অন্য মাত্রা পাবে।
Follow : https://x.com/sasrayanews/status/1960565850857201752?t=RYVl-_9ushFgSkhLuk-gIw&s=19
উল্লেখ্য, প্রিন্সেস ডায়না আজও আধুনিক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী। তাঁর জীবন কাহিনি শুধু ব্রিটিশ রাজপরিবারের আভিজাত্য নয়, বরং মানবিক সহানুভূতি, প্রেম, ব্যথা আর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তাই এই তথ্যচিত্র দর্শকদের কাছে শুধু বিনোদন নয়, এক গভীর আবেগের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কীভাবে এই উদ্যোগ বিশ্ববাসীর সামনে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে সেই ‘পিপল’স প্রিন্সেস’-এর গল্প।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Princess Diana and John Travolta : প্রিন্সেস ডায়ানা ও জন ট্রাভোল্টার নীরব একটি অধ্যায় : হোয়াইট হাউসের সেই রাত




