Powai hostage case | পোয়াইয়ে ভয়াবহ কাণ্ড : আরএ স্টুডিও থেকে ১৭ শিশুকে উদ্ধার, পুলিশের গুলিতে নিহত রোহিত আর্য 

SHARE:

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুরা মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অডিশনের জন্য স্টুডিওটিতে এসেছিল। কিন্তু অডিশনের মাঝেই ৫০ বছর বয়সী আর্য হঠাৎই দরজা বন্ধ করে দেয় এবং নিজেকে স্টুডিওর ভেতরে আটকে ফেলে। তিনি একটি এয়ারগান এবং জ্বলন্ত স্প্রে (flammable spray) হাতে নিয়ে শিশুদের ভয় দেখাতে থাকেন। আর্য দাবি করেন যে তার উদ্দেশ্য শিশুদের ক্ষতি করা নয়, বরং সরকার তার "বকেয়া ২ কোটি টাকা" পরিশোধ করুক, এই দাবিতেই তিনি এমন চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় মুম্বাই পুলিশের বিশেষ দল।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : মুম্বাইয়ের পোয়াই (Powai) এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা পুরো শহরকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পোয়াইয়ের মহাবীর ক্লাসিক (Mahavir Classic) ভবনের আরএ স্টুডিওতে (RA Studio) এক ব্যক্তি ১৭ জন শিশুকে আটকে রাখেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর মুম্বাই পুলিশ সাহসিক অভিযানে শিশুদের উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রোহিত আর্য (Rohit Arya) নামের ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুরা মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অডিশনের জন্য স্টুডিওটিতে এসেছিল। কিন্তু অডিশনের মাঝেই ৫০ বছর বয়সী আর্য হঠাৎই দরজা বন্ধ করে দেয় এবং নিজেকে স্টুডিওর ভেতরে আটকে ফেলে। তিনি একটি এয়ারগান এবং জ্বলন্ত স্প্রে (flammable spray) হাতে নিয়ে শিশুদের ভয় দেখাতে থাকেন। আর্য দাবি করেন যে তার উদ্দেশ্য শিশুদের ক্ষতি করা নয়, বরং সরকার তার “বকেয়া ২ কোটি টাকা” পরিশোধ করুক, এই দাবিতেই তিনি এমন চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় মুম্বাই পুলিশের বিশেষ দল। একাধিক বার আলোচনার চেষ্টা করেও আর্য আত্মসমর্পণ করতে রাজি হননি। অবশেষে, বিকেল নাগাদ পুলিশ অভিযানে নামে। তিন ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর ১৭ শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং আর্য পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

পুলিশ জানায়, আর্য মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি এয়ারগান, জ্বলন্ত তরলের বোতল এবং কিছু ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি একসময় বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন শিক্ষা সংস্থার জন্য কাজও করেছেন। এই ঘটনার পর আর্য একটি ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেই ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমার কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নেই। আমি সন্ত্রাসী নই। আমি শুধু চাই সরকার আমার পাওনা ২ কোটি টাকা ফেরত দিক।” ভিডিওটিতে আর্য আরও বলেন, “আমার দাবি নৈতিক এবং বৈধ। আমি শুধু চাইছিলাম, আমার কণ্ঠ সরকার শুনুক।”

মহারাষ্ট্রের স্কুল শিক্ষা বিভাগ (Maharashtra School Education Department) আর্যের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। বিভাগটির এক মুখপাত্র বলেন, “রোহিত আর্য যে ২ কোটি টাকার পাওনার কথা বলছেন, তার কোনো নথি বা রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি।” পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আর্যের এই পরিকল্পনা অনেকদিন ধরেই চলছিল। তিনি স্টুডিওর একাংশ ভাড়া নিয়ে নিয়মিত অডিশনের আয়োজন করতেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি স্টুডিওতে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করছিলেন এবং একাধিকবার ‘অডিশন কল’ দিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিকেল চারটার দিকে হঠাৎই স্টুডিওর ভেতর থেকে চিৎকার শোনা যায়। এরপর আশেপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা ঘিরে ফেলে মুম্বাই পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ও অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। পুলিশ কমিশনার (Mumbai Police Commissioner) বলেন, “আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করা। অপারেশন চলাকালীন অভিযুক্ত একাধিকবার বিপজ্জনক আচরণ করেছে। শেষ পর্যন্ত, আমাদের টিম পেশাদারভাবে অপারেশন সম্পন্ন করে।”

ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া ১৭ শিশুকে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা সকলেই নিরাপদ আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কটের দিকেও। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, আর্য কেন এমন অবস্থায় পৌঁছলেন, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। মুম্বাইয়ের পোয়াই এলাকা এখনও ঘটনাটির পর ভয়ের আবহে মোড়া। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। বাচ্চাদের কথা ভেবে এখনো আতঙ্কিত।”

এই আটকের ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এল শহরাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জটিল বাস্তবতা। পুলিশের সক্রিয়তা এক ভয়াবহ পরিণতি ঠেকালেও, প্রশ্ন রয়ে গেল, কেন এমন ঘটনা ঘটল, এবং সমাজ কতটা প্রস্তুত এমন সংকট সামলানোর জন্য?

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির লড়াই-কে এগিয়ে? (আজ দ্বিতীয় কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন