PM Narendra Modi, Xi Jinping, SCO Summit 2025 | ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন দিগন্ত? SCO সম্মেলন ঘিরে তিয়ানজিনে মোদী সফরে আশাবাদ বেজিংয়ের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: সীমান্তে অতীতের উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি, তবুও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (Shanghai Cooperation Organisation) বা SCO সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর (Narendra Modi) আসন্ন চিন সফরকে খোলা মনেই স্বাগত জানিয়েছে বেজিং। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনের তিয়ানজিন (Tianjin) শহরে বসছে SCO-র শীর্ষ বৈঠক, যেখানে উপস্থিত থাকবেন ১০ সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ কিছুটা হলেও গলতে পারে।

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন (Guo Jiakun) মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “SCO গঠনের পর এটাই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় সম্মেলন। আমরা আশা করি, সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তিয়ানজিন শীর্ষ বৈঠক হবে সংহতি, বন্ধুত্ব ও ফলপ্রসূ ফলাফলের এক অনন্য আসর। এই সম্মেলনের মাধ্যমে SCO নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে, যেখানে থাকবে বৃহত্তর সংহতি, সমন্বয়, গতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা।”

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত SCO মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত হয়। বর্তমানে SCO-এর সদস্য দেশগুলো হল বেলারুশ, চিন, ভারত, ইরান, কাজাখাস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত সন্ত্রাস, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের পর এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম চিন সফর। তবে এর মধ্যবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান (Galwan) উপত্যকায় সংঘর্ষের পর, ভারত-চিন সম্পর্ক গভীর সঙ্কটে পড়ে। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হন, আর পরে চিনও পাঁচ সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (Line of Actual Control) বরাবর উত্তেজনা এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে বেড়েছে। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত একাধিকবার চিনা সেনার আগ্রাসনের অভিযোগ উঠেছে বলে উল্লেখ।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, সীমান্তে চিন “অস্বাভাবিক হারে সেনা মোতায়েন” করেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজান (Kazan) শহরে BRICS সম্মেলনে মোদি ও শি জিনপিং (Xi Jinping)-এর সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছিল, তবুও বড় মাপের আলোচনার সুযোগ তেমন মেলেনি। উল্লেখ্য, এবারের SCO শীর্ষ সম্মেলনে ভারত ও চিন উভয় দেশের পক্ষেই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, তিয়ানজিন মঞ্চ হতে পারে একটি “পজিটিভ টার্নিং পয়েন্ট”, যেখানে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পথও সুগম হতে পারে। যদিও অতীতের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়, বিশেষ করে গালওয়ানের পরবর্তী সময়, তবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশই সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগ্রহী বলে ইঙ্গিত মিলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর শুল্কনীতি এবং বিশ্ববাণিজ্যে তৈরি অনিশ্চয়তার আবহে, ভারত ও চিন। দু’পক্ষই নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত স্বার্থে আরও সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।অন্যদিকে, তিয়ানজিন সম্মেলন শুধু SCO-র জন্যই নয়, তা ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর সফরের মাধ্যমে হয়ত নির্ধারিত হবে, দুই দেশের সম্পর্ক কী সত্যিই মজবুত হওয়ার পথে এগোচ্ছে, নাকি সীমান্তের উত্তেজনা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে চলেছে!

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Charles III Meeting | রাজা চার্লসকে ‘সোনোমা ডাভ ট্রি’ উপহার দিলেন মোদী, ব্রিটেন-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতেও সই

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন