সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা আবারও প্রত্যক্ষ করল দেশের সামরিক ইতিহাসের অনন্য অধ্যায়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিজয় দুর্গে (Vijay Durg, সাবেক ফোর্ট উইলিয়াম) আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল তিন দিনের ‘যৌথ সেনাপতি সম্মেলন ২০২৫’-এর (Chiefs of Staff Conference 2025)। ভারতের সামরিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ এই বৈঠকের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Singh), জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval), তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (CDS) অনিল চৌহান (Anil Chauhan), প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা।
উল্লেখ্য যে, রবিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৭টা নাগাদ কলকাতা পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সোজা যান রাজভবনে (Raj Bhavan)। সেখানেই রাত কাটিয়ে সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে রাজভবন থেকে বেরিয়ে সরাসরি পৌঁছে যান বিজয় দুর্গে। নির্ধারিত সময়ে সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি উদ্বোধন করেন সম্মেলনের। প্রধানমন্ত্রী প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বিজয় দুর্গে অবস্থান করেন এবং প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক আধুনিকীকরণ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন বলে উল্লেখ। সূত্রের খবর, এবারের সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু হলো ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কার, রূপান্তর ও পরিবর্তন। আধুনিক যুদ্ধের কৌশল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন, এবং সাইবার ও মহাকাশ ক্ষেত্রে সুরক্ষা, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসেছেন সামরিক নেতৃত্ব। আগামী তিন দিন ধরে দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোর রূপরেখা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে সর্বোচ্চ স্তরে চূড়ান্ত আলোচনা চলবে বলে জানা গিয়েছে।

এদিন, উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ভারতীয় সেনার আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চাবিকাঠি। এই সম্মেলন শুধু নীতি নির্ধারণের মঞ্চ নয়, এটি আমাদের নিরাপত্তা কৌশলের ভিত্তি স্থাপন করছে।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-এর কথায়, “ভারতীয় সেনার সংস্কার এবং পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। দ্রুত পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সেনাবাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তি এবং তথ্যভিত্তিক যুদ্ধকৌশলের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র শুধু স্থল, জল বা আকাশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাইবার স্পেস এবং মহাকাশ হবে আগামী প্রজন্মের মূল ফ্রন্টলাইন। ভারতকে সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে।”
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলন ভারতীয় সেনার ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিকনির্দেশনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলিই আগামী দশকের সামরিক রূপরেখা নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তান সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা ভারতের সামরিক নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।সোমবার, দুপুর ১টা নাগাদ বিজয় দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখান থেকে তিনি যান রেসকোর্সের (Race Course) অস্থায়ী হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে যান। এরপর বাংলা থেকে সরাসরি রওনা দেন পরবর্তী গন্তব্য বিহারের উদ্দেশ্যে। জানা গিয়েছে, দুপুর ১:৩০ টার কিছু আগে তিনি কলকাতা ত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু সম্মেলন উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেটি প্রতিরক্ষা খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গীকারের নতুন বার্তা দিয়েছে। বিজয় দুর্গের ঐতিহাসিক আবহে শুরু হওয়া এই বৈঠক নিঃসন্দেহে আগামী দিনে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Modi Congress attack | ‘আমি শিবভক্ত, গরল গিলে নেব’, কংগ্রেসকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া বার্তা




