সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বার্মিংহাম : দুই দিনের ব্রিটেন সফরে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস (Charles III)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার স্যান্ডরিংহ্যাম হাউস (Sandringham House)-এ তাদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকে চার্লসকে একটি বিশেষ গাছ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ‘সোনোমা ডাভ ট্রি’ (Sonoma Dove Tree)। এই উপহার শুধুই সৌজন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে মোদীর ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) প্রকল্পের বার্তা।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানিয়েছেন, এই সাক্ষাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আয়ুর্বেদ, যোগ এবং মিশন লাইফ (Mission LiFE) প্রকল্পের প্রসার ব্রিটেনেও ঘটানোর বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই প্রকল্প। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী গত বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘এক পেড় মা কে নাম’ প্রকল্পের সূচনা করেন। দিল্লির বুদ্ধজয়ন্তী পার্কে (Buddha Jayanti Park) তিনি একটি চারা পুঁতে প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন। তাঁর মতে, “মা যেমন আমাদের জীবন দেয়, তেমনই প্রকৃতিও আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। সেই প্রকৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে গাছ লাগানোই প্রকৃত উপায়।” বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে গাছপালা রোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই মোদীর এই প্রকল্প, যাতে দেশে ও বিশ্বে বৃক্ষরোপণ আরও বাড়ে। সেই উদ্যোগেরই প্রতীক হিসেবে চার্লসকে এই সাদা ফুলের গাছ উপহার দেন মোদী।
অন্যদিকে এদিনই দুই দেশের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) স্বাক্ষরিত হয়। তিনটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে। সেই সমস্যাগুলির সমাধান করে বৃহস্পতিবার চুক্তিতে সই করেন মোদি ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। স্টার্মারের সরকারের অন্যতম প্রধান বিদেশনীতি ছিল ভারতের সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পূর্ণ করা। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির ফলে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ভারতের কৃষি, উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের জন্যও এটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। অন্যদিকে, বৃটেনের বাণিজ্য দফতর জানিয়েছে, ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে পারা তাদের অর্থনীতির জন্য বড় সুবিধা। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক স্তরেই নয়, কূটনৈতিক স্তরেও আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং চুক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত-বৃটেনের এই অংশীদারিত্ব নতুন দিশা দেখাবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Namibia visit | নামিবিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী: গান স্যালুটে স্বাগত, প্রবাসীদের উপহারে ভরা উষ্ণ অভ্যর্থনা




