Pinarayi Vijayan | সুপ্রিম কোর্টে অভূতপূর্ব ঘটনা ও কেরালা সিএম পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : সোমবার (৬ অক্টোবর, ২০২৫) দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ঘটে গেল দু’টি বড় খবর। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাই (CJI BR Gavai)-এর সামনে ঘটে গেল এক অস্বাভাবিক ঘটনা। আদালতের ভেতরে আচমকা এক ব্যক্তি তাঁর দিকে কোনও বস্তু নিক্ষেপ করতে যান। অন্যদিকে একই দিনে আদালত কেরালা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Kerala CM Pinarayi Vijayan) এবং তাঁর কন্যা বিনা থাইক্কান্ডিয়িল (Veena Thaikkandiyil) -এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া “সিএমআরএল (CMRL) কেস” সংক্রান্ত মামলাটিকে খারিজ করে দেয়। এই দু’টি ঘটনাই আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোড়ন তুলেছে।

সুপ্রিম কোর্টে হট্টগোল: প্রধান বিচারপতির দিকে বস্তু নিক্ষেপের চেষ্টা

সকালের সেশনে হঠাৎ করেই সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রমে অশান্তি দেখা দেয়। একজন ব্যক্তি, যিনি আইনজীবীর পোশাক (Lawyer’s Robe) পরে উপস্থিত ছিলেন, আচমকা প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাই (BR Gavai) -এর দিকে একটি বস্তু নিক্ষেপের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে কেউ বলছেন, সেটি ছিল জুতো, আবার কেউ বলছেন একটি মোড়ানো কাগজের রোল। ওই ব্যক্তি আদালত কক্ষে চিৎকার করে বলতে থাকেন— “Sanatan Dharam ka apmaan nahi sahega Hindustan” (“সনাতন ধর্মের অপমান ভারত সহ্য করবে না”)।
আদালতের নিরাপত্তা কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বাইরে নিয়ে যান। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের জন্য আদালতের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটালেও প্রধান বিচারপতি গাভাই তাঁর ধীরস্থিরতা বজায় রেখে বলেন, “Don’t get distracted. We are not distracted by this” (“বিচলিত হবেন না, আমরা বিচলিত নই”)। এরপর তিনি পরবর্তী মামলার শুনানি চালিয়ে যান। এই মন্তব্য আদালত কক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ও দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা কুড়ায়।

কেরালা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা খারিজ

একই দিনে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয় কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan), তাঁর কন্যা বিনা থাইক্কান্ডিয়িল (Veena Thaikkandiyil) এবং কোচি মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (Cochin Minerals and Rutile Ltd – CMRL) সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার। কংগ্রেস বিধায়ক ম্যাথিউ কুজালনাদান (Mathew Kuzhalnadan) দায়ের করেছিলেন একটি আবেদন, তাতে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর কন্যার বিরুদ্ধে তদন্ত চাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, সিএমআরএল প্রতি মাসে ৫ লক্ষ টাকা বিনাকে এবং তাঁর কোম্পানি এক্সালজিক সলিউশনসকে (Exalogic Solutions) ৩ লক্ষ টাকা করে প্রদান করছিল, যা আইটি ও মার্কেটিং কনসালটেন্সির নামে ঘুষ হিসাবে দেওয়া হচ্ছিল।
আদালতে মামলাটির শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাই (BR Gavai) এবং বিচারপতি কে. ভিনোদ চন্দ্রন (Justice K Vinod Chandran) স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক লড়াই আদালতের মঞ্চে নয়, তা নির্বাচনী ময়দানে হওয়া উচিত। প্রধান বিচারপতি গাভাই বলেন : “We have been consistently saying, fight your political battles before the electorate and not in the Court.”
পিটিশনারের আইনজীবী গুরু কৃষ্ণ কুমার (Guru Krishna Kumar) যুক্তি দেন যে, হাই কোর্ট নিজেই কিছু প্রশ্ন তুলেছিল, যা তদন্তের যোগ্য। কিন্তু বিচারপতি চন্দ্রন (Justice Chandran) কড়া ভাষায় বলেন, “It doesn’t. What sort of a statement is that?” তিনি আরও যোগ করেন, “এই কারণেই প্রধান বিচারপতি বলেছেন, রাজনৈতিক লড়াই ভোটের ময়দানে করুন, আদালতে নয়।”

কুজালনাদানের অভিযোগ ও আদালতের রায়

পিটিশনার দাবি করেছিলেন যে, সিএমআরএল (CMRL) স্বীকার করেছে তারা আসলে কোনও পরিষেবা পায়নি, অথচ টাকা প্রদান করেছে। এর অর্থ টাকা দেওয়া হয়েছে সুবিধাজনক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য। তবে হাইকোর্ট (Kerala High Court) এবং ভিজিল্যান্স কোর্ট (Vigilance Court) আগেই এই অভিযোগকে কেবলমাত্র সন্দেহের উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছিল এবং কোনোও প্রমাণিত তথ্য নেই বলে রায় দিয়েছিল। উল্লেখ্য, কেরালা হাইকোর্টের বিচারপতি কে. বাবু (Justice K. Babu) তাঁর ৫৯ পাতার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন, “অভিযোগে কেবল সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু কোনও প্রমাণযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা যায়নি।” আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, এমন অযথা তদন্ত বা অনুসন্ধান একজন সরকারি কর্মীর (Public Servant) সুনাম নষ্ট করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টও সোমবার একই অবস্থান ধরে রাখে। মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করে তা খারিজ করে দেয়। ফলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) এবং তাঁর কন্যা বড় ধরনের স্বস্তি পান। তবে রাজনৈতিক মহলে এই রায় নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির দাবি করছে, দুর্নীতির অভিযোগ এভাবে খারিজ হওয়া উচিত হয়নি। আদালতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিবাল (Kapil Sibal)। তবে তাঁকে কিছু বলতে হয়নি। কারণ আবেদনকারীর বক্তব্য শোনার পরই আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। আদালতের বক্তব্য ছিল, দুর্নীতির মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না। প্রমাণ ছাড়া শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে অভিযোগ করলে একজন জনপ্রতিনিধির সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। তাই আদালত মনে করেছে এই ধরণের মামলাকে গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একই দিনে সুপ্রিম কোর্টে ঘটে যাওয়া দু’টি ঘটনা আদালতের ভেতরে এবং বাইরে সমানভাবে আলোড়ন তুলেছে। একদিকে প্রধান বিচারপতির দিকে বস্তু নিক্ষেপের চেষ্টা আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাজনৈতিক লড়াই নির্বাচনের ময়দানেই হওয়া উচিত, আদালতকে ব্যবহার করা ঠিক নয়। এই বার্তাটি আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বামেরা বড় স্বস্তি পাবে বলে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করে। 
ছবি : সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Darjeeling Landslide | দার্জিলিঙে ভয়াবহ ভূমিধসে ১৭ জনের মৃত্যু, সিকিম-কালিম্পং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন