overcome laziness after puja holidays | পুজোর পর কাজে ফেরার ক্লান্তি কাটাতে কার্যকর সহজ উপায়

SHARE:

শর্মিষ্ঠা সাহা মৈত্র ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : পুজোর আনন্দ শেষ। টানা কয়েকদিনের ছুটি (holidays), আড্ডা, রাত জাগা, ভোজন আর উৎসবের উন্মাদনা শেষ হয়ে হঠাৎ করে যখন আবার রুটিনে ফিরতে হয়, তখনই সমস্যা শুরু হয়। সকালবেলায় ঘুম ভাঙতেই শরীর আর মন জড়সড় হয়ে থাকে। অজানা এক ক্লান্তি যেন চেপে বসে। অনেকেই বলেন, “উৎসবের মেজাজ কাটাতে কাটাতে অফিসের কাজে মন বসে না।” এই আলস্য কাটানোই আসল চ্যালেঞ্জ। তবে কিছু ছোট ছোট অভ্যাসই পারে শরীর ও মনকে দ্রুত চাঙ্গা করে তুলতে।

Read : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

সাইকোলজিস্ট অরিন্দম দত্ত জানাচ্ছেন, “মানুষের শরীর-মন একটা রিদম বা ছন্দে চলে। যখন সেই ছন্দটা ভেঙে যায়, তখন ক্লান্তি বা অস্থিরতা বেড়ে যায়। উৎসবের সময়ে রাত জাগা, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, বেশি আড্ডা, এসব মিলেই রুটিনের পরিবর্তন ঘটায়। ফলে কাজে ফেরার সময় হঠাৎ চাপ তৈরি হয়।” তাই আলস্য ঝেড়ে ফেলে মনের এনার্জি বাড়ানোই একমাত্র উপায়। প্রথমেই দিনের শুরুটা হওয়া চাই অন্য রকম। সকালবেলায় মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে না থেকে বরং নিজের ভাল লাগার কিছু করুন। হয়ত এক কাপ চা হাতে বারান্দায় বসে গাছের দিকে তাকানো, কিংবা গান শোনা, এগুলোই হতে পারে এনার্জি বাড়ানোর উপায়। কেউ চাইলে যোগাসন বা হালকা ব্যায়াম দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন।

Read : Rituparna Kajol Durga Puja, Mumbai Durga Puja 2025 | ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত : ভালবাসার টানে কলকাতা থেকে মুম্বই

ফিটনেস ট্রেইনার নীলাঞ্জনা রায় বলেন, “সকালের ১৫ মিনিট শরীরচর্চা বা প্রানায়াম মানসিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে। এতে সারাদিনের ক্লান্তি কম লাগে।” কাজে ফেরার প্রথম দিনই পাহাড়সম কাজ গায়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। ধীরে ধীরে রুটিনে ফেরা জরুরি। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিলে মন হালকা থাকে। একটানা কাজ করলে একঘেয়েমি তৈরি হয়, তাই মাঝেমধ্যে ডেস্কের অবস্থান বদলানো বা নিজের ওয়ার্কস্পেসে নতুন কিছু যোগ করা মনের উচ্ছ্বাস বাড়ায়। কেউ চাইলে কাজের ফাঁকে হালকা গান শুনতে পারেন। এতে মনোযোগও বেড়ে যাবে। অফিস শেষে বা দিনের মধ্যে ক’য়েক মিনিট মেডিটেশনও দারুণ ফল দেয়। হালকা যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম কিংবা শুধু চোখ বন্ধ করে শান্তভাবে বসে থাকার মধ্য দিয়েও মন শান্ত হয়। সাইকোলজিস্ট প্রজ্ঞা মুখার্জি বলেন, “মেডিটেশন মানসিক চাপ কমানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। উৎসবের হইচই কাটিয়ে কাজে ফেরার সময়ে এটা শরীর ও মনকে দ্রুত রিল্যাক্স করে।” আবার, খাবারের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা দরকার। উৎসবের সময়ে অল্পবিস্তর জাঙ্ক ফুড, মিষ্টি বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা থাকেই। কিন্তু কাজ শুরু হলে হালকা ও সুষম খাবার খাওয়া উচিত। সবুজ শাকসবজি, ফল, প্রচুর জল আর হেলদি স্ন্যাক্স শরীরকে ক্লান্তি থেকে দূরে রাখে। আর রাত জাগা এড়িয়ে পর্যাপ্ত ঘুম নিলে মনও ভাল থাকে।মনোবিদরা বলছেন, উৎসবের পর মন খারাপ বা অলসতা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাকে ধরে রাখা উচিত নয়। বরং নিজেকে চাঙ্গা করতে সচেতনভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। হাঁটাহাঁটি, ছোট ভ্রমণ বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোও এই সময়ে মানসিক শক্তি ফিরিয়ে আনে।

Read : Bijaya Dashami 2025 Greetings, Durga Puja 2025 Wishes | দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছায় ভরে উঠুক সম্পর্কের আবহ : দুর্গা পূজা ২০২৫-এ প্রিয়জনকে পাঠান বিশেষ বার্তা

কিন্তু, মনে রাখা দরকার যে, উৎসব জীবনের অংশ হলেও দৈনন্দিন কাজও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুজোর রঙিন স্মৃতি হৃদয়ে রেখে, নতুন এনার্জি নিয়ে কাজে ফেরা উচিত। শরীর ও মন দুটোই যখন প্রফুল্ল থাকবে, তখনই কাজ হবে সহজ আর আনন্দময়।

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mahalaya 2026, Durga Puja Dates | দুর্গাপুজো ২০২৬: কবে মহালয়া, কবে ষষ্ঠী থেকে দশমী : দেখে নিন আগামী বছরের নির্ঘণ্ট

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন