শ্রেয়সী মজুমদার ★ সাশ্রয় নিউজ : দাম্পত্য সম্পর্ক মানেই শুধু ছাদনাতলার প্রতিশ্রুতি নয়, এ হল এক গভীর বোঝাপড়া, নির্ভরতা আর আন্তরিকতার সেতুবন্ধন। অথচ একসঙ্গে থাকতে থাকতে মাঝেমধ্যেই সেই সম্পর্কে দেখা দেয় চিড়, দূরত্ব কিংবা নিঃশব্দ অভিমান।

গবেষক ও মনোবিদেরা বলছেন, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ আছে। পাঁচটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই আপনার দাম্পত্যে ফিরতে পারে প্রেমের ঝলকানি। সম্পর্ক যেমন দৃঢ় হবে, তেমনই বাড়বে একে অপরকে বোঝার সক্ষমতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় টোটকাটি হল খোলামেলা কথা বলা। সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রাহুল দেব (Rahul Dev) বলেন, ‘যখন একজন স্বামী বা স্ত্রী নিজেদের সব অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়া খোলাখুলি ভাগ করে নেন সঙ্গীর সঙ্গে, তখন সেই সম্পর্কটা একটা নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে।’ তাঁর মতে, যখন দু’জনের মধ্যে নির্ভয়ে সবকিছু বলা যায়, তখন সম্পর্ক থাকে ঝকঝকে ও বিশ্বাসে ভরা। আর একবার বিশ্বাসের ভিত গড়ে উঠলে, সেটা টলানো কঠিন।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ না রাখা। অনেক সময়ই আমরা ভাবি, ‘ও বুঝবে’, ‘ও জানে’ এই রকম ভরসার জায়গা থেকেই অনেক কিছু না বলেই চুপ করে থাকি। অথচ এটা একেবারেই ঠিক নয়। পুণের কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট শ্রুতি মেহতা (Shruti Mehta) বলেন, ‘আপনি যত বেশি অস্পষ্ট থাকবেন, ততই আপনার সঙ্গী বিভ্রান্ত হবেন। একটা সময়ের পর ভুল বোঝাবুঝি শুরু হবে, আর সেখান থেকেই তৈরি হবে অবিশ্বাসের দেওয়াল।’ সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনার মধ্যে দিয়েই এই সমস্যাগুলি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

তৃতীয়ত, সম্পর্ক মজবুত করতে গেলে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কমানো উচিত। মানে, আপনার সম্পর্কের সমস্যার কথা বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন, তবে মূল আলোচনাটা যেন হয় আপনার সঙ্গীর সঙ্গেই। দিল্লির রিলেশনশিপ থেরাপিস্ট অনুপমা ভট্টাচার্য (Anupama Bhattacharya) বলেন, ‘অনেকেই সম্পর্ক জট খুলতে গিয়ে অন্যের পরামর্শে আরও গিঁট পাকিয়ে ফেলেন। এতে সমস্যা কমার বদলে বেড়ে যায়।’ তাই তিনি পরামর্শ দেন, যেটা বোঝা যাচ্ছে না, সেটা প্রথমে নিজের সঙ্গীকেই বলা হোক।

চতুর্থ টোটকা হল নিজেকে বোঝার চেষ্টা। এটা শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু সত্যি। যখন আপনি সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত আপনার অভ্যন্তরীণ অনুভূতি, ইচ্ছা বা আশঙ্কা ভাগ করে নেন, তখন আপনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকেও আরও পরিষ্কারভাবে দেখতে পান। কলকাতার ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট সায়ন্তিকা রায় (Sayantika Roy) বলেন, ‘খোলামেলা কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে একজন মানুষ যেমন নিজের সঙ্গীর মানসিক গঠন বুঝতে পারেন, তেমনই নিজের ভাবনার ধারা, আচরণগত প্রতিক্রিয়া ও সমস্যা বোঝার ক্ষেত্রেও উন্নতি ঘটে।’

উল্লেখ্য, সম্পর্ককে গভীর করতে সাহায্য করে মনের সংযোগ বা ইমোশনাল ইনটিমেসি। আপনি যদি চান, আপনার জীবনসঙ্গী হোক সেই মানুষ, যিনি আপনাকে সবচেয়ে ভাল চেনেন, তবে আপনাকেও সেই চেষ্টায় নিজেকে উজাড় করে দিতে হবে। শুধু দৈনন্দিন কথাবার্তা নয়, একে অপরের ভয়, কষ্ট, আনন্দ, স্বপ্ন, সবকিছু ভাগ করে নিতে হবে। তবেই দু’জনের মধ্যে তৈরি হবে এক অকাট্য মানসিক বন্ধন।

এই পাঁচটি সহজ অথচ প্রভাবশালী অভ্যাস যদি দাম্পত্য জীবনে নিয়মিত প্রয়োগ করা যায়, তাহলে সম্পর্ক হবে আরও শক্তপোক্ত, ভরসাযোগ্য ও ভালোবাসায় ভরপুর। এক কথায়, খোলামেলা কথাবার্তাই দাম্পত্যের চাবিকাঠি। সম্পর্ক মানেই নিঃশর্ত ভালোবাসা, আর সেই ভালবাসার প্রথম সোপান হল সৎ ও আন্তরিক যোগাযোগ। তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চুপ করে থাকা নয়, সাহস করে মনের দরজা খুলুন। দেখা যাবে, যৌবনের বাঁধ ভেঙে দাম্পত্যে উঠছে প্রেমের নতুন ঝড়।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Ranbir Kapoor Deepika relationship | রণবীরের এক বাক্যে ফাঁস দীপিকার ‘রাগী’ সত্তা, রাগে ফোন ভেঙে ফেলেন দীপিকা পাড়ুকোন




