সোমনাথ আচার্য : সংখ্যা, নাম আর জন্ম তারিখ এই তিনের যোগফলে আমাদের জীবনের গতিপথ কোথায় গিয়ে মিলবে, তা বোঝাতে পারে প্রাচীন জ্ঞান ‘সংখ্যাতত্ত্ব’ বা Numerology। বিশেষত জন্মের তারিখের সংখ্যার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় “লাইফ পাথ নাম্বার” বা জীবনের পথনির্দেশ। এই পথনির্দেশ অনেকটাই আমাদের পছন্দ, স্বভাব, সঙ্গী বাছাই, এমনকী জীবনে কোন পথে চললে সাফল্য আসবেতা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। আজ আমরা দেখব, সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী “জন্মসংখ্যা ৯” এবং সেই সঙ্গে যারা ২৭ তারিখে জন্মেছেন, তাদের জীবনপথ, প্রেম, দাম্পত্য ও পেশাগত ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে।
২৭ তারিখে জন্ম মানে: ২ + ৭ = ৯। অর্থাৎ এই তারিখে জন্মানো জাতক জাতিকারা ‘নবম সংখ্যার’ অন্তর্ভুক্ত। সংখ্যাতত্ত্বে ৯ নম্বরকে রোমান্টিক, আবেগপ্রবণ, ত্যাগী ও সহানুভূতিশীল বলে মনে করা হয়। এই সংখ্যার শাসক গ্রহ মঙ্গল (Mars)। ফলে এঁরা ভীষণ শক্তিশালী মানসিকতা, অদম্য উৎসাহ ও কখনও কখনও একটু উগ্র আবেগের অধিকারী হন। ২৭ তারিখের জাতক-জাতিকারা সাধারণত অন্তর্মুখী হলেও, তাঁদের অনুভব প্রবল। তাঁরা জীবনে ভালবাসা খোঁজেন কিন্তু নিছক মোহ নয়, গভীর, দায়বদ্ধ এবং নৈতিক ভালবাসা। প্রেমে একবার পড়লে খুব গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। আবার সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে ভিতরে ভিতরে গুটিয়ে নেন নিজেকে। কিছুক্ষেত্রে অতীতের আবেগ ভুলতে তাঁদের সময় লেগে যায় অনেক।
বিয়ের ক্ষেত্রেও ২৭ তারিখে জন্মানো জাতক জাতিকাদের জন্য সম্পর্কের গভীরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের পার্টনার হতে হবে সংবেদনশীল, নম্র ও জীবনের গভীরতা বুঝতে পারা কেউ। সংখ্যাতত্ত্ব মতে, এই সংখ্যার সঙ্গে সবচেয়ে ভাল মানিয়ে যায় জন্মসংখ্যা ২ (যেমন ২, ১১, ২০, ২৯ তারিখে জন্মানোরা), জন্মসংখ্যা ৬ (৬, ১৫, ২৪) এবং কিছু ক্ষেত্রে ৯ সংখ্যারই অপর একজোড়া। এঁদের সঙ্গে আত্মিক মিলন ঘটে সহজে। এঁদের সম্পর্ক হয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির ভিত্তিতে। একজন ২৭ তারিখে জন্মানো পুরুষ বা নারী সাধারণত সংসারে শান্তি চান, অহেতুক ঝগড়া বা নাটক এড়িয়ে যান। এঁরা যখন কারও সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তখন একধরনের তীব্র দায়িত্ববোধ ও রক্ষা করার মানসিকতা কাজ করে। অনেক সময় নিজেকে হারিয়ে ফেলেন সঙ্গীকে ভাল রাখার চেষ্টায়। এইরকম আত্মবিসর্জনের মনোভাব তাঁদের অতিরিক্ত কষ্টে ঠেলে দিতে পারে যদি সঙ্গী সেই আবেগের মর্যাদা না দেন।
Read : Sex : সেক্স বা যৌনতা : প্রেম ও পরিচর্যার একটি জরুরি অধ্যায়
পেশাগত জীবনে ২৭ তারিখে জন্মানোরা অত্যন্ত দায়বদ্ধ ও নিবেদিতপ্রাণ। তাঁরা যে কাজই করুন না কেন, তাতে একধরনের মানবিক স্পর্শ থাকে। চিকিৎসা, সমাজসেবা, শিক্ষকতা, আইন, বা মনস্তত্ত্বের মতো পেশায় তাঁরা দারুণ মানিয়ে যান। আবার যাঁরা সৃজনশীল পথে হাঁটেন লেখক, শিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী বা চলচ্চিত্র পরিচালক তাঁদের কাজেও দেখা যায় অতল আবেগ ও গভীর জীবনদর্শন। তবে কর্পোরেট জগতে তাঁদের পক্ষে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা একটু কষ্টকর হতে পারে, যদি সেই পরিবেশে মানবিক মূল্যবোধ কম থাকে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও ২৭ তারিখে জন্মানোরা বেশ মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্যে থাকেন। তাঁরা ধন সম্পত্তির প্রতি খুব একটা আসক্ত নন, অর্থকে একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন নিজের ও সমাজের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য। ফলে কখনও বেশি রোজগার করেও তা ধরে রাখতে পারেন না, আবার কখনও সামান্য আয় থেকেও অভাব বোধ করেন না। এই সংখ্যার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আত্ম-উন্নয়ন। ২৭ তারিখে জন্মানোরা অন্তর্দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন, ধর্ম, দর্শন, মেডিটেশন, কিংবা আধ্যাত্মিকতা তাঁদের টানে। জীবনের একটা পর্যায়ে তাঁরা খুব গম্ভীরভাবে খোঁজেন, “আমি কে?” ও “আমার কাজ কী এই জীবনে?” সেই অনুসন্ধানেই অনেকে সমাজসেবামূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেন, অনেকে আবার নির্জনে গিয়ে একান্ত আত্মবিশ্লেষণে ডুবে যান।
সংখ্যাতত্ত্ববিদ রাজীব নন্দী (Rajib Nandy) বলছেন, “২৭ তারিখে জন্মানো নারী ও পুরুষ জন্মগত ভাবে একজন প্রেমিক এবং যোদ্ধা। প্রেমের ক্ষেত্রে নিবেদিত, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস রাখেন। তাঁদের জন্য জীবন মানে দায়িত্ব, সম্পর্ক মানে প্রতিশ্রুতি।” তবে জন্ম তারিখ কোনও শিকল নয়, এটি একটি ইঙ্গিতমাত্র। ব্যক্তির বর্তমান সিদ্ধান্ত, অভিজ্ঞতা ও মানসিক পরিপক্বতাও অনেকটাই নির্ধারণ করে ভবিষ্যতের পথ। তাই সংখ্যার যুক্তিকে জানতে পারা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নিজের আত্মসমালোচনাও জরুরি।২৭ তারিখে জন্মানো জাতক-জাতিকা যদি নিজের আবেগকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেন, ও সঠিক সঙ্গী ও পেশা বেছে নিতে পারেন, তাহলে তাঁদের জীবনে আসে গভীর সাফল্য, অন্তরের শান্তি, এবং এমন এক জীবনবোধ যা অনেককে আলোকিত করতে পারে। সংখ্যার জগত যেমন রহস্যময়, তেমনই প্রতিশ্রুতিময়ও।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Numerology | সংখ্যার ছকে বাঁধা জীবন ২৬ জুন ও ‘৮’ সংখ্যার জাতক-জাতিকাদের ভাগ্যচিত্র




