বিনীত শর্মা ★ নতুন দিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আজ, ২৩ জুলাই, চার দিনের ব্রিটেন ও মালদ্বীপ সফরে রওনা হয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক নয়, কিন্তু ভারতের জন্য এক গভীর কৌশলগত জয়। কারণ, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু (Mohamed Muizzu) কিছুটা চিন ঘেঁষা বলে ধারনা করা হয়। তাই ‘মিশন মালদ্বীপ’ কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই। দুই বছর আগে, ২০২৩ সালে, মালদ্বীপের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা চাপানউতোর দেখা দিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি মুইজ্জু (Muizzu) সেই সময় ভারত বিরোধী স্লোগান দিয়ে বলেছিলেন, ‘ইন্ডিয়া আউট’। নতুন দিল্লির কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, চিন (China) হয়ত মালদ্বীপকে তার প্রভাবক্ষেত্রে টেনে নেবে। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা পুরো উল্টো। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি মুইজ্জু বুঝতে পেরেছিলেন, চিনের তুলনায় ভারত মালদ্বীপের জন্য অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ও বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু। কারণ, ভারত শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্য সহযোগী হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালে, মালদ্বীপকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সাহায্য ও ৩ হাজার কোটি টাকার মুদ্রা বিনিময় সুবিধা দিয়েছিল ভারত। সেইসঙ্গে, প্রতিরক্ষা ও সমুদ্র নিরাপত্তা খাতে একাধিক চুক্তি করে দুই দেশ। এ বছর, ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ৫৬ কোটি টাকার সহায়তায় মালদ্বীপে নতুন ফেরি পরিষেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। ফলে, সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী মহল, সকলেই ভারতের প্রতি আস্থা রাখতে শুরু করে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এই কৌশলগত জয়কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘মিশন মালদ্বীপ’। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধুই একটি সফর নয়, বরং চিনকে নীরবে সরিয়ে দিয়ে মালদ্বীপকে ভারতের নীতি ও অর্থনীতির ধারায় স্থাপন করার এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদ রমেশ চন্দ্র দত্ত (Ramesh Chandra Dutta)-এর কথায়, ‘মালদ্বীপকে পাশে রাখা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌসেনার গতি ও ভারত মহাসাগরের ‘গ্রেটার ইন্ডিয়ান ওশান পলিসি’র জন্য অপরিহার্য। মোদীর এই সফর প্রমাণ করছে ভারত এখনও এই অঞ্চলের কূটনৈতিক ভরকেন্দ্রেই রয়েছে।’
উল্লেখ্য যে, মালদ্বীপের ৬০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এটি ভারতের জন্য সম্মানের বিষয়, কারণ কিছুদিন আগেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping) মালদ্বীপ সফরের পরিকল্পনা করলেও তা স্থগিত হয়। ফলে মোদীর সফরকে আন্তর্জাতিক মহল ভারতের ‘কৌশলগত জয়যাত্রা’ হিসেবেই দেখছে। সরকারি সূত্রের খবর, ‘মালদ্বীপের উন্নয়নে ভারত যে প্রকল্পগুলি শুরু করেছে, তা এই দ্বীপ রাষ্ট্রের জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই সফরে নতুন কিছু প্রকল্পেরও শিলান্যাস হবে।’ কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার যৌথীকরণও হবে এই সফরের বড় অর্জন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর (Belt and Road Initiative) মাধ্যমে যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে, মোদীর মিশন মালদ্বীপ তা রুখে দিচ্ছে। কারণ, ভারত জানে এই অঞ্চল তার জন্য শুধু কৌশলগত নয়, অস্তিত্বের লড়াইও বটে। আর সেই যুদ্ধেই এই সফর ভারতের বিজয় রথকে আরও এগিয়ে দিল।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi BRICS Summit 2025 | বিশ্ব স্বাস্থ্য আর পরিবেশ সুরক্ষায় একসঙ্গে চলতে হবে: ব্রিকস মঞ্চে মোদীর বার্তা




