Nabadwip | নবদ্বীপে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নবদ্বীপ (Nabadwip)-এর প্রাচীন মায়াপুর (Mayapur) এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক বিজেপি (BJP) কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি থেকে কয়েকজন দুষ্কৃতি  ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের পর পালিয়ে যায়। ওই বিজেপি কর্মীকে স্থানীয় কয়েক হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। মৃতের নাম সঞ্জয় ভৌমিক (৪০)।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে। স্থানীয় বিজেপি ও রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর,  নবদ্বীপের বিধায়ক পুন্ডরীকাক্ষ সাহা (Pundarikaksh Saha) -এর গাড়ির প্রাক্তন চালক তারক দাস (Tarok Das), তৃণমূলের বুথ সভাপতি গদাধর রায় (Gadadhar Roy), তাপস দাস (Tapas Das), অরিন্দম মণ্ডল (Arindam Mondal) সহ আরও কয়েকজন অভিযুক্তের নাম উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো প্রকার প্ররোচনা ছাড়াই বিজেপি কর্মী সঞ্জয় ভৌমিককে তার বাড়িতে থাকা অবস্থায় ঘর থেকে বের করে এনে উঠোনে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়।

পরিবারের দাবি, বাধা দিতে গেলে সঞ্জয়ের বাবা সুকুমার ভৌমিক (Sukumar Bhowmik) এবং মা অলকাদেবী (Aloka Devi)-কেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সঞ্জয়কে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই ঘটনাকে তৃণমূলী সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “শুধুমাত্র বিজেপি করার অপরাধে সঞ্জয় ভৌমিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। রাজ্যে এর আগেও শতাধিক বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আন্দোলন জারি থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে বিজেপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। খুনিদের কঠোরতম সাজা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। বিজেপি পরিবার সঞ্জয়ের পরিবারের পাশে রয়েছে।”

এদিকে ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সঞ্জয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক রেষারেষি এই ঘটনার পিছনে বড় কারণ হতে পারে। যদিও তাদের বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এখনো শুরু হয়নি।

পরিবারের দাবি, নিরপরাধ একজন মানুষকে কেবলমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রাণ দিতে হলো। এলাকায় ভয়ের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠছে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এখন সবার চোখ প্রশাসনের দিকে। কারণ সরকারি তদন্ত ছাড়া ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে না। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এ ধরনের সহিংসতা যদি চলতে থাকে তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এই মুহূর্তে নবদ্বীপের মায়াপুর এলাকায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সত্যতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এখন মূলত নির্ভর করছে প্রশাসনের পদক্ষেপের উপর।

ছবি: সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Birthday: ৭৫তম জন্মদিনে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন