সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রানাঘাট : নদীয়া জেলায় ইতিমধ্যেই ভোটের আবহ তুঙ্গে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শেষ হতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দান আরও সরগরম হতে চলেছে। কারণ আগামী ২০ ডিসেম্বর নদীয়ার রানাঘাটের তাহেরপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতারা বলছেন, এই সফর শুধু প্রচারের দিকে বড় পদক্ষেপই নয়, তা আগামী লোকসভা ভোটে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের শক্ত ঘাঁটি আরও দৃঢ় করতেই এই কৌশলগত এগিয়ে চলা।
বিজেপির অন্দরমহলের খবর, এ বছর বাংলায় মোট দশটি বড় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আলিপুরদুয়ার, দমদম ও দুর্গাপুর মিলিয়ে তিনটি সভা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন তিনি। এবার বাকিগুলির সূচনা হবে নদীয়ার রানাঘাট দিয়েই। তাহেরপুরের নির্ধারিত মাঠে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সাউন্ড সিস্টেম, এমনকী স্থানীয় গ্রাম ও আশপাশের রাস্তা গুলিতে চলছে পরিষ্কার করার কাজ। এই এলাকা মূলত উদ্বাস্তু অধ্যুষিত হওয়ায় জনসভায় মানুষের উপস্থিতি যে ব্যাপক হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay) এদিন বলেন, “আগামী ২০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী আসছেন। তাহেরপুরের মাঠেই তিনি জনসভা করবেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনও থাকতে পারে। বিহারের জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, ‘গঙ্গা বাংলা হয়েও যায়’। তাই আমরা আশা করি, বিহারের মতো বাংলাতেও পরিবর্তনের আবহ তৈরি হবে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, বিজেপি বিহারের সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রতিফলন দেখতে চাইছে বাংলার ভোটবাক্সেও।
প্রশ্ন উঠছে, রানাঘাটকেই প্রচারের সূচনার কেন্দ্র হিসাবে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর দুইটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, রানাঘাট এখন মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। ঠাকুরনগরের পাশাপাশি নদিয়ার এই এলাকার মতুয়া সম্প্রদায় রাজ্যে বিজেপির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে সম্প্রতি মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম বাদ পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তাঁদের মন জয়ের পথে হেঁটে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছেন। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী বেঙ্গল-বিজেপির বাঙালি সাংসদদের সতর্ক করেছিলেন এই ইস্যুতে। বিশেষ করে এসআইআর সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে নেতা-নেত্রীদের উদ্যোগী হওয়ার বার্তাও দিয়েছিলেন মোদী। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, মানুষের মনে যেন কোনও ভয় না তৈরি হয়, বিশেষ করে মতুয়াদের ক্ষেত্রে। এ কারণে নদীয়ার মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকেই তিনি প্রচারযাত্রার শুরু করছেন।
তাহেরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মোদীর সভার আগে পুরো এলাকা ছোটখাটো উৎসবের আবহে বদলে গেছে। দোকানপাটের সামনে তোরণ, বিজেপির পতাকা, ব্যানার আর কাট-আউটে ভরে গিয়েছে রাস্তা। অনেকেই বলছেন, “মোদী আসছেন, এটাই বড় খবর। তাঁকে একবার সামনে থেকে দেখব, এই উত্তেজনায় পুরো এলাকা সরগরম।” নদীয়ার বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এখানে প্রচারের প্রথম ধাপেই প্রধানমন্ত্রী বড় বার্তা দিতে পারেন, বিশেষ করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে মতুয়া উদ্বেগ সমাধানের বিষয়ে। কারণ মতুয়া মহলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠছে, নাগরিকত্ব নিয়ে কেন্দ্র যেন আরও পরিষ্কার অবস্থান জানায়। তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রানাঘাটের সভা শুধু প্রচারের সূচনা নয়, বরং বিজেপির ভোট সমীকরণকে আরও যুথবদ্ধ করার কৌশল।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, মোদীর সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি, সাংসদ, প্রার্থীসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির জন্য বিশেষ দল পৌঁছে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হতে পারে, এমনটাই আশা স্থানীয় নেতৃত্বের। উল্লেখ্য, রানাঘাটের এই সভা তাই শুধুই একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। তা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার অন্যতম প্রভাবশালী গোষ্ঠী, মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের প্রতি বিজেপির কৌশলগত দৃষ্টি, এই সভাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০ ডিসেম্বরের সভা যে এই ভোটযুদ্ধের প্রথম বড় দমকা হাওয়া হতে চলেছে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও সন্দেহ নেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya | মন্দারমণির অবৈধ রিসোর্ট থেকে রাজবংশী-কামতাপুরি ভাষা স্বীকৃতি : রাজ্যসভায় দ্বিমুখী ইস্যুতে সরব শমীক ভট্টাচার্য




