পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ভারত-ইংল্যান্ড পঞ্চম টেস্ট শুরুর আগে ওভালের পিচ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এখনও ক্রিকেটমহলে আলোচনার কেন্দ্রে। ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও পিচ প্রস্তুতকারক লি ফর্টিস (Lee Fortis)-এর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা নিয়ে এবার মুখ খুললেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ওপেনার ম্যাথু হেডেন (Matthew Hayden)। হেডেনের মতে, গম্ভীর নিজের দলের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় কোনও ভুল নেই, তবে তাঁর ভাষা ও বলার ভঙ্গি আরও ভদ্র হতে পারত। হেডেন একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “পিচের ব্যাপারে পিচ প্রস্তুতকারকেরা সবসময়ই সতর্ক থাকেন। ইংল্যান্ডে এই বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। শেষ টেস্টের আগে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন, ইংল্যান্ডের হাতে সিরিজ জেতার সুযোগ ছিল। তাই ওরা চেষ্টা করেছিল ভারতকে কিছুটা চাপে রাখতে। এজন্য ভারতীয় কোচদের পিচ ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে দেওয়া হচ্ছিল না। গম্ভীর নিজের কথা বলেছেন, তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু গলার স্বর যদি একটু নিচু হত, ভাষা আরও ভদ্র হত, তাহলে এই বিতর্ক তৈরি হত না।”

ঘটনার সূত্রপাত হয় ওভালে প্রথম দিনের অনুশীলনে। অভিযোগ, গম্ভীর আঙুল তুলে এগিয়ে গিয়ে ফর্টিসকে বলেন, “তুমি এখানে একজন মাঠকর্মী মাত্র। যেখানে খুশি গিয়ে রিপোর্ট করো। তুমি মাঠকর্মী ছাড়া কিছু নও।” এমনকী নাকি পরবর্তীতে গালিগালাজও করেন। কাছেই থাকা ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক (Sitanshu Kotak) দ্রুত হস্তক্ষেপ করে গম্ভীরকে সরিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন ও ফর্টিসের সঙ্গে কথা বলেন। কোটাক ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানান, “আমরা মাঠে আইস বক্স রাখছিলাম, তখন ফর্টিস আমাদের সাপোর্ট স্টাফদের উপর চিৎকার করেন। গম্ভীরের সেটা ভাল লাগেনি, তাই আপত্তি জানান। এখান থেকেই প্রথম উত্তেজনা তৈরি হয়। আসলে ওভালের পিচ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কথা বলা কঠিন, এটা সবাই জানে। তবে আমরা সরকারি কোনও অভিযোগ করিনি।”
তিনি আরও জানান, ফর্টিস নাকি গম্ভীর ও তাঁকে পিচের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। “আমরা জগার্স পরে ছিলাম, রবারের স্পাইক ছাড়া পিচের কাছে যাওয়া যায়। আমরা কোনও ক্ষতি করিনি, শুধু দেখছিলাম। ওর বক্তব্য আমাদের কাছে অদ্ভুত লেগেছে। মনে হচ্ছিল আমরা যেন কোনো মূল্যবান জিনিস স্পর্শ করতে যাচ্ছি,” বলেন কোটাক।ফর্টিস অবশ্য বিষয়টিকে প্রথমে হালকাভাবে নেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি কিছু বলতে চাই না। সামনেই বড় ম্যাচ। খুশি বা অখুশি হওয়ার ব্যাপারটা আমার কাজ নয়। প্রথমবার ওঁর সঙ্গে দেখা হল, সবাই দেখেছেন উনি কেমন আচরণ করেছেন। আমি ঠিক আছি, লুকোনোর কিছু নেই। অভদ্রতা করতে চাইনি।”
কিন্তু, ওভাল টেস্ট শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ফর্টিস জানান, “আমি খলনায়ক ছিলাম না, আমাকে খলনায়ক বানানো হয়েছিল। আমি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করছিলাম।” একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁর তৈরি পিচেই সিরিজের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হয়েছে, যেখানে ভারত জয় ছিনিয়ে সিরিজ ড্র করে। “আশা করি সবাই ওভালের সুন্দর পরিবেশে টেস্টটা উপভোগ করেছেন। পুরোটা ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা, যেন আইপিএলের মতো। খুব ভাল ম্যাচ হয়েছে,” মন্তব্য ফর্টিসের।
এদিকে গম্ভীরের আচরণ নিয়ে হেডেনের মন্তব্য বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে-কোনও পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ও ভদ্র আচরণই হওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানো যায়। যদিও গম্ভীর বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ওভাল টেস্ট মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নাটকীয়তাতেও ভরপুর ছিল। পিচ, প্রস্তুতি, ও দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা সব মিলিয়ে এই ঘটনা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে বেশ কিছুদিন। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটই জয়ী হয়েছে, কারণ উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে খেলার মান ও প্রতিযোগিতার আবহ ছিল সর্বোচ্চ স্তরে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gautam Gambhir Coaching Controversy | রোহিত ও কোহলিকে ফেরানোর কৌশল, ইংল্যান্ড টেস্টে ব্যর্থতার জন্য দায়ী গম্ভীর? প্রশ্ন চিহ্নের সামনে বিসিসিআই কর্তারা!




