Marriage in Nephew | কাকীমার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে করল ভাইপো, সামনে স্বামী-সন্তান, ভাইরাল বিয়ের ভিডিও ঘিরে তোলপাড় জামুই

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ জামুই, বিহার : স্বামী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সামনে শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়কে বিয়ে করলেন একজন তরুণী। বিহারের (Bihar) জামুই (Jamui) জেলার শিখেরিয়া (Shikheria) গ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ওই আত্মীয় মহিলার স্বামীর ভাইপো। ভাইপোকে বিয়ে করা, সেটাও আবার স্বামী ও মেয়ের উপস্থিতিতে এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক, কৌতূহল ও মন্তব্যের ঝড়। (যদিও সাশ্রয় নিউজ সেই ভিডিও-এর সত্যতা যাচাই করেনি।)

Read : Kaviya-Anirudh Marriage Gossip | কাব্য-অনিরুদ্ধ: সম্পর্কের গুঞ্জনে তোলপাড় বিনোদনমহল, বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন সুরকার

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তরুণীর নাম আয়ুশী কুমারী (Ayushi Kumari)। ২০২১ সালে তাঁর বিয়ে হয়েছিল একই গ্রামের বাসিন্দা বিশাল দুবে (Vishal Dubey)-র সঙ্গে। তাঁদের সংসারে রয়েছে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তানও। প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের রং বদলাতে থাকে। শ্বশুরবাড়ির এক দূরসম্পর্কের আত্মীয় সচিন দুবের (Sachin Dubey) সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে আয়ুশীর। সচিন সম্পর্কে আয়ুশীর দেওরের ছেলে। অর্থাৎ ভাইপো। জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কথাবার্তা শুরু হওয়া এই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে গড়ায় প্রেমে। শেষমেশ পরিণতি পায় বিয়েতে। চলতিমাসের গত ১৫ জুন আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান আয়ুশী। স্বামী বিশাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, স্ত্রী উধাও। ততদিনে সচিনের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন আয়ুশী। পরে জানা যায়, আদালতে গিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন তিনি। নিজের মেয়েকেও কাছে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আয়ুশী। এই অবস্থাতেই ২০ জুন গ্রামের এক মন্দিরে আয়োজিত হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। যেখানে কনেপক্ষ এবং পাত্রপক্ষ উভয় পরিবারের সম্মতিতেই আয়ুশী ও সচিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হওয়া মাত্রই তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হয় ভিডিওটি। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কাকার সামনেই কাকিমার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন ভাইপো সচিন। পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন আয়ুশীর স্বামী ও মেয়ে। এক অন্যরকম বাস্তবচিত্র, যেখানে পুরনো সম্পর্কের ছায়া গায়ে মেখেই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

Read : Musical Village of Mali | মালির কিরিনার ঘরে ঘরে সঙ্গীতের জন্ম, একটি সুরে বাঁধা গ্রাম

সচিন জানালেন, ‘‘আমরা প্রায় দু’বছর ধরে একে অপরকে ভালবাসি। এবার সেই সম্পর্ককে নাম দেওয়ার সময় এসেছিল। আমি চাই ও সারাজীবন সুখে থাকুক।’’ যদিও এই ‘সুখে থাকা’র স্বপ্নের মধ্যে থেকে মুখ বের করে তাকাচ্ছে কিছু কঠিন বাস্তব। আয়ুশীর স্বামী বিশাল এই বিয়েতে আপত্তি না জানালেও, তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে ক্ষোভ ও অভিমান। তাঁর কথায়, ‘‘ও যদি এতে খুশি হয়, আমি বাধা দেব না। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেগুলো মিথ্যে। ও আমার মাকে এবং মেয়েকেও সম্মান করত না।’’ এই ঘটনার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে নানা মতামতের ঝড়। কেউ একে বলছেন ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চূড়ান্ত রূপ’, তো কেউ আবার সামাজিক কাঠামোর ভাঙনের উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘‘মিঞা-বিবি রাজি যখন, তাহলে আর কে কী করবে? আইনেও বাধা নেই।’’ আর একজনের মন্তব্য, ‘‘সামাজিক মূল্যবোধগুলো কি তাহলে এইভাবেই ধুলায় মিশে যাবে?’’ অন্যদিকে, বিষয়টি যেমন একদিকে ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তেমনই তুলে ধরে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা। এক নারী নিজের ইচ্ছেমত বিয়ে করছেন, পুরনো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসছেন। একে কেউ কেউ আধুনিক চিন্তার প্রতিফলন বলছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের অভিঘাত শিশুকন্যার জীবনে ঠিক কী রকম হবে, সে উত্তর সময়ই দেবে। জামুইয়ের শিখেরিয়া গ্রামের এই ঘটনা আমাদের বুঝিয়ে দেয়, সামাজিক সম্পর্কের ব্যাকরণ আজ শুধুই নিয়মের মধ্যেই আবদ্ধ নেই। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ভালবাসা, বিশ্বাস আর স্বাবলম্বী সিদ্ধান্ত, এই চারটি স্তম্ভকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে এক নতুন বাস্তবতা। তা যতই বিতর্কের জন্ম দিক না কেন, আজকের দিনে সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে সবাই বাধ্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Marriage in Ancient Egypt : প্রাচীন মিশরে বিবাহের রীতি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন