সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের সেনা ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় রচনা করলেন লেফটেন্যান্ট পারুল ধদওয়াল (Lt Parul Dhadwal)। দেশের সেনা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি শুধু সেনায় যোগই দেননি, বরং নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছেন প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল (President’s Gold Medal)। এই পদক পেয়েছেন অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি (OTA), চেন্নাই থেকে সেরা কৃতিত্বের জন্য। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন পান এবং ভারতীয় সেনার অর্ডন্যান্স কোরে (Indian Army Ordnance Corps) যোগ দেন। পারুল ধদওয়ালই প্রথম নারী অফিসার তিনি পাঁচ প্রজন্ম ধরে সেনাবাহিনীতে সেবা দেওয়া পরিবার থেকে উঠে এসে সেনায় নাম লেখালেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি পরিবার বা অঞ্চলের নয়, বরং গোটা দেশের গর্ব। হোশিয়ারপুর জেলার (Hoshiarpur District) জণৌরি (Janauri) গ্রামের মেয়ে তিনি, যে গ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই সেনা ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ।
পারুলের পরিবারের সেনা ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল তাঁর প্রপিতামহ সুবেদার হরনাম সিংহ (Subedar Harnam Singh)-এর হাত ধরে। তিনি ৭৪ পাঞ্জাবিস (74 Punjabis) রেজিমেন্টে ১ জানুয়ারি ১৮৯৬ থেকে ১৬ জুলাই ১৯২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তাঁর পিতামহ মেজর এল. এস. ধদওয়াল (Major L. S. Dhadwal) ৩ জাট (3 JAT) রেজিমেন্টে সেবা দেন। তৃতীয় প্রজন্মে কর্নেল দিলজিৎ সিং ধদওয়াল (Colonel Daljit Singh Dhadwal), ৭ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর রাইফেলস (7 Jammu & Kashmir Rifles) এবং ব্রিগেডিয়ার জগত জামওয়াল (Brigadier Jagat Jamwal), ৩ কুমাওন (3 KUMAON)-এ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
পারুলের বাবা মেজর জেনারেল কে. এস. ধদওয়াল (Major General K. S. Dhadwal), সেনা মেডেল (SM) ও বিশিষ্ট সেবা পদক (Vishisht Seva Medal) প্রাপক। তাঁর ভাই ক্যাপ্টেন ধনঞ্জয় ধদওয়াল (Captain Dhananjay Dhadwal) বর্তমানে ২০ শিখ (20 SIKH) রেজিমেন্টে কর্মরত। এক পরিবারের দুই প্রজন্মে বর্তমানে তিনজন অফিসার সেনায় সক্রিয়ভাবে কর্মরত, যা ভারতীয় সেনার ইতিহাসে খুবই বিরল ঘটনা।
এই প্রেক্ষাপটে লেফটেন্যান্ট পারুল ধদওয়ালের নাম নিঃসন্দেহে ভারতীয় তরুণ সমাজের কাছে প্রেরণা হয়ে উঠবে। তাঁর এই কৃতিত্ব নিয়ে গর্বিত পুরো সেনা পরিবার। ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর মতো অফিসাররা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে সেনায় যোগ দিতে। নিজের সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় পারুল জানান, “আমি ছোটবেলা থেকেই সেনা পরিবারের পরিবেশে বড় হয়েছি। সেনা পোশাক, দায়িত্ববোধ আর দেশের জন্য আত্মত্যাগ আমার ভেতরে এক অদম্য টান তৈরি করেছিল। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।” তাঁর বাবার কথায়, “পারুল আজ শুধু আমাদের পরিবারের গর্ব নয়, গোটা জাতির গর্ব। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে দায়িত্ব বহন করে আসছি, পারুল সেই উত্তরাধিকারকে আরও উজ্জ্বল করল।”
ভারতের মতো দেশে যেখানে নারী অফিসারদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে পারুলের এই সাফল্য ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। পাঁচ প্রজন্ম ধরে সেনায় সেবা দেওয়া একটি পরিবারে থেকে প্রথম নারী সদস্য হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগদান সত্যিই নজিরবিহীন। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মিলছে, সাহস, যোগ্যতা আর দৃঢ়তা থাকলে মেয়েরাও সেনা নেতৃত্বে দাপট দেখাতে সক্ষম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী কেবল একটি চাকরি নয়, এটি দায়িত্ব ও সম্মানের জায়গা। পারুল ধদওয়ালের এই অর্জন সমাজকে নতুন দিশা দেখাবে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে সেনা ঐতিহ্য শুধু পুরুষের জন্য নয়, নারীরাও সমানভাবে তা বহন করতে সক্ষম।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতীয় সেনায় আজ নারী অফিসারদের সংখ্যা ও ভূমিকা দুই-ই ক্রমশ বাড়ছে। কর্পস অব মিলিটারি পুলিশ (Corps of Military Police) থেকে শুরু করে অর্ডন্যান্স কোর পর্যন্ত, নারীরা এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। লেফটেন্যান্ট পারুল ধদওয়ালের সাফল্য এই যাত্রায় এক মাইলফলক।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Megan McArthur retirement, NASA astronaut Megan McArthur | মহাকাশ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়: স্পেসএক্স ড্রাগন-এর প্রথম নারী পাইলট মেগান ম্যাকআর্থার অবসর নিলেন নাসা থেকে




